আয় আয় যুবতী তম্বী

বাণী

আয় আয় যুবতী তম্বী।
জ্বালো জ্বালো লালসার বহ্নি।।
হান হান হান নয়ন-বাণ
তনুর পেয়ালা ভরি মদিরা আন।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’

ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায়

বাণী

ফাগুন-রাতের ফুলের নেশায় আগুন জ্বালায় জ্বলিতে আসে।
যে-দীপশিখায় পুড়িয়া মরে পতঙ্গ ঘোরে তাহারি পাশে।।
অথই দুখের পাথার-জলে, সুখের রাঙা কমল দোলে
কূলের পথিক হারায় দিশা দিবস নিশা তাহারি বাসে।।
সুখের আশায় মেশায় ওরা বুকের সুধায় চোখের সলিল
মণির মোহে জীবন-দহে বিষের ফণির গরল-শ্বাসে।
বুকের পিয়ায় পেয়ে হিয়ায় কাঁদে পথের পিয়া লাগি’
নিতুই নূতন স্বর্গ মাগি’ নিতুই নয়ন জলে ভাসে।।

তুমি মলিন বাসে থাক যখন

বাণী

তুমি		মলিন বাসে থাক যখন, সবার চেয়ে মানায়!
তুমি		আমার তরে ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়!
			জানি প্রিয়ে জানি জানি,
			তুমি হ’তে রাজার রানী,
		খাট্ত দাসী বাজ্‌ত বাঁশি তোমার বালাখানায়।
তুমি		সাধ ক’রে আজ ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।
দেবী!	তুমি সতী অন্নপূর্ণা, নিখিল তোমার ঋণী,
শুধু		ভিখারিকে ভালোবেসে সাজ্‌লে ভিখারিনী।
			সব ত্যজি’ মোর হ’লে সাথি,
			আমার আশায় জাগ্‌ছ রাতি,
		তোমার পূজা বাজে আমার হিয়ার কানায় কানায়!
তুমি		সাধ ক’রে মোর ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।

চমকে চপলা মেঘে মগন গগন

বাণী

চমকে চপলা মেঘে মগন গগন।
গরজিছে রহি’ রহি’ অশনি সঘন।।
লুকায়েছে গ্রহ-তারা দিবসে ঘনায় রাতি
শূন্য কুটিরে কাঁদি, কোথায় ব্যথার সাথী,
ভীত চমকিত-চিত, সচকিত শ্রবণ।।

মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা

বাণী

	মেঘের হিন্দোলা দেয় পূব-হাওয়াতে দোলা।
কে	দুলিবি এ-দোলায় আয় আয় ওরে কাজ-ভোলা॥
		মেঘ-নটীর নূপুর
		ঐ বাজে ঝুমুর ঝুমুর,
	শীর্ণা-তনু ঝর্না তরঙ্গ-উতরোলা॥
	ফুল-পসারিণী ঐ দুলিছে বনানী
	বিনিমূলে বিলায় সে সুরভি, ফুল ছানি।
আজ	ঘরে ঘরে ফুল-দোল্ সব বন্ধ দুয়ার খোলা॥
		জলদ-মৃদঙ বাজে
		গভীর ঘন আওয়াজে,
	বাদলা-নিশীথ দুলে ঐ তিমির-কুন্তলা॥

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

বাণী

কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।