তুমি দুখের বেশে এলে বলে

বাণী

তুমি দুখের বেশে এলে বলে ভয় করি কি হরি।
দাও ব্যথা যতই তোমায় ততই নিবিড় করে ধরি।
			আমি ভয় করি কি হরি।।
	আমি শূন্য করে তোমার ঝুলি
	দুঃখ নেব বক্ষে তুলি,
আমি করব দুঃখের অবসান আজ সকল দুঃখ বরি।।
	কত সে মন কত কিছুই
	হজম করে ফেলি নিতুই,
এক মনই তো দুঃখ দেবে তারে নাহি ডরি।।
	তুমি তুলে দিয়ে সুখের দেয়াল,
	ছিলে আমার প্রাণের আড়াল,
আজ আড়াল ভেঙে দাঁড়ালে মোর সকল শূন্য হরি।।

তুমি কি আসিবে না

বাণী

তুমি কি আসিবে না
বলেছিলে তুমি আসিবে আবার ফুটিবে যবে হেনা।।
	সেদিন ঘুমায়ে ছিল যে মূকুল
	আজি সে পূর্ণ বিকশিত ফুল
সেদিনের ভীরু অচেনা হৃদয় আজি হতে চায় চেনা।।
ঘন পল্লব গুণ্ঠন ঢাকা ছিল সেদিন যে লতা
আজিকে পুষ্প নিবেদন ল’য়ে কহিতে চায় যে কথা।
	প্রদীপ জ্বালায়ে আজি সন্ধ্যায়
	পথ চেয়ে আছি তোমারি আশায়
পূর্ণিমা-তিথি আসিল, হে চাঁদ-অতিথি আসিলে না।।

শ্রী রঘুপতি রাম লহ প্রণাম

বাণী

দ্বৈত	:	শ্রী রঘুপতি রাম
		লহ প্রণাম শ্রী রঘুপতি রাম
		নব দূর্বাদল শ্যাম অভিরাম।
স্ত্রী	:	সুরাসুর কিন্নর যোগী ঋষি নর
পুরুষ	:	চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥
স্ত্রী	:	সরযূ নদীর জল ছল ছল কান্তি
পুরুষ	:	ঢল ঢল অঙ্গ ললাটে প্রশান্তি
স্ত্রী	:	নাম স্মরণে টোটে শোক তাপ ভ্রান্তি
দ্বৈত	:	পদারবিন্দে মূরছিত কোটি কাম॥
স্ত্রী	:	জানকী বল্লভ সুঠাম অঙ্গ
পুরুষ	:	পরশে নিমেষে হয় হরধনু ভঙ্গ
দ্বৈত	:	রাবণ ভয় হরে যাঁহার নাম॥
স্ত্রী	:	পিতৃ সত্যব্রত পালনকারী
পুরুষ	:	চির বল্কলধারী কাননচারী
দ্বৈত	:	প্রজারঞ্জন লাগি সর্বসুখ ত্যাগী
		যে নামে ধরা হল আনন্দধাম॥

স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই

বাণী

স্বপন যখন ভাঙবে তোমার দেখবে আমি নাই।
মোরে শূন্য তোমার বুকেরি কাছে খুজবে গো বৃথাই।।
	দেখবে জেগে বাহুর পরে
	আছে নীরব অশ্রু ঝ'রে
কাছ থেকেও ছিলাম দূরে যাই গো চলে যাই।।
কাঁটার মতো ছিলাম বিধে আমি তোমার বুকে,
বিদায় নিলাম চিরতরে ঘুমাও তুমি সুখে (ওগো)।
	একলা ঘরে জেগে ভোরে
	হয়তো মনে পড়বে মোরে,
দূরে স'রে হয়তো পাব অন্তরেতে ঠাঁই।।

শুকালো মিলন-মালা আমি তবে যাই

বাণী

শুকালো মিলন-মালা, আমি তবে যাই।
কি যেন এ নদী-কূলে খুঁজিনু বৃথাই।।
	রহিল আমার ব্যথা
	দলিত কুসুমে গাঁথা,
ঝুরে’ বলে ঝরা পাতা — ‘নাই কেহ নাই’।।
যে-বিরহে গ্রহ-তারা সৃজিল আলোক,
সে-বিরহে এ জীবন জ্বলি’ পুণ্য হোক।
	চক্রবাক চক্রবাকী
	করে যেমন ডাকাডাকি,
তেমনি এ কূলে থাকি’ ও-কূলে তাকাই।।

মদির স্বপনে মম বন-ভবনে

বাণী

মদির স্বপনে মম বন-ভবনে
জাগো চঞ্চলা বাসন্তিকা, ওগো ক্ষণিকা।।
মোর গগনের উল্কার প্রায়
চমকি ক্ষণেক চকিতে মিলায়
তোমার হাসির যুঁই-কণিকা।।
পুষ্প ধনু তব মন-রাঙানো
বঙ্কিম ভুরু হানো হানো।
তোমার উতল উত্তরীয়
আমার চোখে ছুঁইয়ে দিও (প্রিয়)
আমি হব (ওগো) তোমার মালার মণিকা।।