এ কোন মধুর শরাব দিলে

বাণী

এ কোন্‌ মধুর শরাব দিলে আল আরাবি সাকি,
নেশায় হলাম দিওয়ানা যে রঙিন হল আঁখি।।
	তৌহিদের শিরাজি নিয়ে
	ডাকলে সবায় যারে পিয়ে,
নিখিল জগৎ ছুটে এলো রইল না কেউ বাকি।।
বসলো তোমার মহ্‌ফিল দূর মক্কা মদিনাতে,
আল্‌-কোরানের গাইলে গজল শবে কদর রাতে।
	নরনারী বাদশা ফকির
	তোমার রূপে হয়ে অধীর
যা ছিল নজ্‌রানা দিল রাঙা পায়ে রাখি’।

কেন ঘুম ভাঙালে প্রিয়

বাণী

কেন ঘুম ভাঙালে প্রিয় যদি ঠেলিবে পায়ে।
বৃথা বিকশিত কুসুম কি যাবে শুকায়ে,
একা বন-কুসুম ছিনু বনে ঘুমায়ে।।
ছিল পাশরি’ আপন-বেভুল কিশোর-হিয়া,
বধূর বিধূর-যৌবন কে দিলে জাগায়ে।।
প্রিয় গো প্রিয় —
আকাশ-বাতাস কেন ব্যথার রঙে তুমি দিলে রাঙায়ে।।

নাটক : ‘আলেয়া’

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি

বাণী

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি
ধীরে চল গোরী ধীরে ধীরে
টলে চিকন কাঁখে ভরা গাগরি
	ভরে তায় ঘাঘরি।
দেহ টুটে না যায় যেন নাগরি
	নীল চোলি ভিজিয়া না যায় নীরে।।
কঠিন ধরা হানে বেদনা কোমল পায়ে
মুছায়ে দিব ব্যথা ব’স এ বকুল ছায়ে
‘না’বলি মুচকিয়া হেসো না ফিরে ফিরে।।
দাঁড়ায়ে কত পথিক বহিতে সই ভার তব
যদি চাহ গো সখি ভার তব আমি লব
দাও আমারে ঠাঁই, তব ঐ তনুর তীরে।।

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা

বাণী

ঐ অভ্র-ভেদী তোমার ধ্বজা উড়্‌লে আকাশ-পথে।
মাগো, তোমার রথ আনা ঐ রক্ত-সেনার রথে।।
ললাট-ভরা জয়ের টীকা অঙ্গে নাচে অগ্নি-শিখা,
রক্তে জ্বলে বহ্নি-লিখা,
মা! ঐ বাজে তোর বিজয়-ভেরি,
নাই দেরি আর নাই মা দেরি, মুক্ত তোমার হ’তে।।
আনো তোমার বরণ-ডালা, আনো তোমার শঙ্খ, নারী!
ঐ দ্বারে মা’র মুক্তি-সেনা, বিজয়-বাজা উঠ্‌ছে তারি। ওরে ভীরু!
ওরে মরা! মরার ভয়ে যাস্‌নি তোরা;
তোদেরও আজ ডাক্‌ছি মোরা – ভাই!
ঐ খোলে রে মুক্তি-তোরণ,
আজ একাকার জীবন-মরণ মুক্ত এ ভারতে।।

হোরি খেলে নন্দলালা

বাণী

হোরি খেলে নন্দলালা
প্রেমের রঙে মাতোয়ালা॥
বিশ্বরাধা সে সাথে রঙে খেলায় মাতে
রঙে ত্রিভুবন ছায় রাঙা আলোক আবির ছড়ায়
	হোরি রবি-শশী থালা॥
আজি বনে বনে মনে মনে হোরি
মনের মরুতে লতায় তরুতে রাঙা ফুল ফোটে মরি মরি।
আজি প্রাণে প্রাণে ফুল দোল
দোল পূর্ণিমা রাতি রাঙা ফুল তারা বাতি
	ধরণীতে আকাশে জ্বালা॥

এস হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া

বাণী

এসো হে সজল শ্যাম-ঘন দেয়া 
বেণু-কুঞ্জ-ছায়ায় এসো তাল-তমাল বনে 
এসো শ্যামল ফুটাইয়া যূথী কুন্দ নীপ কেয়া।। 
বারিধারে এসো চারিধার ভাসায়ে 
বিদ্যুৎ ইঙ্গিতে দশদিক হাসায়ে 
বিরহী মনে জ্বালায়ে আশার আলেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।। 
শ্রাবণ বরিষণ হরষণ ঘনায়ে 
এসো নব ঘন শ্যাম নূপুর শুনায়ে। 
হিজল তমাল ডালে ঝুলন ঝুলায়ে 
তাপিতা ধরার চোখে অঞ্জন বুলায়ে 
যমুনা স্রোতে ভাসায়ে প্রেমের খেয়া 
ঘন দেয়া, মোহনীয়া, শ্যাম-পিয়া।।