তুমি লহ প্রভু আমার সংসারেরি ভার

বাণী

তুমি লহ প্রভু আমার সংসারেরি ভার লহ সংসারেরি ভার
আজকে অতি ক্লান্তআমি বইতে নারি আর
	এ ভার বইতে নারি আর।।
	সংসারেরি তরে খেটে
	জনম আমার গেল কেটে
(ওরে) তবু অভাব ঘুচল না (আমার) হায় খাটাই হল সার।।
বিফল যখন হলাম পেতে সবার কাছে হাত
তখন তোমায় পড়ল মনে হে অনাথের নাথ।
	অভাবকে আর করি না ভয়
	তোমার ভাবে মগ্ন হৃদয়
তোমায় ফিরিয়ে দিলাম হে মায়াময় তোমারি সংসার।।

যদি আমি তোমায় হারাই

বাণী

যদি আমি তোমায় হারাই, তুমি যেয়ো না নাথ হারিয়ে।
আমি পথ হারালে ধ’রো আমায় আঁধারে হাত বাড়িয়ে।।
	ঝড়-বাদলে নিশীথ-রাতে
	লুকিয়ে চ’লো আমার সাথে,
ফুলের কাছে নিয়ে যেয়ো কাঁটার বাধা ছাড়িয়ে।।
তোমায় দেওয়া এ প্রাণ যদি অন্যে চাহি দানিতে,
তুমি যেন ‘না’ বোলো না কঠোর আঘাত হানিতে।
	চঞ্চল মোর চিত্ত যেন
	তোমার পায়ে টেনে এনো
তোমার পূজা শিখায়ো নাথ তুমিই পাশে দাঁড়িয়ে।।

১. অন্ধকারে ধরো আমায় সহসা হাত বাড়িয়ে।।

আমি দ্বার খুলে আর রাখব না

বাণী

আমি দ্বার খুলে আর রাখব না, পালিয়ে যাবে গো।
জানবে সবে গো, নাম ধরে আর ডাকব না।।
	এবার পূজার প্রদীপ হয়ে
	জ্বলবে আমার দেবালয়ে,
জ্বালিয়ে যাবে গো — আর আঁচল দিয়ে ঢাকব না।।
হার মেনেছি গো, হার দিয়ে আর বাঁধব না।
দান এনেছি গো, প্রাণ চেয়ে আর কাঁদব না।
	পাষাণ, তোমায় বন্দী ক’রে
	রাখব আমার ঠাকুর ঘরে,
রইব কাছে গো — আর অন্তরালে থাকব না।।

মুকুর ল’য়ে কে গো বসি’

বাণী

মুকুর ল’য়ে কে গো বসি’।
হেরিছে আপন ম্লান-মুখ-শশী।।
সখিরা ডাকে বেলা ব’য়ে যায়
দোপাটির ফুল ঝুরে আঙিনায়’
ধূলাতে লুটায় কাঁখের কলসি।।
হেরিয়া তারি অলস ছবি,
ডুবিতে নারে সাঁঝের রবি।
কমল-কলি ল’য়ে আঁচলে
ডাকিছে তারে গাঁয়ের সরসী।।

পাষাণ-গিরির বাঁধন টুটে

বাণী

পাষাণ-গিরির বাঁধন টুটে নির্ঝরিণী আয় নেমে আয়।
ডাকছে উদার নীল-পারাবার আয় তটিনী আয় নেমে আয়।।
	বেলাভূমে আছড়ে প’ড়ে
	কাঁদছে সাগর তোরই তরে,
তরঙ্গেরি নূপুর প’রে জল-নটিনী আয় নেমে আয়।।
দুই ধারে তোর জল ছিটিয়ে, ফুল ফুটিয়ে আয় নেমে আয়,
শ্যামল-তৃণে চঞ্চল-অঞ্চল লুটিয়ে আয় নেমে আয়।।
	ডাগর তোর চোখের চাওয়ায়
	সাগর-জলে জোয়ার জাগায়,
সেই নয়নের স্বপন দিয়ে বন-হরিণী আয় নেমে আয়।।

১. সজল যে

ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)