অমন করে হাসিস্‌নে আর রাই লো

বাণী

অমন করে হাসিস্‌নে আর রাই লো।
তুই পোড়ার মুখে হাসিস্‌নে আর রাই লো।।
ছি ছি রঙ্গ করিস অঙ্গে মেখে কৃষ্ণ কালির ছাই লো।।
বাঁশি হাতে গাছে চড়া, কয়লা-বরণ গয়লা ছোঁড়া সে লো
সেই নাটের গুরু নষ্টের গোড়া তোর প্রেমের গোঁসাই লো।।
ঐ গো-রাখা রাখালের সনে তোর নিন্দা শুনি বৃন্দাবনে রাই লো
ছি ছি কেষ্ট ছাড়া ইষ্ট কি আর ত্রিভুবনে নাই লো।।
ঐ অমাবস্যার কৃষ্ণ-চাঁদে, বাস্‌লি ভালো কোন্ সুবাদে তুই লো
তুই দিন-কানা হয়েছিস রাধে ভাবিয়া কানাই লো।।

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে

বাণী

বিদায়ের বেলা মোর ঘনায়ে আসে।
দিনের চিতা জ্বলে অস্ত আকাশে।।
দিন শেষে শুভদিন এলো বুঝি মম
মরণের রূপে এলে মোর প্রিয়তম,
গোধূলির রঙে তাই দশ দিশি হাসে।।
দিন গুণে নিরাশার পথ-চাওয়া ফুরালো,
শ্রান্ত এ জীবনের জ্বালা আজ জুড়ালো।
ওপার হ’তে কে এলো তরী বাহি’
হেরিলাম সুন্দরে, আর ভয় নাহি,
আঁধারের ’পারে তার চাঁদ-মুখ ভাসে।।

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে

বাণী

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে।
গোপিনী উন্মনা, মন নাহি কাজে।।
কুলবধূ-ঘটে-ঘটে সে-বাঁশি স্বনে
উছলি’ উছলি’ উঠে নীর ক্ষণে ক্ষণে,
নয়ন-সলিল ঝরে গাগরি-মাঝে।।

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই

বাণী

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরিটিপ,
জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।
তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি
জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,
কভু ঘরে আসিকভু বাহিরে চাই।।
আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,
জাগে বনে বনে নবফুলের বাণী,
আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী

বাণী

বনকুসুম-তনু তুমি কি মধুমতী!
ঢল ঢল নয়নে রস-ঘন মিনতি।।
রুমুঝুমু ঘুমুরে ঘুমুঘুমু বিবশা
নিথর বসুমতী, নিশিমদ-অলসা,
মুরছিত চরণে শত মদন রতি।।
রস-ছলছল গো তব মধু কলসে
ঝরঝর ঝরনা অনুখন বরষে,
অরুণিত নয়না মধুর রসবতী।।

১. বধুরম মধুরম মধুর রসবতী।।

প্রেমের হাওয়া বইল যখন

বাণী

প্রেমের হাওয়া বইল যখন মুকুল গেল ঝ’রে।
প্রদীপ নিভে রইল, যখন তুমি এলে ঘরে।।
	তোমার আসার লগ্ন এলো
	যে-দিন আশা ফুরিয়ে গেল,
মন গিয়াছে ম’রে যখন পেলাম মনোহরে।।
আঘাত দিয়ে দিয়ে যে-দিন করলে পাষাণ মোরে,
সেদিন নিয়ে বসালে হায়! তোমার ঠাকুর ঘরে।
	তোমার শুভ দৃষ্টি লাগি’
	বহু সে-যুগ ছিলাম জাগি’
আজি কি বেলা-শেষে তুমি এলে স্বয়ম্বরে।।