তুমি বহু জনমের সাধ মিটালে

বাণী

তুমি বহু জনমের সাধ মিটালে এ বিরহীরে কাঁদাইয়া।
কভু অবহেলা, কভু অনাদর কভু সে আদর দিয়া।।
	ভিক্ষা পেয়েও দাঁড়াইয়া থাকে দ্বারে
	ক্ষমা করো তুমি তারে,
ভিখারির মন নাহি ভরে যদি হাতের ভিক্ষা নিয়া।।
ধনীর প্রাসাদে গেল না ভিখারি তোমার কুটিরে এসে,
ভিক্ষা-পাত্র তুলিয়া ধরিল কেন আঁখি-জলে ভেসে’।
	জানে না কে তারে পথ দেখাইল,
	কোন্ সুন্দর যেন বলে দিল;
আপনারে দিতে সব কিছু নিয়া
	জাগিছে রে তোর (চিরজনমের) প্রিয়া।।

আমি পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি

বাণী

আমি	পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি
	তোমাদের সুরের সভায় এই অজানায় লহ গো ডাকি'।।
	তোমরা বেঁধেছে বাসা যে তরু-শাখায়
	আমারে বসিতে দিও তাহারি ছায়ায়
	গাহিবার আছে আশা, জানি না গানের ভাষা
তবু	ভালোবাসা দিয়ে বাঁধ গো রাখি।।
	মায়াময় তোমাদের তরুলতা, ফুল
	তোমাদের গান শুনে' পথ হ'ল ভুল।
	যেন শতবার এসে' জন্মেছি এই দেশে-
বন্ধু	হে বন্ধু, অতিথিরে চিনিবে না-কি।।

চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া

বাণী

চরণে দলিয়া গিয়াছে চলিয়া
			তবু কেন তারে ভালোবাসি।
বলিতে পারি না বোঝাতে পারি না
			আঁখি-জলে যায় বুক ভাসি’।।
কেন সে বিরাজে		হৃদয়েরি মাঝে
তার স্বর যেন 		সদা প্রাণে বাজে
কি বাঁধনে মোরে		বেঁধেছে বল সে
			দিয়ে গেছে গলে প্রেম-ফাঁসি।।

শ্যামে হারায়েছি বলে কাঁদি না বিশাখা

বাণী

শ্যামে হারায়েছি বলে কাঁদি না বিশাখা হারায়েছি শ্যামের হৃদয়
আমি তারি তরে কাঁদি গো সেই নিদয়ের তরে নয়
তার হৃদয়ের তরে কাঁদি গো হারায়েছি শ্যামের হৃদয়।
যে হৃদয় ছিল একা গোপিকার রাধিকার কুবুজা করেছে তারে জয়, সখি গো
কুবুজা তারে কু বুঝায়েছে
যে রাধা ছাড়া জানত না সই কুবুজা তারে কু বুঝায়েছে
কুবুজা করেছে তারে জয়।
কি হবে মথুরা গিয়া, হেরি সে হৃদয়হীন পাষাণ দেবতায়
সে কিছুই দেবে না, দেবতাই বটে গো সে দেবতাই বটে গো
পাষাণ খুঁজে না রাধা তার প্রিয় আনন্দঘন শ্যামরায়
তোরা যেতে চাস যা লো —
ঠাকুর দেখিতে তোরা যেতে চাস যা লো, সখি গো
ধরম-করম মম তনু-মন-যৌবন সঁপিনু চরণে যার
সে পর-পুরুষ, হ’ল আজি অপরার পুরুষ স্বভাব ভ্রমবার।
সে ভ্রমরাই সমতুল ফুলে ফুলে ভ্রমে সে ভ্রমরাই সমতুল
তারে, দেখলে ভ্রমে জাতিকুল, ভ্রমরাই সমতুল পুরুষ স্বভাব ভ্রমরার
যা’র হরি ছাড়া বোধ নাই প্রবোধ দিস্‌নে তায়, সজনী
সবারই পোহাবে নিশি, পোহাবে না রাধারই এ আঁধার রজনী॥

কেন বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে

বাণী

কেন	বাজাও বাঁশি কালোশশী মৃদু মধুর তানে।
ঘরে	রইতে নারি জ্ব’লে মরি বাজাইও না বনে
		বাঁশি, আর বাজাইও না বনে
		নিঝুম রাতে বাজে বাঁশি
		পরায় গলে প্রেম-ফাঁসি,
কেহ	নাহি জানে হে শ্যাম (আমি) মরি শুধু প্রাণে॥
		রাখ রাখ ও-বাঁশরি
		ওহে কিশোর-বংশীধারী,
	মন নাহি মানে হে শ্যাম (বঁধু) বাঁশি কি গুণ জানে॥

ওহে রসিক রসাল কদলী

বাণী

ওহে রসিক রসাল কদলী।
ভাবুকের তুমি ভাবের আধার পেটুকের প্রাণ-পুতলী।।
আহা, তুমি যুগে যুগে বর্তমান
বৃন্দাবনে মোহন বাঁশি বাঙলায় মর্তমান।
বহুরূপী তুমি বহুনামধারী চম্প বীচে কাঁঠালি।।
তোমার কাঁচকলা রূপের উপাসক পেট-রোগা যত ভক্ত,
ঝোলে কি ভাজায় তোমারে সাজায় (তুমি) মজাও পলতা শুক্ত।
নৈবেদ্যে ও আদ্য শ্রাদ্ধে দয়াময়, জগতের যত নর-বানর
তোমার কৃপার কাঙালি।।

কৌতুক নাটিকা : ‘পণ্ডিত মশায়ের ব্যাঘ্র শিকার’