তোমার নূরের রওশনি মাখা

বাণী

তোমার নূরের রওশনি মাখা নিখিল ভুবন, অসীম গগন।
তোমার অনন্ত জ্যোতির ইশারা গ্রহ-তারা-চন্দ্র-তপন।।
	তোমার রূপের ইঙ্গিত খোদা
	ফুটিছে বনের কুসুমে সদা,
তোমার নূরের ঝলক হেরি’ মেঘে বিজলি চমকে যখন।।
	প্রাণের খুশি শিশুর হাসি
	মধুর তোমার রূপ দেয় প্রকাশি’,
তোমার জ্যোতির সমুদ্রে খোদা আলোর ঝিনুক মোর এ দু’টি নয়ন।।
	ধানের খেতে নদী-তরঙ্গে
	দুলে তোমার রূপ মধুর ভঙ্গে,
নিতি দেখা দাও হাজার রঙ্গে অরূপ নিরাকার তুমি নিরঞ্জন।।

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি

বাণী

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি পূজা করি,
আমার দেহের পঞ্চভূতের পঞ্চপ্রদীপ তুলে ধরি।।
	ফকির যোগী হয়ে বনে
	ফিরি না তার অন্বেষণে
আমি	মনের দুয়ার খুলে দেখি রূপের জোয়ার মরি মরি।।
	আছেন যিনি ঘিরে আমায়
	তারে আমি খুঁজব কোথায়
সাগরে খুঁজে বেড়াই সাগর বুকে ভাসিয়ে তরী।
	মন্দিরের ঐ বন্ধ খোঁপে
	ঠাকুর কি রয় পূজার লোভে?
পেতে রাখি ভক্তি বেদী আসবে নেমে প্রেমের হরি।।

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়

বাণী

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়
রূপে লাবেন্য মাধুরী ও শ্রীতে হুরী-পরী লাজ পায়।।
নর নহে,নারী ইসলাম 'পরে প্রথম আনে ঈমান
আম্মা খাদিজা জগতে সর্ব প্রথম মুসলমান।
পুরুষের  সব গৌরব ম্লান এক এই মহিমায়।।
নবী-নন্দিনী ফাতেমা মোদের সতী-নারীদের রানী
যাঁর গুণ-গাথা ঘরে ঘরে প্রতি নর-নারী আজো গায়।।
রহিমার মত মহিমা কাহার তাঁর সম সতী কেবা
নারী নয় যেন মূর্তি ধরিয়া এসেছিল পতি-সেবা
মোদের খাওয়ালা জতের আলা বীরত্বে গরিমায়।।
রাজ্য শাসনে রিজিয়ার নাম ইতিহাসে অক্ষয়
শৌর্যে সাহসে চাঁদ-সুলতানা বিশ্বের বিস্ময়
জেবুন্নেসার তুলনা কোথায়,জ্ঞানের তপস্যায়।।
আঁধার হেরেমে বন্দিনী হল সহসা আলোর মেয়ে
সেইদিন হতে ইসলাম গেল গ্লানির কালিতে ছেয়ে।
লক্ষ খালেদ আসিবে যদি এ নারীরা মুক্তি পায়।।

নামাজ রোজা হজ্জ-যাকাতের পসারিণী আমি

বাণী

নামাজ রোজা হজ্জ-যাকাতের পসারিণী আমি
নবীর কল্‌মা হেঁকে ফিরি পথে দিবস-যামী।।
আমার নবীজির পিয়ারি আয়রে ছুটে মুসলিম নারী,
দ্বীনের সওদা করবি কে আয় আয় রে মুক্তিকামী।।
জন্ম আমার হাজার বছর আগে আরব দেশে
সারা ভুবন ঠাঁই দিয়েছে আমায় ভালোবেসে।
আমার আজান ধ্বনি বাজে — কুল মোমিনের বুকের মাঝে
আমি নবীর মানস কন্যা আল্লাহ্‌ মোর স্বামী।।

প্রিয় তব গলে দোলে যে হার কুড়িয়ে পাওয়া

বাণী

প্রিয়	তব গলে দোলে যে হার কুড়িয়ে পাওয়া
সে যে	হার নহে, হৃদয় মোর হারিয়ে যাওয়া।।
	তোমারি মতন যেন কাহার সনে
	সেদিন পথে চোখাচোখি হল গোপনে
মন	চকিতে হরিল যে সেই চকিত চাওয়া।।
ছিল	চৈতালি সাঁঝ, তাহে পথ নিরালা
ছিনু	একেলা আমি, চলে একেলা বালা
বহে	ঝিরিঝিরি ধীরি-ধীরি চিতী হাওয়া
	চাহিল সে মুখে মোর ঘোমটা তুলে
তার	নয়নে ও ঘটে জল উঠিল দুলে
	চেয়ে দেখি মোর আঁখি সলিল ছাওয়া।।

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা

বাণী

ঝরে ঝরঝর কোন্ গভীর গোপন ধারা এ শাঙনে।
আজি রহিয়া রহিয়া গুমরায় হিয়া একা এ আঙনে
ঘনিমা ঘনায় ঝাউ-বীথিকায় বেণু-বন-ছায় রে —
ডাহুকীরে খুঁজি’ ডাহুক কাঁদে আঁধার-গহনে।।
কেয়া-বনে দেয়া তুণীর বাঁধিয়া,
গগনে গগনে ফেরে গো কাঁদিয়া।
বেতস-বিতানে নীপ-তরুতলে
শিখী নাচ ভোলে পুছ-পাখা টলে,
মালতী-লতায় এলাইয়া বেণী কাঁদে বিষাদিনী রে —
কাজল-আঁখি কে নয়ন মোছে তমাল-কাননে।।

নাটক : ‘ঝিলিমিলি’