খেলি আয় পুতুল-খেলা ব’য়ে যায় খেলার বেলা

বাণী

খেলি আয় পুতুল-খেলা ব’য়ে যায় খেলার বেলা সই।
বাবা ঐ যান আপিসে ভাবনা কিসের খোকারা দোলায় ঘুমোয় ঐ।।
দাদা যান ইস্কুলেতে, মা খুড়ি মা রান্না করেন ঐ হেঁসেলে
ঠানদি দাওয়ায় ঝীমায় ব’সে ফোকলা বদন মেলে।
আয় লো ভুলি পঞ্চি টুলি পটলি খেঁদি কই।।

নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই

বাণী

আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায় ওই।
ওই পাহাড়ের ঝর্না আমি, ঘরে নাহি রই গো
				উধাও হ’য়ে বই।।
চিতা বাঘ মিতা আমার গোখ্‌রো খেলার সাথি
সাপের ঝাঁপি বুকে ধ’রে সুখে কাটাই রাতি
ঘূর্ণি হাওয়ার উড়্‌নি ধ’রে নাচি তাথৈ থৈ গো ‘আমি’
				নাচি তাথৈ থৈ।।

চলচ্চিত্র: ‌‘সাপুড়ে’

উঠাও ডেরা এবার দূরে যেতে হবে

বাণী

উঠাও ডেরা এবার দূরে যেতে হবে।
নিবিড় হলে মনের বাঁধন গভীর ব্যথা পেতে হবে।।
	কোথায় শূন্য মরুভূমি
	ডাকো মোদের ডাকো তুমি,
চিড়িয়াখানায় সিংহ গেলে নিঠুর চাবুক খেতে হবে।।
বেদের মেয়ের চোখের জল বনের ঝরা ফুল
বেদের মেয়ে কাঁদে ভাসে নদীর দু’কূল।

নাটিকা : ‘বনের বেদে’

এই যুগল মিলন দেখ্‌ব ব’লে

বাণী

	এই	যুগল মিলন দেখ্‌ব ব’লে ছিলাম আশায় ব’সে।
	আমি	নিত্যানন্দ হলাম, পিয়ে, মধুর ব্রজ-রসে।।
	রাই	বিষ্ণুপ্রিয়া আর কানাই গৌর
	হের	নদীয়ায় যুগল রূপ সুমধুর,
তোরা	দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।
মধুর রাই আর মধুর কানাইরে দেখে যা দেখে যা মধুর মধুর।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দের গান)

মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি

বাণী

মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি।
তুমি ব্রজের বালারে রাই কিশোরীরে
ভুলাইলে যেই রূপ ধরি’।।
হরি বাজায়ো বাঁশরি সেই সাথে,
যে বাঁশি শুনিয়া ধেনু গোঠে যেত উজান বহিত যমুনাতে।
যে নূপুর শুনে ময়ূর নাচিত এসো হে সেই নূপুর পরি।।
নন্দ যশোদা কোলে গোপাল
যে রূপে খেলিতে, ক্ষীর ননী খেতে এসো সেই রূপে ব্রজ দুলাল।
যে পীত বসনে কদম তলায় নাচিতে এসো সে বেশ পরি।।
কংসে বধিলে যে রূপে শ্যাম,
কুরুক্ষেত্রে হলে সারথি এসো সেইরূপে এ ধরাধাম।
যে রূপে গাহিলে গীতা নারায়ণ, এসো সে বিরাট রূপ ধরি।।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর

বাণী

	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
ঐনূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়
	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
	আস্‌ল এবার অনাগত প্রলয়–নেশায় নৃত্য–পাগল,
	সিন্ধু–পারের সিংহ–দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল!
	মৃত্যু–গহন অন্ধকুপে, মহাকালের চন্ড–রূপে ধূম্র–ধূপে
	বজ্র–শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর!
				ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর!
				তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
	দ্বাদশ রবির বহ্নি–জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন–কটায়,
	দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!
		বিন্দু তাহার নয়ন –জলে
		সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে
			কপোল–তলে!
	বিশ্ব –মায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর ‘পর –
			হাঁকে ঐ “জয় প্রলয়ংকর!”
			তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
মাভৈঃ, ওরে মাভৈঃ, মাভৈঃ, মাভৈঃ জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে
জরায়–মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ–লুকানো ঐ বিনাশে।
		এবার মহা–নিশার শেষে
		আসবে ঊষা অরুণ হেসে
			করুণ্ বেশে!
দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু–চাঁদের কর!
			আলো তার ভরবে এবার ঘর!
			তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!