নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে

বাণী

নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে
তালে তালে ভুঁড়ি নাড়ে (হাঁরে)।।
নাচে কাবলিওয়ালা আগা হেলায় দাড়ি
নাচে ইয়া গোঁফওয়ালা প’রে ঘাঘরি শাড়ি।
নাচে পান্ডাজী ধপাস্ ধপাস্
নাচে যুপী বুড়ি থপাস্  থপাস্
ফোঁপরা ঢেঁকিতে যেন চাল কাঁড়ে।।
নাচে তাড়তা হিড়িম্বে শূর্পণখা
নাচে উচ্চিংড়ে আরশোলা গুবরে পোকা
নাচে কিক্কড় কাল্লু গামা, নাচিছে ধুচুনি নাচিছে ধামা
নাচিছে ডুয়েট ঘটোৎকচ গোপাল ভাঁড়ে।।
নাচে নানা মিঞা হায় হায় ঘুরিয়ে লুঙ্গি
নাচে মাদ্রাজি উড়িয়া মগ বার্মিজ ফুঙ্গি
তাকিয়ার খোল পরে বল নাচে
সায়েবের সাথে মেম পাছে পাছে
ঘুরে ঘুরে যেন গরু ধান মাড়ে।।

নিয়ে কাদা মাটির তাল খেলে হোরি

বাণী

[ছ্যারা রারা রারা রারা হোলি হ্যায়]
নিয়ে কাদা মাটির তাল খেলে হোরি ভূতের পাল।
নর্দমা হতে ছিটায় কর্দম হর্দম ‘কাহার’ চাঁড়াল।।
দুই পাশের পথিকের গায়, কাদা ছিটিয়ে মোটর যায়,
নল দিয়ে ঐ জল ছিটায় ফুটপাথে উড়িয়া-দুলাল।।
হুরর গুয়ে গ্যাঁদাল ঘেঁটুর চারা, যা চলে যা ছাপরা আরা,
নিয়ে আয় বৃন্দাবনের হোলির কাদা, মূলতানী বলদের নাদা।
ছ্যারা রারা রারা রারা ছ্যারা রারা রারা রারা,
ডাল রুটি রুটি ডাল ডাল রুটি রুটি ডাল
রুটি ডাল রুটি ডাল ডাল, রুটি ডাল রুটি ডাল ডাল
মেখে চুকে মেখে চুকে গো-চোনারই গোলাপ জল
ছিটায় ভাগলপুরী গাই।
ঝি ঢেলে দেয় ছাত থেকে গোবর-গোলা আকার ছাই।
দেয় ফেলে পিকদানীর পিচ কাপড় চোপড় লালে লাল।।
[হোলি হ্যায় হোলি]
ভুঁড়িতে ফুঁড়িছে ডাক্তার পিচকারিতে হোলি হ্যায়!
টক্কর খেয়ে উল্টে পড়ে ময়লা গাড়ি হোলি হ্যায়!
ষাঁড়ের গুঁতোয় পড়ে খানায় খেলে হোরি পাঁড় মাতাল।।
[কি ব্যাপার রাই মাছের চপ হয়ে গেছি বাবা!]

‘হোরির হর্‌রা’

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে

বাণী

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে
মায়ের পায়ের ফুল কুড়িয়ে বেঁধেছি মোর শিরে॥
	মা’র চরণামৃত খেয়ে
	অমৃতে প্রাণ আছে ছেয়ে,
দুঃখ অভাব ভাবনার ভার দিয়েছি মা ভবানীরে॥
তারা নামের নামাবলী জড়িয়ে আমার বুকে,
মায়ের কোলে শিশুর মত ঘুমাই পরম সুখে।
	মা’র ভক্তের চরণ ধূলি
	নিয়েছি মোর বক্ষে তুরি
মায়ের পূজার প্রসাদ পেতে আমি আসি ফিরে ফিরে॥

রাখ রাখ রাঙা পায় হে শ্যামরায়

বাণী

রাখ রাখ রাঙা পায়, হে শ্যামরায়!
ভুলে গৃহ স্বজন সবই সঁপেছি তোমায়॥
সংসার মরু ঘোর, নাহি তরু-ছায়া,
নব নীরদ শ্যাম, আনো মেঘ-মায়া;
আনন্দ-নীপবনে নন্দ-দুলাল এসো,
বাহও উজান, হরি, অশ্রুর যমুনায়॥
একা জীবন মোর গহন ঘন ঘোর,
এসো এ বনে বনমালী, গোপ কিশোর,
কুঞ্জ রচেছি দুখ-শোক তমাল-ছায় -  
প্রেম-প্রীতির গোপী চন্দন শুকায়ে যায়॥
দারা সুত প্রিয়জন, হরি হে, নাহি চাই,
পদ্মা-পলাশ-আঁখি যদি দেখিতে পাই;
রাখাল-রাজা এসো, এসো হে ঋষিকেশ,
গোকুলে লহ ডাকি’, অকূলে ভাসি হায়॥

তুমি কে গো কে

বাণী

তুমি কে গো (কে কে কে) তুমি মোদের বন-দেবতা।
আমরা বনশ্রী, তোমার পূজারিণী ধ্যান-রতা — হে বন-দেবতা।।
১মা	:	আমি মালতী মুকুল
২য়	:	আমি ব্যাকুলা বকুল
৩য়া, ৪র্থা, ৫মা	:	মোরা গণহীনা অশোক-পলাশ-শিমুল।
৬ষ্ঠা	:	আমি (আঁখি) জলের কমল
৭মা	:	আমি মাধবীলতা।।
৮মা	:	আমি গিরি-মল্লিকা
৯মা	:	আমি হাস্নুহানা
১০মা	:	আমি ছোট ডুমো ফুল, রই চির-অজানা
১১শী	:	আমি ঝর্নাধারা, কেঁদে কেঁদে ব’য়ে যাই।
১২শী	:	আমি দিনের ভাদ্র-বৌ, চাঁদের কুমুদ
১৩শী	:	আমি পাখির গান, বনভূমির কথা।।

নাটক : ‘মধুমালা’

আমি যার নূপুরের ছন্দ

বাণী

আমি যার নূপুরের ছন্দ বেণুকার সুর - 
কে সেই সুন্দর কে! 
আমি যার বিলাস-যমুনা বিরহ-বিধুর 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যাহার গানের আমি বনমালা 
আমি যার কথার কুসুম-ডালা, 
না-দেখা সুদূর - 
কে সেই সুন্দর কে।। 
যার শিখী-পাখা লেখনী হয়ে 
গোপনে মোরে কবিতা লেখায় 
সে রহে কোথায় হায়! 
আমি যার বরষার আনন্দ-কেকা 
নৃত্যের সঙ্গিনী দামিনী-রেখা, 
যে মম অঙ্গে কাঁকন-কেয়ূর 
কে সেই সুন্দর কে।।