ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো

বাণী

(মা)	ওমা তোর ভুবনে জ্বলে এত আলো
	আমি কেন অন্ধ মাগো দেখি শুধু কালো॥
মা	সর্বলোকে শক্তি ফিরিস নাচি
	ওমা আমি কেন পঙ্গু হয়ে আছি
	ওমা ছেলে কেন মন্দ হল জননী যার ভালো॥
	তুই নিত্য মহা প্রসাদ বিলাস কৃপার দুয়ার খুলি
	চির শুন্য রইল কেন আমার ভিক্ষা ঝুলি।
	বিন্দু বারি পেলাম না মা সিন্ধুজলে রয়ে
মা	ও তোর চোখের কাছে পড়ে আছি চোখের বালি হয়ে
	মোর জীবন্মৃত এই দেহে মা চিতার আগুন জ্বালো॥

আজকে দোলের হিন্দোলায়

বাণী

আজকে দোলের হিন্দোলায়
	আয় তোরা কে দিবি দোল্‌।
ডাক দিয়ে যায় দ্বারে ঐ
	হেনার কুঁড়ি আমের বোল্।।
আগুন-রাঙা ফুলে ফাগুন লালে-লাল,
কৃষ্ণ-চূড়ার পাশে রঙন অশোক গালে-গাল,
লোল্ হয়ে পড়িল ঐ রাতের জোছনা-আঁচল।।
হতাশ পথিক পথ-বিভোল্,
	ভোল্ আজি বেদনা ভোল্, —
টোল খেয়ে যাক নীল আকাশ
	শুনে তোদের হাসির রোল
দ্বার খু’লে দেখ্ — ফুলেল রাত
	ফুলে ফুলে ডামাডোল্।।

যাবার বেলায় মিনতি আমার

বাণী

যাবার বেলায় মিনতি আমার (শুধু) রাখিও মনে
ডাক দিও গো সাঁঝের ছায়ে সাঙ্গোপনে।।
যখন সন্ধ্যাবধূ আঁকবে রঙের আলপনা
আমার হিয়া দুলবে তখন তোমার প্রদীপ সনে
যখন নিরালাতে গাঁথবে মালা আনমনে।।
(আমি) রইব ঘিরে তোমার মালার গন্ধ সনে (প্রিয় আমার)
আমি দুলিয়ে যাব অলক তব মৃদু পবনে
ওগো একটি মালা গলায় নিও আমার স্মরণে।।

বন্ধু রে বন্ধু — পরান বন্ধু

বাণী

		বন্ধু রে, বন্ধু — পরান বন্ধু
আমার	দূরের বন্ধু আছে আমার ঐ গাঙের পারের গাঁয়ে।
		ঝরা-পাতর পত্র আমার যায় ভেসে তার পায়ে।।
			জানি জানি আমার দেশে
			আমার নেয়ে আসবে ভেসে,
ওরে		চির ঋণী আছে সে যে আমার প্রেমের দায়ে।।
		নূতন আশার পাল তু সে আসবে ফিরে ঘরে
		ফুটেছে তাই কাশ-কুসুমের হাসি শুকনো চরে।
			পিদমি জ্বেলে তারি আশায়
			গহীন গাঙের স্রোতে ভাসায়
ওরে		ঐ পিদিমের পথ ধ'রে সে আসবে সোনার নায়ে।।

আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে

বাণী

	আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে মায়ের কথা পড়লো মনে।
	শূন্য ঘরে মন বসে না গুমরে মরে হিয়ার বনে।।
		আজো সে ঘর সবাই আছে,
		মা কেবলই নেই গো কাছে, — 
	ঐ দাওয়া আর ঐ কানাচে আজো মায়ের স্বরটি রনে।।
	যত্ন কারুর সইতে নারি, কণ্ঠ ছিঁড়ে কান্না আসে;
	ওষ্ঠ চেপে যায় না রাখা, রূপ যে তোমার চক্ষে ভাসে!
		পাইনি মাগো সাতটি বরষ
		একটুকু ক্ষীণ স্নেহের পরশ, — 
(ও মা)	‘বুনো’ তোমার হ’ল না বশ চল্‌লো ফিরে ফের বিজনে।
	হার্‌লো স্নেহ বাঁধন-হারার বাঁধ্‌তে নিয়ে ডোর-সৃজনে।।

১. ঘরকে

এ কোথায় আসিলে হায়

বাণী

এ কোথায় আসিলে হায়, তৃষিত ভিখারি।
হায়, পথ-ভোলা পথিক, হায়, মৃগ মরুচারী।।
	মোর ব্যথায় চরণ ফেলে
	চির-দেবতা কি এলে,
হায়, শুকায়েছে যবে মোর নয়নে নয়ন-বারি।।
তোমার আসার পথে প্রিয় ছিলাম যবে পরান পাতি’,
সেদিন যদি আসিতে নাথ হইতে ব্যথার ব্যথী।
ধোওয়ায়ে নয়ন-জলে পা মুছাতাম আকুল কেশে
আজ কেন দিন-শেষে এলে নাথ মলিন বেশে!
হায়, বুকে ল’য়ে ব্যথা আসিলে ব্যথা-হারী।।
স্মৃতির যে শুকানো মালা যতনে রেখেছি তুলি’
ছুঁয়ে সে হার ঝরায়ো না ম্লান তার কুসুমগুলি,
হায়, জ্বলুক বুকে চিতা, তা’য় ঢেলো না আর বারি।।