আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

বাণী

আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।

আমার হৃদয় হবে রাঙাজবা

বাণী

আমার	হৃদয় হবে রাঙাজবা দেহ বিল্বদল,
মুক্তি		পাবো ছুঁয়ে মুক্তকেশীর চরণতল॥
মোর		বলির পশু হবে সর্বকাম,
মোর		পূজার মন্ত্র হবে মায়ের নাম,
মোর		অশ্রু দেবো মা’র চরণে সেই তো গঙ্গাজল॥
মোর		আনন্দ মাকে দেবো তাই হবে চন্দন,
মোর		পুষ্পাঞ্জলি হবে আমার প্রাণ মন।
মোর		জীবন হবে আরতি-দীপ,
মোর		গুরু হবেন শঙ্কর-শিব,
মোর		কাঁটার জ্বালা পদ্ম হবে শুভ্র সুনির্মল॥

রুমঝুম্ রুমঝুম্ রুমঝুম্ ঝুম্‌ঝুম্‌

বাণী

রুমঝুম্ রুমঝুম্ রুমঝুম্ ঝুম্‌ঝুম্‌
নূপুর বাজে আসিল রে প্রিয় আসিল রে।।
	কদম্ব-কলি শিহরে আবেশে
	বেণীর তৃষ্ণা জাগে এলোকেশে
হৃদি ব্রজধাম রস-তরঙ্গে প্রেম-আনন্দে ভাসিল রে।।
	ধরিল রূপ অরূপ শ্রী হরি
	ধরণী হলো নবীনা কিশোরী
চন্দ্রার কুঞ্জ ছেড়ে যেন কৃষ্ণ চন্দ্রমা-গগনে হাসিল রে।।
	আবার মল্লিকা-মালতী ফোটে
	বিরহ-যমুনা উথলি’ ওঠে
রোদন ভুলে রাধা গাহিয়া ওঠে সুন্দর মোর ভালোবাসিল রে।।

বরের বেশে আসবে জানি

বাণী

বরের বেশে আসবে জানি আজ মম সুন্দর।
পার হ’য়ে দূর বিরহ-লোক বহু যুগের পর।।
	আসে সে ঐ চুপে চুপে
	আমার মধুর মরণ রূপে
আর সে ছেড়ে যাবে না গো আমার-ঘর।।

নাটকঃ ‘লায়লী-মজনু’

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে

বাণী

কোন রস-যমুনার কূলে বেণু-কুঞ্জে
হে কিশোর বেণুকা বাজাও।
মোর অনুরাগ যায় সেথা, তনু যেতে নারে,
তুমি সেই ব্রজের পথ দেখাও।।
মোর অন্ধ আঁখি কাঁদে চাঁদের তৃষায়
তব পানে হাত তুলে রাত কেটে যায়,
বঁধু, এই ভিখারিনী সেই মাধুকরী চায় –
মধুবনে, গোপীগণে যে মধু দাও।।
প্রেমহীন-নীরস জীবন ল’য়ে
পথে পথে ফিরি বৈরাগিনী হয়ে,
বুঝি আমি চাই তব প্রেম নাহি পাই –
কৃপা কর প্রেমময়, তুমি মোরে চাও।।

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে

বাণী

চুড়ি কিঙ্কিনী রিনি রিন ঝিনি বীণ বাজায়ে চলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।
বাজে পায়ে পাঁইজোর ঘুঙুর ঝুমুর ঝুমুর
গাহে পাপিয়া পিয়া পিয়া শুনি সে সুর
শত পরান হতে চায় ঐ চরণে নূপুর
হৃদি হতে চায় চাবি তাহার আঁচলে।।
পথিকে বধিতে কি নদীতে সে জলকে যায়
ছল চল বলি তাহার কলসিতে জল ছ’লকে যায়
কাজল-ঘন চোখে বিজলি জ্বালা ঝলকে যায়
মন-পতঙ্গ ধায় ঐ আঁখির অনলে
শুনি নদীর নীল জলে জোয়ার উথলে।।