আমি কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে

বাণী

আমি	কুল ছেড়ে চলিলাম ভেসে বলিস ননদীরে সই, বলিস ননদীরে।
	শ্রীকৃষ্ণ নামের তরণীতে প্রেম-যমুনার তীরে বলিস ননদীরে
				সই, বলিস্‌ ননদীরে।।
	সংসারে মোর মন ছিল না, তবু মানের দায়ে
আমি	ঘর করেছি সংসারেরি শিকল বেঁধে পায়ে
	শিক্‌লি-কাটা পাখি কি আর পিঞ্জরে সই ফিরে।।
	বলিস গিয়ে কৃষ্ণ নামের কলসি বেঁধে গলে
	হডুবেছে রাই কলঙ্কিনী কালিদহের জলে।
	কলঙ্কেরই পাল তুলে সই, চললেম অকূল-পানে
	নদী কি সই, থাকতে পারে সাগর যখন টানে।
	রেখে গেলাম এই গোকুলে কুলের বৌ-ঝিরে।।

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা

বাণী

শ্মশানে জাগিছে শ্যামা
	অন্তিমে সন্তানে নিতে কোলে
জননী শান্তিময়ী বসিয়া আছে ঐ
	চিতার আগুণ ঢেকে স্নেহ–আঁচলে।
সন্তানে দিতে কোল ছাড়ি’ সুখ কৈলাস
বরাভয় রূপে মা শ্মশানে করেন বাস,
কি ভয় শ্মশানে শান্তিতে যেখানে
	ঘুমাবি জননীর চরণ–তলে।।
জ্বলিয়া মরিলি কে সংসার জ্বালায়
তাহারে ডাকিছে মা ‘কোলে আয়, কোলে আয়’
জীবনে শ্রান্ত ওরে ঘুম পাড়াইতে তোরে
	কোলে তুলে নেয় মা মরণেরি ছলে।।

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে

বাণী

হোরির রঙ লাগে আজি গোপিনীর তনু মনে।
অনুরাগে-রাঙা গোরীর বিধু-বদনে॥
ফাগের লালী আনিল কে,
কাজল-কালো চোখে
কামনা-আবির ঝরে রাঙা নয়নে॥
অশোক রঙন ফুলের আভা জাগে ডালিম-ফুলী গালে,
নাচিছে হৃদয় আজি রসিয়ার নাচের তালে।
তাম্বুলীরাঙা ঠোঁটে ফাগুনের ভাষা ফোটে,
(তার) প্রাণের খুশির রং লেগেছে রাঙা বসনে॥

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

বাণী

কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
	কমলা গোলোকে
	গোপিনী ভুলোকে,
সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
	শ্যাম ভুবন কালো
	রাই অরুণ আলো,
হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
	ব্রজধাম বাসিনী
	লীলা বিলাসিনী,
শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
	শ্যাম মেঘ গলে
	রাই বিজলি দোলে,
শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
	লয়ে যাঁহার নাম
	হরি হন রাধা শ্যাম,
সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা তোমারি জয়

বাণী

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা, তোমারি জয় তোমারি জয়।
ভালোবাস যারে কাঁদাও তাহারে ছলানাময়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তুমি কাঁদায়েছ বসুদেব দেবকীরে,
নন্দ যশোদা ব্রজের গোপীরে,
কাঁদাইলে তুমি শত শ্রীমতীরে হে নিরদয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তোমারে চাহিয়া কোটি নয়নে বিরহ অশ্রু ঝুরে,
ধরণী যে আজ ডুবু ডুবু শ্যাম সাগর সলিলে পুরে।
ভক্তে কাঁদাতে হে ব্যথা বিলাসী
যুগে যুগে আসি’ বাজাইলে বাঁশি
তবুও এ-প্রাণ তোমারি পিয়াসি মানে না ভয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়।

বৈতালিক

ওগো বৈশাখী ঝড় ল’য়ে যাও

বাণী

ওগো বৈশাখী ঝড়! ল’য়ে যাও অবেলায় ঝরা এ মুকুল।
ল’য়ে যাও বিফল এ জীবন — এই পায়ে দলা ফুল।।
	ওগো নদীজল লহো আমারে
	বিরহের সেই মহা-পাথারে,
চাঁদের পানে চাহে যে পারাবারে — অনন্তকাল কাঁদে বিরহ-ব্যাকুল।।