নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল

বাণী

নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল,
মোর প্রাণে মোর মনে, এসো ব্রজগোপাল॥
এসো নূপুর রুনুঝুনু পায়ে, এসো প্রেম যমুনা নাচায়ে
এসো বেণু বাজায়ে, এসো ধেনু চরায়ে এসো কানাই রাখাল॥
ঝুলনে হোরিতে রাসে, এসো কুরুক্ষেত্র রণে এসো প্রভাসে,
(এসো) শিশু রূপে, এসো কিশোর বেশে
এসো কংস, অরি, এসো মৃত্যুকরাল॥

ব্যথার উপরে বঁধু ব্যথা দিও না

বাণী

ব্যথার উপরে বঁধু ব্যথা দিও না
দলিত এ হৃদি মম দ’লে যেয়ো না ॥
		ল’য়ে কত সাধ আশা
		তোমার দুয়ারে আসা
(বঁধু) দিলে যদি আলোবাসা ফিরে নিয়ো না॥
স্রোতের কুসুম প্রায় ভাসিতাম অসহায়
তুলে নিয়ে বুকে তারে ফেলে দিলে পুনরায়।
		নিরদয় এ কি খেলা
		প্রাণ নিয়ে হেলাফেলা
খেলার লাগিয়া ভালবাসিও না॥

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম

বাণী

বুকে তোমায় নাই বা পেলাম রইবে আমার চোখের জলে।
ওগো বঁধু! তোমার আসন গভীর ব্যথায় হিয়ার তলে।।
	আসবে যখন তিমির রাতি
	রইবে না কেউ জাগার সাথী,
আসবে সে-দিন জ্বালব বাতি — মুছব নয়ণ-জল আঁচলে।।
নাইবা হলাম প্রিয় তোমার, বন্ধু হ’তে দোষ কি বঁধু?
মুখের ‘মধু’র তৃষ্ণা শেষে আমি দিব বুকের মধু।
আমি ভালোবাসিনি ত’, ভালোবাসা পাবার ছলে।।
	বাহুর পাশে প্রিয়ায় বেঁধে’
	আমার তরে উঠ্‌বে কেঁদে,
সেই তো আমার জয় গো, প্রিয়, অন্তরে রই, রই না গলে।।

জীবন যাপন করিতে

বাণী

জীবন যাপন করিতে,
চাষ কর বিধিমতে,
রবে যদি সুখেতে —
		এই পৃথিবী মাঝার।।
জমি ‘উগালে’ ‘সামালে’
বীজ ফেলাও কুতুহলে,
পাবে তবে সেই ফসলে —
		মেহনতের সার।।
লাগাও ধান প্রধান ফসল,
তরকারি কলাই সকল,
দাও সময় মত জল —
		যাতে প্রাণ বাঁচে তার।।
অরি হতে ফসলে
রক্ষা কর সকলে,
নজরুল এসলাম বলে —
		নইলে বাঁচা হবে ভার।।

লেটো গান : ‘চাষার সঙ’

ওরে যোগ-সাধনা পরে হবে

বাণী

ওরে	যোগ-সাধনা পরে হবে নাম জপ্ তুই আগে।
	সকল কাজে সকাল সাঁঝে গভীর অনুরাগে।।
	ওরে	যে ঠাকুরে পরান যাচে
	সে	নামের মাঝে লুকিয়ে আছে,
যেমন	বীজের মাঝে মহাতরু সঙ্গোপনে জাগে।।
	বীজ না বুনে আগে ভাগেই ফসল খুঁজিস্ তুই,
	তাই চিরকাল পোড়ো জমি রইল মনের ভুঁই।
তোর	কোন্ পথ নাম জপের শেষে
	দেখিয়ে দেবেন তিনিই এসে,
তোর	জীবন হবে প্রেমে রঙীন রঙ যদি রে লাগে।
	তাঁর মধুর নামের রঙ যদি রে লাগে।।

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে

বাণী

আবার ভালোবাসার সাধ জাগে।
সেই পুরাতন চাঁদ আমার চোখে আজ নূতন লাগে।।
	যে ফুল দলিয়াছি নিঠুর পায়ে
	সাধ যায় ধরি তারে বক্ষে জড়ায়ে,
উদাসীন হিয়া হায় রেঙে ওঠে অবেলায় সোনার গোধূলি-রাগে।।
আবার ফাগুন-সমীর কেন বহে,
আমার ভুবন ভরি’ কেঁদে ওঠে বাঁশরি অসীম বিরহে।
	তপোবনের বুকে ঝর্নার সম
	কে এলে সহসা হে প্রিয়তম,
মাথুরের গোকুল সহসা রাঙাইলে রাসের কুঙ্কুম-ফাগে।।