ফিরদৌসের শিরনি এলো

বাণী

	ফিরদৌসের শিরনি এলো ঈদের চাঁদের তশতরিতে।
	লুট ক’রে নে বনি আদম ফেরেশ্‌তা আর হুরপরীতে।।
		চোখের পানি হারাম আজি
		চলুক খুশির আতস বাজি,
(তার)	মউজ লাগুক দূর সেতারা জোহরা আর মোশ্‌তরিতে।।
	দুশমনে আজ দোস্ত মেনে নে তারে তুই বক্ষে টেনে
	হস্‌নে নারাজ দরাজ হাতে দৌলত তোর বিলিয়ে দিতে।।

এক্‌লা ভাসাই গানের কমল

বাণী

	এক্‌লা ভাসাই গানের কমল সুরের স্রোতে।
	খেলার ছলে ওপার পানে এপার হ’তে।।
	আসবে গো এই গাঙের কূলে হয়ত ভুলে আমার প্রিয়া
	খোঁপায় নেবে আমার গানের কমল তুলে তামার প্রিয়া
	খুঁজতে আমায় আসবে সুরের নদী-পথে।।
	নাম-হারা কোন্ গাঁয়ে থাকে অচেনা সে,
তারে	না-ই জানিলাম, গান ভেসে যাক্ তাহার আশে।
	নদীর জলে আল্‌তা-রাঙা পা ডুবায়ে, রয় সে মেয়ে
	গানের কমল লাগে গো তা’র কমল-পায়ে, উজান বেয়ে,
	সেদিন অমর হয় মোর গান, যায় অমরায় পুষ্প-রথে।।

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে

বাণী

লক্ষ্মী মাগো এস ঘরে সোনার ঝাঁপি লয়ে করে।
কমল-বনের কমলা গো বিহর হৃদি-কমল পরে।।
	কোজাগরী-পূর্ণিমাতে
	দাঁড়াও আকাশ-আঙ্গিনাতে,
মা গো, তোমার লক্ষ্মী শ্রী জোছনা-ধারায় পড়ুক ঝরে।।
চঞ্চলা গো, এই ভবনে থাকো অচঞ্চলা হয়ে,
দারিদ্র্য আর অভাব যত দূর হোক মা তোর উদয়ে।
	সুমঙ্গলা দুঃখ-হরা।
	অমৃত দাও পাত্র-ভরা,
ঐশ্বর্য উপ্‌চে পড়ুক, হরি-প্রিয়া তোমার বরে।।

‘লক্ষ্মী-বন্দনা’

বাহির দুয়ার মোর বন্ধ হে প্রিয়

বাণী

বাহির দুয়ার মোর বন্ধ হে প্রিয় মনের দুয়ার আছে খোলা,
সেই পথে এসো হে মোর চিত-চোর — হে দেবতা পথ ভোলা।।
	সেথা নাহি কুল লাজ কলঙ্ক ভয়,
	নাহি গুরুজন গঞ্জনা নিরদয়;
তাই গোপন মানস তমাল কুঞ্জে (আমি) বাঁধিয়াছি ঝুলন দোলা।।
মোর অন্তরে বহে সদা অন্তঃসলিলা অশ্রু-নদী —
সেই যমুনার তীরে কর তুমি লীলা নিরবধি ।
	সে মিলন-মন্দিরে জাগাবে না কেহ,
	তব দেহে বিলীন হবে মোর দেহ;
অনন্ত বাসর-শয্যা রচিয়া অনন্ত মিলনে রহিব উতলা।।

মুখে কেন নাহি বলো আঁখিতে যে কথা কহো

বাণী

মুখে কেন নাহি বলো আঁখিতে যে কথা কহো
অন্তরে যদি চাহো মোরে তবে কেন দূরে দূরে রহো।।
     প্রেম -দীপ শিখা অন্তরে যদি জ্বলে
     কেন চাহো তারে লুকাইতে অঞ্চলে
পূজিবে না যদি সুন্দরে রূপ -অঞ্জলি কেন বহো।।
ফুটিলে কুসুম -কলি রহে না পাতার তলে,
কুণ্ঠা ভুলিয়া দখিনা-বায়ের কানে কানে কথা বলে।
     যে অমৃত-ধারা উথলে হৃদয় মাঝে
     রুধিয়া তাহারে রেখো না হৃদয় লাজে
প্রাণ কাঁদে যার লাগি, তারে কেন বিরহ দহনে দহো।।

দোপাটি লো লো করবী

বাণী

দোপাটি লো, লো করবী, নেই সুরভি রূপ আছে
রঙের পাগল রূপ পিয়াসি সেই ভালো আমার কাছে।।
	গন্ধ ফুলের জলসাতে তোর
	গুণীর সভায় নেইকে আদর
গুল্ম বনে দুল হয়ে তুই, দুলিস একা ফুল গাছে।।
লাজুক মেয়ে পল্লী বধূ জল নিতে যায় একলাটি
করবী নেয় কবরীতে বেণীর শেষে দোপাটি
	গন্ধ ল'য়ে স্নিগ্ধ মিঠে
	আলো ক'রে থাকিস ভিটে,
নেই সুবাস, আছে গায়ে কাঁটা, সেই গরবে মন নাচে।।