হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর

বাণী

হে চির সুন্দর, বিশ্ব চরাচর তোমারি মনোহর রূপের ছায়া।
রবি শশী তারকায় তোমারি জ্যোতি ভায় রূপে রূপে তব অরূপ কায়া।।
	দেহের সুবাস তব কুসুম-গন্ধে,
	তোমার হাসি হেরি শিশুর আনন্দে।
জননীর রূপে তুমি আমাদেরে যাও চুমি’, তব স্নেহ-প্রেমরূপ — কন্যা জায়া।।
হে বিরাট শিশু! এ যে তব খেলনা
নিতি নব, ভাঙা গড়া দুখ শোক বেদনা।
	শ্যামল পল্লবে সাগর-তরঙ্গে
	তব রূপ লাবনি দুলে ওঠে রঙ্গে,
বিহগের কণ্ঠে তব মধু কাকলি, মায়াময়। শতরূপে বিছাও মায়া।।

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো

বাণী

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে।
কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি ললিতে।। 
নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে
			গোপন কথা বলিতে।।
দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন,
অন্ধ তিমির রাতি, নিভু নিভু নয়ন;
মরণ বেলায় প্রিয় আনিলে কি অমিয়,
এলে কি গো নিঠুর ঝরা ফুল দলিতে।।

নয়নে ঘনাও মেঘ মালবিকা

বাণী

নয়নে ঘনাও মেঘ, মালবিকা!
গগনে জাগাও তব নীরদ-লিখা।।
বিদ্যুৎ হানে যদি গরজায় বাজ
সুন্দর মৃত্যুরে নাহি ভয় আজ,
আমার এ বনে এসো মনোবালিকা।।
ঝরুক এ শিরে মোর ঘন বরষা
ফুটিবে কাননে ফুল আছে ভরসা,
এসো জল-ছল-ছল পথে অভিসারিকা।।

কে এলো ডাকে চোখ গেল

বাণী

কে এলো।
ডাকে চোখ গেল।।
ওলো ও-ডাকে কি ও
ঘুমের সতিনী ও,
ও যে চোখের বালি
ঘুম ভাঙায় খালি।।
সখি আঁখি মেল —
মেল আঁখি মেল।।

দাও শৌর্য দাও ধৈর্য্য

বাণী

দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য্য, হে উদার নাথ,
			দাও প্রাণ।
দাও অমৃত মৃত জনে,
দাও ভীত –চিত জনে, শক্তি অপরিমাণ।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও স্বাস্থ্য, দাও আয়ু,
স্বচ্ছ আলো, মুক্ত বায়ু,
দাও চিত্ত অ–নিরুদ্ধ, দাও শুদ্ধ জ্ঞান।
			হে সর্বশক্তিমান।।
দাও দেহে দিব্য কান্তি,
দাও গেহে নিত্য শান্তি,
দাও পুণ্য প্রেম ভক্তি, মঙ্গল কল্যাণ।
ভীতি নিষেধের ঊর্ধে স্থির,
রহি যেন চির — উন্নত শির
যাহা চাই যেন জয় করে পাই, গ্রহণ না করি দান।
			হে সর্বশক্তিমান।।

এমনি মধুর ক্ষণে প্রিয়তম নাহি

বাণী

এমনি মধুর ক্ষণে প্রিয়তম নাহি পাশে।
আকুল পরান মম চম্পা-ফুল-সুবাসে।।
উতলা সমীরে বাজে ব্যাকুল বাঁশি
কাননে উছলি’ পড়ে সুরের রাশি,
আলোকে সুরভি তারি গগন ভরিয়া হাসে।।
বাতায়নে মোর নিশীথের তারা সুধায় নীরবে ডাকি,
‘হায় গো উদাসী এমন নিশায় সজল কেন গো আঁখি।’
	সুদূরে রহিল বঁধু একেলা আমি
	অসহ বিরহ সহি দিবসযামী,
আশার মালিকা রচি’, বসিয়া তাহারি আশে।।