কবে সে মদিনার পথে

বাণী

কবে সে মদিনার পথে, গিয়াছে সুজন।
বহায়ে নয়ন বারি, ভিজিল বসন।।
	রমজানের ঐ চাঁদ নবী,
	পাঠাইলেন নূরের খুবী,
পাগল করে আমার হিয়া করেছে হরণ।।
	পশুপাখি তরুলতা,
	তারা শুধায় পারের কথা,
আমি একলা বসে ভাবছি হেথা নবীজীর কারণ।।
	বেড়াই আমি পথে পথে,
	খুঁজে না পাই মদিনাতে,
কোথায় গেলেন পাক মোস্তফা অমূল্য রতন।।

[দুখুমিয়ার লেটোগান, সংগ্রহ ও সম্পাদনা : মুহম্মদ আয়ুব হোসেন, বিশ্বকোষ পরিষদ, কলকাতা, ২০০৩]

রেকর্ড

কবে সে মদিনা পথে গিয়াছে সুজন।
বহায়ে নয়ন-বারি (আমার) ভিজায়ে বদন।।
	রমজানের চাঁদে নবী, 
	পাঠায় সদা নূরের ছবি, 
পাগল করে আমার মন করেছে হরণ।।
	পশুপাখি তরুলতা, 
	তাদের শুধাই পথের কথা, 
কেমনে পাবো সে চাঁদে জীবন-শরণ।।
	খুঁজে সে মদিনা-নাথে, 
	কেঁদে ফিরি পথে পথে, 
কোথা গেলে পাবো আমি ও রাঙা চরণ।।

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে

বাণী

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে গো
ঐ নাম ধরে গো, উঠব মোরা ব্রজধামের পথে।।
ঐ নামেরই মন্ত্র গুণে
পথের মানুষ গোঠের বেণু শোনে গো
ভুলের কূলে কূলে খেলে যে সে ওঠে ফুলের রথে।।
ঐ নাম পেল যে, সুমুখে তার শ্যাম গো
দেখা দেবার তরে নিতুই ঘোরে অবিরাম গো।
ঐ কৃষ্ণ নামের টানে
ধীরে ধীরে প্রেম যমুনা আনে।
ঐ নামের গুণে গঙ্গাধারা নামে হিমগিরি হতে।।

বন্ধু পথ চেয়ে চেয়ে

বাণী

বন্ধু	পথ চেয়ে চেয়ে
	আকাশের তারা পৃথিবীর ফুল গণি
বন্ধু	ফুল পড়ে ঝরে,তারা যায় মরে
	(ফিরে) এলো না হৃদয়-মণি।।
	কত নদী পেল খুঁজিয়া সাগর
	আমিই পাই না তোমার খবর
বন্ধু	সকলেরি চাঁদ ওঠে রে আমারি চির আঁধার রজনী।।
		যমুনার জলও শুকায় রে বন্ধু
		আমার শুকায় না আঁখি-বারি
	এত কান্দন কাঁদিলে গোকূলে হতাম-ব্রজ-কুমারী
		বন্ধু হতাম রাধা প্যারী।
	মহা পারাবার তারও আছে পার
	আমার দুখের পার নাহি আর
বন্ধু	মণি না পাইনু বৃথায় পুষিনু কাল-বিরহের ফণি
		পুষিনু কাল-বিরহের ফণি।।

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে

বাণী

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে।
অনুরাগে-রাঙা গোরীর বিধু-বদনে॥
ফাগের লালী আনিল কে,
কাজল-কালো চোখে
কামনা-আবির ঝরে রাঙা নয়নে॥
অশোক রঙন ফুলের আভা জাগে ডালিম-ফুলী গালে,
নাচিছে হৃদয় আজি রসিয়ার নাচের তালে।
তাম্বুলীরাঙা ঠোঁটে ফাগুনের ভাষা ফোটে,
(তার) প্রাণের খুশির রং লেগেছে রাঙা বসনে॥

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা

বাণী

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে।
আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে
ঘনিমা ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে —
ডাহুকীরে খুঁজি’ ডাহুক কাঁদে আঁধার-গহনে।।
কেয়া-বনে দেয়া তুণীর বাঁধিয়া,
গগনে গগনে ফেরে গো কাঁদিয়া।
বেতস-বিতানে নীপ-তরুতলে
শিখী নাচ ভোলে পুছ-পাখা টলে,
মালতী-লতায় এলাইয়া বেণী কাঁদে বিষাদিনী রে —
কাজল-আঁখি কে নয়ন মোছে তমাল-কাননে।।

নাটক : ‘ঝিলিমিলি’

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী

বাণী

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী!
ঢল ঢল নয়নে রস-ঘন মিনতি।।
রুমুঝুমু ঘুমুরে ঘুমুঘুমু বিবশা
নিথর বসুমতী, নিশিমদ-অলসা,
মুরছিত চরণে শত মদন রতি।।
রস-ছলছল গো তব মধু কলসে
ঝরঝর ঝরনা অনুখন বরষে,
অরুণিত নয়না মধুর রসবতী।।

১. বধুরম মধুরম মধুর রসবতী।।