গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল

বাণী

গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল
অপরূপ ঘনশ্যাম নব তরুণ তমাল॥
বিশাখার পটে আঁকা মধুর নিরুপম
কান্ত ললিতার শ্রীরাধা প্রীতম
রুক্মিণী-পতি হরি যাদব ভূপাল॥
যশোদার স্নেহডোরে বাঁধা ননীচোর
নন্দের নয়ন-আনন্দ-কিশোর
শ্রীদাম-সুদাম-সখা গোঠের রাখাল॥
কংস-নিসূদন কৃষ্ণ মথুরাপতি
গীতা উদ্‌গাতা পার্থসারথি
পূর্ণ ভগবান বিরাট বিশাল॥

ঠাকুর তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল

বাণী

ঠাকুর! তেমনি আমি বাঘা তেঁতুল (তুমি) যেমন বুনো ওল।
তোমার কুলের কথা (গোকুলের কথা) রটিয়ে দোবো
বাজিয়ে ঢাক ঢোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
কেঁদে হেঁই হেঁই যে করে, তার তরে তোমার প্রেম নেই,
তুমি আয়ান ঘোষকে দেখা দিলে দেখলে লাঠি যেই।
সেদিনও নদীয়াতে কল্‌সি কানার এক ঘায়েতে
পাপ নিয়ে জগাই মাধাই-এ দিলে তুমি কোল, বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ঐ অগ্রদ্বীপে ভোগ দিল না গোবিন্দ ঘোষ,
তারে বাবা ব’লে করলে আপোষ;
বাগবাজারে ধমক খেয়ে
সাজ্‌লে তামাক মদ্‌না হয়ে
বদ্‌লে ফেলে ভোল, ঠাকুর বাজিয়ে শ্রীখোল।।
ভালো চাও ত’ শুনিয়ো নূপুর, রাত্রি দুপুর কালে,
মন্দিরে মোর নেই অধিকার এসো ঘরের চালে –
আমার ভাঙা কুঁড়ের চালে।
জান আমি ভীষণ গোঁয়ার, ধার ধারি না ভক্তি ধোঁয়ার
ধরব যেদিন বুঝবে ইয়ে,
চাঁচর কেশ মুড়িয়ে ঢাল্‌ব মাথায় ঘোল।।

তব চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে

বাণী

তব	চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে।
	হেরি মোরা অবিরল জলে ভাসে কমল
	হেরি আজি কমলে উথলে জল হে।।
	চিরদিন কাঁদায়েছে যে জল নিঠুর
আজি	অশ্রু করেছে তারে একি সুমধুর
বঁধু	সাধ যায় ধরি তব সমুখে মুকুর
যেন	বরষিছে চাঁদ মুকুতাদল হে।
কোন	অকরুণা ভাঙিল হে পাষাণের বাঁধ
তব	কলঙ্ক লেখা গেল ধুয়ে যে হে চাঁদ।
	কাঁদ কাঁদ হে বঁধু তবে বুঝিবে মনে
কত	বেদনা পেলে জল ঝরে নয়নে
আজি	কাঁদিয়া শ্যামল হ'লে নির্মল হে।।

লায়লী লায়লী ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর

বাণী

লায়লী! লায়লী! ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর এ মিনতি।
লায়লী কোথায়? আমি শুধু দেখি লা এলা'র জ্যোতি।।
পাথর খুঁজিয়া ফিরিয়াছি প্রিয়া প্রেম-দরিয়ার কূলে,
খোদার প্রেমের পরশ-মানিক পেলাম কখন ভুলে।
	সে মানিক যদি দেখ একবার
	মজনুরে তুমি চাহিবে না আর
জুলেখা-ইয়ুসুফ লাজ মানে হেরি' তাহার খুব -সুরতি।।
মজনুরে ও যে লায়লী ভোলায় সে যে কত সুন্দর
বুঝিবে লায়লী যদি তুমি তারে নেহার এক নজর।
	সাধ মিটিবে না হেথা ভালোবেসে,
	চল চল প্রিয়া লা এলা'র দেশে
নিত্য মিলনে ভুলিব আমরা এই বিরহের ক্ষতি।।

ঈদ মোবারক হো

বাণী

ঈদ মোবারক হো —
ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ, ঈদ মোবারক হো —
রাহেলিল্লাহ্‌কে আপনাকে বিলিয়ে দিল, কে হলো শহীদ।।
যে	কোরবানি আজ দিল খোদায় দৌলৎ ও হাশমত্‌,
যার	নিজের ব’লে রইলো শুধু আল্লা ও হজরত,
যে	রিক্ত হয়ে পেল আজি অমৃত-তৌহিদ।।
যে	খোদার রাহে ছেড়ে দিল পুত্র ও কন্যায়
যে	আমি নয়, আমিনা ব’লে মিশলো আমিনায়।
ওরে	তারি কোলে আসার লাগি’ নাই নবীজীর নিদ।।
যে	আপন পুত্র আল্লারে দেয় শহীদ হওয়ার তরে
	ক্বাবাতে সে যায় না রে ভাই নিজেই ক্বাবা গড়ে
সে	যেখানে যায় – জাগে সেথা ক্বাবার উম্মিদ।।

আজি এ শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

আজি এ শ্রাবণ-নিশি		কাটে কেমনে।
গুরু দেয়া গরজন			কাঁপে হিয়া ঘনঘন
শনশন কাঁদে বায়ু			নীপ-কাননে।।
অন্ধ নিশীথ, মন			খোঁজে কারে আঁধারে,
অন্ধ নয়ন ঝরে			শাওন-বারিধারে।
ভাঙিয়া দুয়ার মম			এসো এসো প্রিয়তম,
শ্বসিছে বাহির ঘর			ভেজা পবনে।।
কার চোখে এত জল		ঝরে দিক্‌ প্লাবিয়া,
সহিতে না পারি’ কাঁদে		‘চোখ গেল’ পাপিয়া।
কাহার কাজল-আঁখি		চাহি’ মোর নয়নে
ঝুরেছিল একা রাতে		কবে কোন্‌ শাওনে,
আজি এ বাদল ঝড়ে		সেই আঁখি মনে পড়ে,
বিজলি খুঁজিছে তারে		নভ-আঙনে।।