নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে

বাণী

নাম-হারা ঐ গাঙের পারে বনের-কিনারে
বেতস-বেণুর বনে কে ঐ বাজায় বীণা রে।।
	লতায় পাতায় সুনীল রাগে
	সে-সুর সোহাগ-পুলক লাগে,
সে সুর ঘুমায় দিগঙ্গনার শয়ন-লীলা রে।
আমি কাঁদি, এ সুর আমার চির-চেনা রে।।
ফাগুন মাঠে শিস দিয়ে যায় উদাসী তার সুর,
শিউরে ওঠে আমের মুকুল ব্যথায় ভারাতুর।
	সে সুর কাঁপে উতল হাওয়ায়,
	কিশলয়ের কচি চাওয়ায়,
সে	চায় ইশারায় অস্তাচলের প্রাসাদ-মিনারে।
	আমি কাঁদি, এই ত আমার চির-চেনা রে।।

সখি দখিনা মলয় ঝিরি ঝিরি বয়

বাণী

‍
সখি দখিনা মলয় ঝিরি ঝিরি বয় কানে কথা কয় ধীরে ধীরে ধীরে।
চোখের মতন কেন ঘোরে অকারণ আমার ফুলবন ঘিরে।।
সখি! ব’লে দিস্ মলয়ারে, যেন সে আসে না
চাঁদের প্রিয়া আমি চৈতালি হেনা,
করুণা যাচে কেন মোর কাছে ফিরে ফিরে।।

নাটক : ‘সর্বহারা’

রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি

বাণী

রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি’ —
নাচিছে আরবি নটিনী বাঁদি।।
বেদুঈনী সুরে বাঁশি বাজে
রহিয়া রহিয়া তাঁবু মাঝে,
সুদূরে সে-সুরে চাহে ঘোম্‌টা তুলিয়া শাহজাদী।।
যৌবন-সুন্দর নোটন কবুতর নাচিছে মরু-নটী
গাল যেন গোলাপ কেশ যেন খেজুর-কাঁদি।।
চায় হেসে হেসে চায় মদির চাওয়ায়,
দেহের দোলায় রং ঝ’রে যায় ঝর্‌ঝর্‌,
ছন্দে দুলে ওঠে মরু মাঝে আঁধি।।

আজি এ বাদল দিনে

বাণী

আজি এ বাদল দিনে কত কথা মনে পড়ে।
হারাইয়া গেছে পিয়া এমনি বাদল-ঝড়ে।।
	আমারি এ বুকে থাকি’
	ঘুমাত সে ভীরু পাখি,
জলদ উঠিলে ডাকি’ লুকাত বুকের ’পরে।।
মোর বুকে মুখ রাখি নিবিড় তিমির কাঁদে,
আমার প্রিয়ার মত বাঁধিয়া বাহুর বাঁধে।
	কোথায় কাহার বুকে
	আজি সে ঘুমায় সুখে,
প্রদীপ নিভায়ে কাঁদি একা ঘরে তারি তরে।।

দূর দ্বীপবাসিনী

বাণী

দূর দ্বীপ–বাসিনী, চিনি তোমারে চিনি।
দারুচিনির দেশের তুমি বিদেশিনীগো, সুমন্দভাষিণী।।
	প্রশান্ত সাগরে
	তুফানে ও ঝড়ে
শুনেছি তোমারি অশান্ত রাগিণী।।
বাজাও কি বুনো সুর পাহাড়ি বাঁ‍শিতে?
বনান্ত ছেয়ে যায় বাসন্তী–হাসিতে।
	তব কবরী–মূলে
	নব এলাচীর ফুল দুলে
		কুসুম–বিলাসিনী।।

বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি

বাণী

বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি
নীর ভরণে চলে রাধা বিনোদিনী
তার চঞ্চল নয়ন টলে টলমল
যেন দু'টি ঝিনুকে ভরা সাগর জল।।
ও সে আঁখি না পাখি গো
রাই ইতি-উতি চায়
কভু তমাল-বনে কভু কদম-তলায়।
রাই শত ছলে ধীরে পথ চলে কভু কন্টক বেঁধে চরণে
তবু যে কাঁটা-লতায় আঁচল জড়ায় বেণী খুলে যায় অকারণে।
গিয়ে যমুনার তীরে চায় ফিরে ফিরে আনমনে ব'সে গণে ঢেউ
চকিতে কলসি ভরি’লয় তার যেই মনে হয় আসে কেউ।
হায় হায় কেউ আসে না
“ভোলো অভিমান রাধারানী” বলি’ শ্যাম এসে সম্ভাষে না।
রাই চলিতে পারে না পথ আর,
বিরস বদন অলস চরণ শূন্য-কলসি লাগে ভার।
বলি,কালা নাহি এলো যমুনা তো ছিল লইয়া শীতল কালো জল।
কেন ডুবিয়া সে-কলে উঠিলি আবার কাঁদায়ে ভাসাতে ধরাতল।।