এসো এসো রস-লোক বিহারী

বাণী

এসো এসো রস-লোক বিহারী এসো মধুকর-দল।
এসো নভোচারী — স্বপন-কুমার এসো ধ্যান-নিরমল।।
	এসো হে মরাল কমল-বিলাসী,
	বুলবুল পিক সুর-লোক-বাসী,
এসো হে স্রষ্টা এসো অ-বিনাশী এসো জ্ঞান-প্রোজ্জ্বল।।
	দীওয়ানা প্রেমিক এসো মুসাফির —
	ধূলি-ম্লান তবু উন্নত শির,
আমরা-অমৃত-জয়ী এসো বীর আনন্দ বিহ্বল।।
	মাতাল মানব করি’ মাতামাতি
	দশ হাতে যবে লুটে যশ খ্যাতি,
তোমরা সৃজিলে নব দেশ জাতি অগোচর অচপল।।
	খেল চির-ভোলা শত ব্যথা স’য়ে
	সংঘাত ওঠে সঙ্গীত হ’য়ে,
শত বেদনার শতদল ল’য়ে লীলা তব অবিরল।।
	ভুলি’ অবহেলা অভাব বিষাদ
	ধরণীতে আনো স্বর্গের স্বাদ,
লভি’ তোমাদের পুণ্য প্রসাদ পেনু তীর্থের ফল।।

যখন আমার কুসুম ঝরার বেলা তখন তুমি এলে

বাণী

যখন আমার কুসুম ঝরার বেলা তখন তুমি এলে
ভাটির স্রোতে ভাসলো যখন ভেলা পারের পথিক এলে।।
	আঁধার যখন ছাইল বনতল
	পথ হারিয়ে এলে হে চঞ্চল
দীপ নিভাতে এলে হে বাদল ঝড়ের পাখা মেলে।।
শূন্য যখন নিবেদনের থালা তখন তুমি এলে
শুকিয়ে যখন ঝরল বরণ-মালা তখন তুমি এলে।
	নিরশ্রু এই নয়ন পাতে
	শেষ পূজা মোর আজকে রাতে
নিবু নিবু প্রাণ শিখাতে আরতি দীপ জ্বেলে।।

মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে

বাণী

মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে।
তাই কিরে তোর কণ্ঠেরি গান, (ওরে) এমন মধুর লাগে।।
	ওরে গোলাপ নিরিবিলি
	নবীর কদম ছুঁয়েছিলি —
তাঁর কদমের খোশবু আজো তোর আতরে জাগে।।
	মোর নবীরে লুকিয়ে দেখে
	তাঁর পেশানির জ্যোতি মেখে,
ওরে ও চাঁদ রাঙলি কি তুই গভীর অনুরাগে।।
	ওরে ভ্রমর তুই কি প্রথম
	চুমেছিলি তাঁহার কদম,
গুন্‌গুনিয়ে সেই খুশি কি জানাস্‌ রে গুল্‌বাগে।।

তুমি চ’লে যাবে দূরে লায়লী

বাণী

(হায়) 	তুমি চ’লে যাবে দূরে লায়লী তব মজনু কাঁদিবে একা।
	বুঝি পাব না তোমায় জীবনে বুঝি এই নিয়তির লেখা।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’

কোন্ কুসুমে তোমায় আমি

বাণী

কোন্ কুসুমে তোমায় আমি পূজিব নাথ বল বল।
তোমার পূজার কুসুম-ডালা সাজায় নিতি বনতল।।
	কোটি তপন চন্দ্র তারা
	খোঁজে যা’রে তন্দ্রাহারা,
খুঁজি তা’রে ল’য়ে আমার, ক্ষীণ এ-নয়ন ছলছল।।
	বিশ্ব-ভুবন দেউল যাহার
	কোথায় রচি মন্দির তাঁর,
লও চরণে ব্যথায়-রাঙা আমার হৃদয়-শতদল।।

আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই

বাণী

	আল্লা নামের দরখ্‌তে ভাই ফুটেছে এক ফুল।
তাঁরে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।
	পয়গম্বর ফেরেশ্‌তা হুর পরী ফকির ওলি
	খুঁজে জমিন আসমান ভাই দেখতে সে ফুল-কলি,
সে-ফুল	যে দেখেছে সেই হয়েছে বেহেশ্‌তি বুলবুল।।
	আল্লা নামের দরিয়াতে ভাই উঠলো প্রেমের ঢেউ
তারে	কেউ বলে আমিনা দুলাল, মোহম্মদ কয় কেউ,
সে-ঢেউ	যে দেখেছে সে পেয়েছে অকূলের কূল।।
	আল্লা নামের খনিতে ভাই উঠেছে এক মণি
	কোটি কোহিনূর ম্লান হয়ে যায় হেরি’ তার রোশ্‌নি,
সেই	মণির রঙে উঠল রেঙে ঈদের চাঁদের দুল
তারে	কেউ বলে মোস্তফা নবী, কেউ বলে রসুল।।