আজি মধুর গগন মধুর পবন

বাণী

আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে

বাণী

চল সখি জল নিতে চল ত্বরিতে।
শ্রান্ত দিনের রবি ডোবে সরিতে।।
	ঘিরিছে আঁধার
	তটিনী-কিনার,
গোধূলির ছায়া পড়ে বন-হরিতে।।
ধেনু ডাকা বেণু বাজে বংশী-বটে,
পাখি ওড়ে, আঁকা যেন আকাশ-পটে।
	বধূ ঘাটে যায়,
	বঁধু পথে যায়,
চিনি চিনি বাজে চুড়ি গাগরিতে।।

মৃদুল মন্দে মঞ্জুল ছন্দে

বাণী

মৃদুল মন্দে			মঞ্জুল ছন্দে
মরাল মদালস			নাচে আনন্দে।।
তরঙ্গ হিন্দোলে		শতদল দোলে
শিশু অরুণে জাগায়		অমা-যামিনীর কোলে
শুষ্ক কানন ভরে		বকুল গন্ধে।।
নন্দন-উপহার			ধরণীর ক’রে
শুভ্র পাখায় শুভ		আশিস ঝরে।
মিলন, বসন্তের		দূত আগমনী
কণ্ঠে সুমঙ্গল			শঙ্খের ধ্বনি
কুহু কেকা গাহে		মধুর ছন্দে।।

নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর

বাণী

যুগ যুগ ধরি লোকে-লোকে মোর
		প্রভুরে খুঁজিয়া বেড়াই;
সংসারে গেহে , প্রীতি ও স্নেহে
	আমার স্বামী বিনে নাই সুখ নাই।।
তার	চরণ পাবার আশা ল'য়ে মনে
	ফুটিলাম ফুল হয়ে কত বার বনে,
		পাখি হয়ে তার নাম
		শত বার গাহিলাম
	তবু হায় কভু তার দেখা নাহি পাই।।
	গ্রহ তারা হয়ে খুঁজেছি আকাশে,
	দিকে দিকে ছুটেছি মিশিয়া বাতাসে,
		পর্বত হয়ে নাম
	কোটি যুগ ধিয়ালাম,
	নদী হয়ে কাঁদিলাম খুঁজিয়া বৃথাই।।

এসো এসো বন ঝরনা

বাণী

এসো এসো বন ঝরনা উচ্ছল-চল-চরণা।
সর্পিল ভঙ্গে লুটায়ে তরঙ্গে ফেন-শুভ্র-ওড়না।।
	পাষাণ জাগায়ে এসো নির্ঝরিণী
	এসো প্রাণ-চঞ্চলা জল-হরিণী
মরু-তৃষিতের বুকে ঢালো ধারা জল-শ্যাম মেঘ-বরণা।।
এসো বুনো পথ বেয়ে অকারণ গান গেয়ে,
গভীর অরণ্যের মৌনব্রত ভেঙে ভয়হীন পাহাড়ি মেয়ে।
	নৃত্য পরা পায়ে ছন্দ আনো
	আনন্দ আনো মৃত প্রাণ জাগানো,
অনাবিল হাসির ঝরাফুল ছড়ায়ে এসো মঞ্জুলা মনোহরণা।।

বনে চলে বনমালী বনমালা দুলায়ে

বাণী

বনে চলে বনমালী বনমালা দুলায়ে।
তমালে কাজল-মেঘে শ্যাম-তুলি বুলায়ে।।
ললিত মধুর ঠামে
কভু চলে কভু থামে,
চাঁচর চিকুরে বামে —
	শিখি-পাখা ঢুলায়ে।।
ডাকিছে রাখাল-দলে
‘আয় রে কানাই’ ব’লে,
ডাকে রাধা তরুতলে —
	ঝুলনিয়া ঝুলায়ে।।
যমুনার তীর ধরি’
চলিছে কিশোর হরি,
বাজে বাঁশের বাঁশরি —
	ব্রজনারী ভুলায়ে।।