বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে

বাণী

বৃন্দাবনে এ কি বাঁশরি বাজে।
গোপিনী উন্মনা, মন নাহি কাজে।।
কুলবধূ-ঘটে-ঘটে সে-বাঁশি স্বনে
উছলি’ উছলি’ উঠে নীর ক্ষণে ক্ষণে,
নয়ন-সলিল ঝরে গাগরি-মাঝে।।

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়

বাণী

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়
গোরার রূপে এলো ব্রজের শ্যামরায়॥
	মুখে হরি হরি বলে
	হেলে দুলে নেচে চলে
নরনারী প্রেমে গলে ঢলে পড়ে রাঙা পায়॥
ব্রজে নূপুর পরি নাচিত এমনি হরি
কূল ভুলিয়া সবে ছুটিত এমন করি
শচীমাতার রূপে কাঁদিছে মা যশোদা
বিষ্ণু প্রিয়ার চোখে কাঁদে কিশোরী রাধা
নহে নিমাই নিতাই ও যে কানাই বলাই
শ্রীদাম সুদাম এলো জগাই মাধাই-এ হায়॥
আজ এসেছে ভূবন ভুলাতে অসি নাই বাঁশি নাই
ও ভাই এবারে শূন্য হাতে এসেছে ভুবন ভুলাতে।
ও ভাই লীলা পাগল এলো প্রেমে মাতাতে
ডুবু ডুবু নদীয়া বিশ্ব ভাসিয়া যায়॥

উঠুক তুফান পাপ-দরিয়ায়

বাণী

উঠুক তুফান পাপ-দরিয়ায় ওরে আমি কি তায় ভয় করি।
			ও ভাই আমি কি তায় ভয় করি।
পাক্কা ঈমান তক্তা দিয়ে গড়া যে আমার তরী।
			ও ভাই গড়া যে আমার তরী।।
‌‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু'র পাল তুলে,
ঘোর তুফানকে জয় ক'রে ভাই যাবই কূলে,
মোহাম্মদ মোস্তফা নামের (ও ভাই) গুণের রশি ধরি'।।
খোদার রাহে সঁপে দেওয়া ডুববে না মোর তরী,
সওদা ক'রে ভিড়বে তীরে সওয়াব-মাণিক ভরি'।
দাঁড় এ তরীর নামাজ, রোজা, হজ্ ও জাকাত,
উঠুক না মেঘ, আসুক বিপদ — যত বজ্রপাত,
আমি যাব বেহেশত্-বন্দরেতে রে এই সে কিশতিতে চড়ি'।।

আমার লীলা বোঝা ভার

বাণী

আমার লীলা বোঝা ভার।
নদীতে বান আনি আমি আমিই করি পার।।
	আমার যারা করে আশ
	করি তাদের সর্বনাশ,
তবু আশা ছাড়ে না যে মিটাই আশা তার।।

রেকর্ড নাটিকা : ‌‌‘সুভদ্রা’ (নাট্যকার : বরদাপ্রসন্ন দাশগুপ্ত)

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ

বাণী

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ।
তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥
বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে,
বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে।
প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা
দেখি তোমায় আপন ভোলা;
রাজপথেতে লোকের মেলা
	তুমি আপন সুরে অন্ধ॥
বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর
হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর,
বন্ধু তোমার হাতের বীণা
তোমার মতই লজ্জাহীনা
তোমার মতই ছিন্ন ভিনা
	তোমার মতই হত-ছন্দ॥

[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়

বাণী

হেলে দুলে নীর ভরণে ও-কে যায়।
(কিশোরী) ছল ক’রে কলসী নাচায়।।
দুলে দোদুল তনু-লতা, বাহু দোলে, দুলে অঞ্চল চঞ্চল বায়।
দুলে বেণী, দুলে চাবি আঁচলায়।।
নাচে জল-তরঙ্গে তটিনী রঙ্গে জলদ্ দাদ্‌রা বাজায়,
(তার পায়) মম পরান নূপুর হতে চায়।।