মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া

বাণী

মাকে আমার এলাম ছেড়ে মা অভয়া, মাকে দেখো।
মোর তরে মা কাঁদে যদি তুমি তাকে ভুলিয়ে রেখো।।
	মায়ের যে বুক শূন্য ক’রে 
	এলাম আমি দেশান্তরে
শূন্য করে সেই খালি বুক মহামায়া তুমি থেকো।।

নাটিকাঃ ‘শ্রীমন্ত’

দূর দ্বীপবাসিনী

বাণী

দূর দ্বীপ–বাসিনী, চিনি তোমারে চিনি।
দারুচিনির দেশের তুমি বিদেশিনীগো, সুমন্দভাষিণী।।
	প্রশান্ত সাগরে
	তুফানে ও ঝড়ে
শুনেছি তোমারি অশান্ত রাগিণী।।
বাজাও কি বুনো সুর পাহাড়ি বাঁ‍শিতে?
বনান্ত ছেয়ে যায় বাসন্তী–হাসিতে।
	তব কবরী–মূলে
	নব এলাচীর ফুল দুলে
		কুসুম–বিলাসিনী।।

ভিখারির সাজে কে এলে

বাণী

	ভিখারির সাজে কে এলে।
	তৃতীয় প্রহর নিশি নিঝ্ঝুম দশ দিশি —
	আমার ঘুমের দুয়ার ঠেলে কে এলে কে এলে।।
	সুন্দর হাতে কেন ভিক্ষার ঝুলি
	চাঁদের অঙ্গে কেন পথের ধূলি?
	আমার কবরীর যূ’ই ফুলগুলি —
তব	চরণের পানে আছে আঁখি মেলি’।
	বনভূমি কাঁদে ঝরা-ফুল-পল্লব ছড়ায়ে,
	হে তরুণ সন্ন্যাসী! বসন্ত কাঁদে তব দুই কর জড়ায়ে।
	ওগো উদাসীন! কোন্ নিষ্ঠুর সাধে
	বিভূতি মাখায়ে হায়! চৈতালী চাঁদে।
	আমার এখন ফাগুন-নিশীথে ধুতুরা-আসব কেন দিলে ঢেলে।।

পুষ্পধনুর ইঙ্গিতে হায় হারানো

বাণী

পুষ্পধনুর ইঙ্গিতে হায় হারানো হিয়ার বনে,
মন দেয়া-নেয়া খেলা চলে নিরজনে।
মায়া-মৃগ যেন রচিত ছলনার কায়া,
বাঁধা পড়িল নিজে? একি রে প্রেমের মায়া।।
দু’জনে রচিত মিলন-স্বর্গ ধূলিতলে রমণীয়,
দু’জনের কাছে বন্দী দু’জনে প্রিয়তমা আর প্রিয়।
আঁখির মিলনে সারা দিন-যামী ক্লান্ত না হয় আঁখি,
আঁখির কুলায় চলে গো আঁখির পাখি।
দু’জনে কুজনে একটি গানের কলি,
অনাহত সুরে বারে বারে যায় বলি’।।

মিশ্র সুর

যায় ঝিলমিল্ ঝিলমিল্ ঢেউ তুলে

বাণী

যায়	ঝিল্‌মিল্ ঝিল্‌মিল্ ঢেউ তুলে দেহের কূলে
	কে চঞ্চলা দিগঞ্চলা মেঘ-ঘন-কুন্তলা।
	দেয় দোলা পুব-সমীরণে বনে বনে দেয় দোলা।।
	চলে নাগরি দোলে ঘাগরি
	কাঁখে বরষা-জলের গাগরি
	বাজে নূপুর-সুর-লহরি
	রিমি ঝিম্‌, রিম ঝিম্, রিম ঝিম্‌ চল-চপলা।।
	দেয়ারই তালে কেয়া কদম নাচে
	ময়ূর-ময়ূরী নাচে তমাল-গাছে।
	এলায়ে মেঘ-বেণী কাল-ফণি
	আসিল কি দেব-কুমারী নন্দন-পথ-ভোলা।।

প্রদীপ নিভায়ে দাও উঠিয়াছে চাঁদ

বাণী

প্রদীপ নিভায়ে দাও, উঠিয়াছে চাঁদ।
বাহুর ডোর আছে, মালায় কি সাধ।।
ফুল আনিও না ভবনে
কেশের সুবাস তব ঘনাক মনে,
হৃদয়ের লাগি মোর হৃদয় কাঁদে চন্দন লাগে বিস্বাদ।।
খোলো গুণ্ঠন, ফেলে দাও আভরণ,
হাতে রাখ হাত, তোলো আনত নয়ন।
বাহিরে বহুক বাতাস
বক্ষে লাগুক মোর তব ঘন শ্বাস,
চম্পার ডালে ব’সে মোদেরে দেখে,
কুহু আর পাপিয়ায় করুক বিবাদ।।

১. বাহু-বন্ধন