ভক্ত নরের কাছে হে নারায়ণ

বাণী

ভক্ত নরের কাছে হে নারায়ণ চিরদিন আজ হারি
তাই তো তোমায় নামায়েছি ব্রজে গোলক হইতে কাড়ি।।
চতুর্ভুজের দ্বিভুজ হরিয়া বেঁধেছি যশোদা দুলাল করিয়া
বনমালা পীত বসন পরিয়া হয়েছ ময়ূর মুকুটধারী।।
রাঙা পায়ে তব নূপুর পরায়ে নাচায়েছি পথ মাঝে
হাতে দিয়ে বেণু সাথে দিয়ে ধেণু সাজানু গোপাল সাজে।
ভগবান বলে মোরা না ধেয়াই চোর কপট নিঠুর বলি তাই
সুমধুর গালি দিয়েছি কানাই বামে দিয়ে রাধা প্যারী।।

সখি সেই ত পুষ্প-শোভিতা হ’ল

বাণী

সখি, সেই ত পুষ্প-শোভিতা হ’ল আবার মাধবীলতা।
মাধবী চাঁদ উঠেছে আকাশে, আমার মাধব কোথা।
রাধা আজ নিরাধারা সখি রাধামাধব কোথা।
মধুপ গুঞ্জরে মালতী-বিতানে, নূপুর-গুঞ্জরণ নাহি শুনি কানে।
মোর মনো-মধুবনে মধুপ কানু কই –
আনন্দ-রাস নাই – রাসবিহারী নাই, আমি আর রাধা নই।
সখি পূর্ণ রাসে আমি জনম লভিয়া পুষ্প আহরণ তরে,
কৃষ্ণ-পূজার লাগি পুষ্প আহরণ তরে ধেয়েছিনু বনে অনুরাগ ভরে,
বৃন্দাবনচারী কৃষ্ণে না পেয়ে, রাধা কাঁদে ব্রজ-পথে ধেয়ে ধেয়ে –
‘প্রাণবল্লভ আমার কই গো, সখি আমায় বলে দে গো।’
রাধা হ’ল আজি অশ্রুর ধারা
কৃষ্ঞ-আনন্দিনী রাধা বিনোদিনী কবে হবে শ্রীকৃষ্ণ-হারা।।

সাম্যের গান গাই (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
পুরুষ-হৃদয়হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।
ধরায় যাদের যশ ধরে না ক’ অমর মহামানব,
বরষে বরষে যাদের স্মরণে, করি মোরা উৎসব,
খেয়ালের বশে তাদের জম্ম দিয়াছে বিলাসী পিতা।
লব-কুশে বনে ত্যাজিয়াছে রাম, পালন করেছে সীতা!
নারী সে শিখাল শিশু-পুরুষেরে, স্নেহ প্রেম, দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরল কাজল বেদনার ঘন ছায়া।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যর যুগ আজি,
কেহ রহিবেনা বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি’!
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের যক্ষপুরিতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্‌ সে অত্যাচারী?
যে ঘোম্‌টা তোমা করিয়াছে ভীরু, উড়াও সে আবরণ!
দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন যেথা যত আভরণ!
কখন আসিল “প্লুটো” যমরাজা নিশিথ পাখায় উড়ে,
ধরিয়া তোমায় পুড়িল তাহার আঁধার বিবর-পুরে!
ভেঙ্গে যম্পুরী নাগিনীর মত আয় মা পাতাল ফুঁড়ি’।
আধাঁরে তোমায় পথ দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!
পুরুষ যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও-পদাঘাতে
লুটায়ে পড়িবে ও-চরণ-তলে দলিত যমের সাথে!
সেদিন সুদূর নয়-
যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।

কবিতাঃ নারী (দ্বিতীয় খন্ড)

জয় জয় মা গঙ্গা পতিত পাবনী

বাণী

জয় জয় মা গঙ্গা পতিত পাবনী ভাগীরথী।
হর-শির-বিহারিণী সুরেশ্বরী অগতির গতি।।
মৃতু সাগরের দেশে প্রাণদাত্রী তুমি
তোমার পুণ্যে হল তীর্থ ভারতভূমি,
পাপ-নিবারিণী কলুষ-হারিণী ত্রিলোকতারিণী
		মাগো লহ প্রণতি।।

জাগো বনলক্ষ্মী জোছনা বিগলিত

বাণী

জাগো বনলক্ষ্মী! জোছনা বিগলিত চৈতালি নিশীথে।
রাঙাও দশদিশি লজ্জা-অরুণ রূপ-সজ্জায় বনশ্রীতে।।
	তব আলোছায়ার ডুরে শাড়ির আঁচল
	লুটাক বকুল তলে সুখ-বিহ্বল,
তব লতা কবরী হের পুষ্প ভারে হ’ল —
	অবনমিতা অগ্নি অসম্বৃতে।।
পর গিরি-ঝর্নার শতনরী হার হে বনলক্ষ্মী!
বিহর-শীর্ণা দেহে (নব যৌবনের) জাগুক জোয়ার হে বনলক্ষ্মী!
	ঝংকৃত হোক বনভূমি নিঝ্ঝুম
	পুষ্পিত মাধবীর পর কঙ্কণ,
আলতা পর কলি পলাশ রঙ্গন — ভ্রমর-গুঞ্জন-নূপুর-গীতে।।

১. বিহগিত

নাটক : ‘মধুমালা’ (বন-বালিকাদের গান)

বল্ রে তোরা বল্ ওরে

বাণী

বল্ রে তোরা বল্ ওরে ও-আকাশ-ভরা তারা।
আমার নয়ন-তারা কোথায়? কোথায় হ’ল হারা।।
দৃষ্টিতে তার বৃষ্টি হ’ত তোদের অধিক আলো
আঁধার ক’রে নামার ভুবন কোথায় সে লুকালো,
হাত্‌ড়ে ফিরি আকাশ ভুবন, পাইনে তাহার সাড়া।।
খানিক আগে মানিক আমার ছিল রে এই চোখে,
আলোর কুঁড়ি পড়ল ঝ’রে কোন্ সে গহন-লোকে।
	বলিস্‌ তোরা আলোর রাজায়
	তাঁহার অসীম আলোকসভায়,
কম হ’ত কি আলো, আমার আঁখির আলো ছাড়া।।