হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে

বাণী

হেলে দুলে চলে বন-মালা গলে গোঠ-বিহারী বনে বনমালী সাজে।
বঙ্কিম শিখী পাখা শোভিত অলক চন্দন তিলক ললাটে রাজে।।
	পথের ধুলি হরি চরণ পরশে
	হল সুরভিত হরি-চন্দন হরষে,
নিখিল-ভক্ত-প্রাণ চরণে নূপুর হয়ে রুমু ঝুমু বাজে।।
	তৃণ নাহি পরশে উচাটন ধেনু সব
	বংশী-বট-তলে শোনে শ্যাম বেণুরব,
অপরূপ অভিনব প্রেম অনুভব, জাগে ব্রজ-গোপীকার প্রাণের মাঝে।।

শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়

বাণী

শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
		গগনে মেলিয়া শত শত কর
		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।

এসো ফিরে প্রিয়তম এসো ফিরে

বাণী

এসো ফিরে’ প্রিয়তম, এসো ফিরে’।
আঁখির আলোক হায় জীবনের সন্ধ্যায়
ডুবে যায় নিরাশা-তিমিরে।।
আসে যে-পথে প্রভাতী আলোর ধারা
যে-পথে আসে চাঁদ, রাতের তারা,
নিতি সেই পথে চাই
যদি তব দেখা পাই —
শুধাই তোমার কথা দক্ষিণ সমীরে।।
খুঁজে’ ফিরি ঝরা ফুলে নদীর স্রোতে
ঘর-ছাড়া পথিক ধায় যে-পথে,
তব পথ, হে সুদূর
কত দূর, কত দূর —
কোথা পাব তব দেখা (কোন্) কালের তীরে।।

কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি

বাণী

কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি কৃষ্ণজি।
যে কৃষ্ণ নাম জপেন ইন্দ্র-ব্রহ্মা-মহেশ্বর
যে নাম করে ধ্যান যোগী-ঋষি-সুরাসুর-নর,
এই অসীম বিশ্ব সীমা যাঁহার পায় নাকো খুঁজি -
আমি জীবনে মরণে যেন সেই নামই ভজি।।
যাঁর অনন্ত লীলা যাঁহার অনন্ত প্রকাশ
মধু কৈটভ মর কংসে যুগে যুগে করেন নাশ,
ন্যায় পাণ্ডবের হলেন সখা সারথি সাজি’
এই পাপ কুরুক্ষেত্রে কাঁদি তাঁহারেই খুঁজি’।।
যাঁর মুখে গীতা হাতে বাঁশি নূপুর রাঙা পায়
কভু শ্রীকৃষ্ণ গোকুলে কভু গোরা নদীয়ায়,
ফেরে প্রেম-যমুনার তীরে চির-রাধিকায় খুঁজি’
মোর মন গোপিনী উন্মাদিনী সেই নামে মজি’।।

ঝাঁকড়া-চুলো তালগাছ তুই দাঁড়িয়ে কেন

বাণী

ঝাঁকড়া-চুলো তালগাছ তুই দাঁড়িয়ে কেন ভাই।
আমার মত পড়া কি তোর মুখস্থ হয় নাই।।
	আমার মত একপায়ে ভাই
	দাঁড়িয়ে আছিস্‌ কান ধ’রে ঠায়,
একটুখানি ঘুমোয় না তোর পণ্ডিত মশাই।।
	মাথায় তুলে পাত্‌তাড়ি তোর
	কি ছাই বকিস্‌ বকর বকর,
আম্‌তা আম্‌তা করে নাম্‌তা পড়িস্‌ কি সদাই।।
	তালগাছ তোর পাতার কোলে
	বাবুই পাখির বাসা ঝোলে,
কোচড়-ভরা মুড়ি যেন, দেনা দুটি খাই।।
	পাখিরা তোর মাথায় এসে
	উড়ে এসে জুড়ে বসে,
ঠুক্‌রে ওরা দেয় কি মাথায় পাতা নাড়িস্‌ তাই।।

মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ

বাণী

মনে পড়ে আজও সেই নারিকেল-কুঞ্জ গুবাক্ তরুর ঘন-কেয়ারি
বালুচর, বেত-বন, দেখা হ’ত দুইজন, মন হ’ত উন্‌মন দোঁহারি।।
	গাছ থেকে টুপ্‌টাপ্‌ ঝরিত কালো জাম
	জাম ফেলে চুপচাপ মেঘ পানে চাহিতাম,
গাব নিয়ে কাড়াকাড়ি, ভাব হ’ত, হ’ত আড়ি দু’জনে —
আমি ছিনু ধনিকের ছেলে গো ছিলে ভুঁইমালিদের তুমি ঝিয়ারি।।
ভূঁইমালিদের ঘরে ভূঁইচম্পার কলি ডুমা-পরা উমা সম খেলিতে,
আমার দালান ঘরে দোতালায় কেন গো উতলা মনে ছায়া ফেলিতে।
সহসা হেরিনু তব বধূরূপ, ভাঙা চালা, হাতে তব চালুনি,
পার্শ্বে দামাল ছেলে কাঁদিছে, হেরিয়া পান্তাভাত আলুনি।
	ঘোম্‌টা টানিয়া দিলে আমারে হেরিয়া
	উদাস চোখে এলো কালো মেঘ ঘেরিয়া,
তা’রে চিনতে কি পেরেছিলে প্রণাম যে করেছিল কল্যাণী রূপ তব নেহারি’।।