ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা

বাণী

ঝিলের জলে কে ভাসালো নীল শালুকের ভেলা
		মেঘলা সকাল বেলা।
বেণু বনে কে খেলে রে পাতা ঝরার খেলা।
		মেঘলা সকাল বেলা।।
	কাজল বরণ পল্লী মেয়ে
	বৃষ্টি ধারায় বেড়ায় নেয়ে,
ব'সে দিঘীর ধারে মেঘের পানে রয় চেয়ে একেলা।।
দুলিয়ে কেয়া ফুলের বেনী শাপলা মালা প'রে
খেলতে এলো মেঘ পরীরা ঘুমতী নদীর চরে।
বিজলিতে কে দূর বিমানে, সোনার চুড়ির ঝিলিক হানে,
বনে বনে কে বসালো যুঁই-চামেলির মেলা।।

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়

বাণী

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়
রাঙা-হাসির পরাগ-ফুল আননে ঝরায়।।
তার রঙের আবেশ লাগে চাঁদের চোখে
তার লালসার রঙ জাগে রাঙা অশোকে
তার রঙিন নিশান দোলে কৃষ্ণ চূড়ায়।।
তার পুষ্প ধনু দোলে শিমূল শাখায়
তার কানা কাঁপে গো ভোমরা পাখায়,
সে খোঁপাতে বেল-ফুলের মালা জড়ায়।।
সে কুসমী শাড়ি পরায় নীল বসনায়
সে আঁধার মনে জ্বালে লাল রোশনাই
সে শুকনো বনে ফাগুন আগুন ধরায়।।

আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা

বাণী

	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।

প্রিয় যাই যাই ব’লো না

বাণী

প্রিয় যাই যাই ব’লো না, না না না
আর ক’রো না ছলনা, না না না॥
আজো মুকুলিকা মোর হিয়া মাঝে
না-বলা কত কথা বাজে,
অভিমানে লাজে বলা যে হ’ল না॥
কেন শরমে বাধিল কে জানে
আঁখি তুলিতে নারিনু আঁখি পানে।
প্রথম প্রণয়-ভীরু কিশোরী
যত অনুরাগ তত লাজে মরি,
এত আশা সাধ চরণে দ’লো না॥

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে

বাণী

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে।
চ’লে যাওয়া বন্ধু বুঝি ফিরে এলো জোয়ারে।।
	সখি নিত্য আমার বুকের মাঝে
	যাহার চরণ-ধ্বনি বাজে,
সেই পায়ের ধ্বনি কানে শুনি আমার আঙিনার ধারে।।
সাজ পরতে সাধ কেন হয়, বাম অঙ্গ নাচে,
থাকি থাকি বৌ কথাকও পাখি ডাকে গাছে।
	গাঙের পারে বাজে বাঁশি
	চাঁদের মুখে রাঙা হাসি
মোর মন কেঁদে কয়, সে এসেছে আন্ লো ডেকে উহারে।।

ভোরের হাওয়া এলে

বাণী

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥