কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি

বাণী

কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি
কি যাচে ও আঁখি বুঝিতে যে নারি॥
হৃদি প্রাণ মন বিভব রতন
ডারিনু চরণে লহ পথচারী॥
দুয়ারে মোর নিতি গেয়ে যায় যে গীতি
নিশিদিন বুকে বেঁধে তারি স্মুতি।
কি দিয়ে এ ব্যথা নিবারিতে পারি॥
মিলন বিরহ যা চাও প্রিয় লহ
দাও ভিখারিনী বেশ দাও ব্যথা অসহ
মোর নয়নে দাও তব নয়ন বারি॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’

আদরিণী মোর কালো মেয়ে

বাণী

	আদরিণী মোর কালো মেয়ে রে কেমনে কোথায় রাখি।
তারে	রাখিলে চোখে বাজে ব্যথা বুকে বুকে রাখিলে দুখে ঝুরে আঁখি।।
	কাঙাল যেমন পাইলে রতন লুকাতে ঠাঁই নাহি পায়;
	তেমনি আমার শ্যামা মেয়েরে জানি না রাখিব কোথায়।
			দুরন্ত মোর এই মেয়েরে
			বাঁধব আমি কি দিয়ে রে,
(তাই)পালিয়ে যেতে চায় সে যবে আমি অমনি মা ব’লে ডাকি।।

তুমি ভাগিয়াছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে

বাণী

তুমি ভাগিয়াছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে।
(হায় প্রিয়া!) তুমি যে ভেগেছ ভাগ্‌লুয়া দলের সাথে।
নিয়ে গেছ হায় বাক্সের চাবি দিয়েছ দাদার হাতে।।
বোমা না পড়িতে বাপের বাড়িতে ছুট দিলে স্বামীরে ভুলে,
আমি পথে ফিরি হায়, কর্পোরেশনের ষাঁড় যেন কলকাতাতে।
এখন পথে ফিরি হায়, কর্পোরেশনের ষাঁড় যেন কলকাতাতে।।
যখন ভালুক নাচাতে এই স্বামী লয়ে (তখন) ভুলেছিলে বাবা দাদা;
(তখন) তোমার বেণীটি আমার টিকি-টি একদিকে ছিল বাঁধা।
সে-বেণী খুলিল সে-টিকি ছিঁড়িল ঘরের উনুন নিভিল;
আমি আবার প্রেমের হাট বসাব ফিরে এসো হাটখোলাতে।।

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ

বাণী

মোর ঘনশ্যাম এলে কি আজ কালো মেঘের বেশে।
দূর মথুরার নীল-যমুনা পার হ’য়ে মোর দেশে।।
		এলে কালো মেঘের বেশে।।
	বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
	বাজে তোমার সোনার নূপুর,
বিজলিতে চপল আঁখির চমক বেড়ায় হেসে।।
তোমার তনুর সুগন্ধ পাই, যুঁই কেতকীর ফুলে
ওগো রাজাধিরাজ! ব্রজে আবার এলে কি পথ ভুলে।
	মেঘ-গরজনের ছলে
	ডাকো ‘রাধা রাধা’ বলে
বাদল হাওয়ায় তোমার বাঁশির বেদন আসে ভেসে।।

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে

বাণী

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে’।
দেবতা চাহে কি ফুল মরে যবে পদমূলে।।
	ভুলে গেছি স্বপন-ঘোরে
	তুমি যে ভুলেছ মোরে,
তবু খুঁজি স্মৃতির রেখা ভাঙন-ধরা মনের কূলে।।
নাহি মনে — ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে
বিশ্ব আমার শূন্য ক’রে কবে বঁধু বিদায় নিলে,
হাসি-মুখখানি শুধু মনে ওঠে দুলে’ দুলে’।।
আমার স্মৃতির চিতা পুড়িয়ে সে-কত বাকি
দেখিয়া চলিয়া যাব যে দেশে নাই তোমার আঁখি,
তুমি থাক হাসির দেশে, আমি হতাশার কূলে।।

বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি

বাণী

বাঁশি কে বাজায় বনে আমি চিনি আমি চিনি,
কলসে কাঁকন চুড়ি তাল দিয়ে কয় গো রিনিঝিনি।
			আমি চিনি আমি চিনি।।
বুঝি গো বন পাপিয়া তারেই দেখে
‘চোখ গেল, চোখ গেল’ বলে উঠে ডেকে।
ও বাঁশি বাজলে ‘জলে যাসনে’, (ও বৌ যাস্‌নে)
বলে ‘ননদিনী’ ‘ননদিনী’।আমি চিনি আমি চিনি।।
মোর সেই বাঁশুরিয়ায় চেনে পাড়ার পড়শিরা
চেনে তায় যায় যমুনায় গো যত প্রেমের গরবীরা।
সে যে মোর ঘর জ্বালানো পর ভুলানো
আমার কালো বরণ গো, তমালের ডাল দুলানো।
মন কয় আমায় নিয়ে গো সেই ত খেলে ছিনিমিনি।।