এসো এসো রস-লোক বিহারী

বাণী

এসো এসো রস-লোক বিহারী এসো মধুকর-দল।
এসো নভোচারী — স্বপন-কুমার এসো ধ্যান-নিরমল।।
	এসো হে মরাল কমল-বিলাসী,
	বুলবুল পিক সুর-লোক-বাসী,
এসো হে স্রষ্টা এসো অ-বিনাশী এসো জ্ঞান-প্রোজ্জ্বল।।
	দীওয়ানা প্রেমিক এসো মুসাফির —
	ধূলি-ম্লান তবু উন্নত শির,
আমরা-অমৃত-জয়ী এসো বীর আনন্দ বিহ্বল।।
	মাতাল মানব করি’ মাতামাতি
	দশ হাতে যবে লুটে যশ খ্যাতি,
তোমরা সৃজিলে নব দেশ জাতি অগোচর অচপল।।
	খেল চির-ভোলা শত ব্যথা স’য়ে
	সংঘাত ওঠে সঙ্গীত হ’য়ে,
শত বেদনার শতদল ল’য়ে লীলা তব অবিরল।।
	ভুলি’ অবহেলা অভাব বিষাদ
	ধরণীতে আনো স্বর্গের স্বাদ,
লভি’ তোমাদের পুণ্য প্রসাদ পেনু তীর্থের ফল।।

আমার ঘরের মলিন দীপালোকে

বাণী

আমার ঘরের মলিন দীপালোকে
জল দেখেছি যেন তোমার চোখে।।
	বল পথিক বল বল
	কেন নয়ন ছল ছল
কেন শিশির টলমল কমল-কোরকে।।
তোমার হাসির তড়িৎ আলোকে
মেঘ দেখেছি তব মানস-লোকে।
	চাঁদনি রাতে আনো কেন
	পুবের হাওয়ার কাঁদন হেন?
ধূলি ঝড়ে ঢাকল যেন ফুলেল বসন্তকে।।

আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

বাণী

(মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।

কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু

বাণী

কী হবে জানিয়া কে তুমি বঁধু, কি তব পরিচয়?
আমি জানি তুমি মোর প্রিয়তম, সুন্দর প্রেমময়।।
	জগৎ তোমার পায়ে প’ড়ে আছে
	তুমি এসে কাঁদ’ এ দাসীর কাছে,
	হে বিজয়ী! আমার বিজয়ী!
আমি শুধু জানি, তুমি হার মানি’ আমারে করেছ জয়।।
কত যে বিপুল মহিমা তোমার জানতে দিয়ো না প্রিয়,
জনমে জনমে প্রিয়া ব’লে মোরে বক্ষে টানিয়া নিয়ো।
	প্রভাত-সূর্য ভাবি নারায়ণ
	বিশ্ব-প্রণাম করে গো যখন,
একমুঠো কমলিনী হেসে বলে, ‘আমি চিনি
ও-যে মোর প্রিয়, ও-তোর নারায়ণ নয়’।।

গীতি-চিত্র : ‘সে কি তুমি’

আমি রব না ঘরে

বাণী

আমি রব না ঘরে।
ওমা ডেকেছে আমারে হরি বাঁশির স্বরে।।
	আমি আকাশে শুনি আমি বাতাসে শুনি
	ওমা নিশিদিন বাঁশরি বাজায় সে গুণী,
ওমা তাহারি সুরের সুরধুনী বহে অন্তরে বাহিরে ভুবন ভ’রে।।
যবে জাগিয়া থাকি,
হেরি’ শ্রীহরির পদ্ম-পলাশ আঁখি।
যদি ভুলিয়া কভু আমি ঘুমাই মাগো
সে-ঘুম ভেঙে দেয় বলে, জাগো জাগো,
সে শয়নে স্বপনে মোর সাধনা গো —
আমি নিবেদিতা মাগো তাহারি তরে।।

আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা

বাণী

	আমি জানি তব মন বুঝি তব ভাষা
	তব কঠিন হিয়ার তলে জাগে কি গভীর ভালোবাসা।।
	ওগো উদাসীন! আমি জানি তব ব্যথা
	আহত পাখির বুকে বাণ বিধেঁ কোথা
	কোন অভিমান ভুলিয়াছ তুমি ভালোবাসিবার আশা।।
তুমি	কেন হানো অবহেলা অকারন আপনাকে,
প্রিয়	যে হৃদয়ে বিষ থাকে সে হৃদয়ে অমৃত থাকে।
	তব যে বুকে জাগে প্রলয় ঝড়ের জ্বালা
	আমি দেখেছি যে সেথা সজল মেঘের মালা
ওগো	ক্ষুধাতুর আমারে আহুতি দিলে
	মিটিবে কি তব পরানের পিপাসা।।