ভৈরবী মিশ্র

  • আনন্দ রে আনন্দ আনন্দ আনন্দ

    বাণী

    আনন্দ রে আনন্দ, আনন্দ আনন্দ,
    দশ হাতে ঐ দশ দিকে মা ছড়িয়ে এলো আনন্দ।
    ঘরে ফেরার বাজল বাঁশি, বইছে বাতাস সুমন্দ॥
    আমার মায়ের মুখে হাসি, শরত-আলোর কিরণরাশি,
    কমল বনে উঠছে ভাসি, মায়ের গায়ের সুগন্ধ॥
    উঠলো বেজে দিগ্বিদিকে ছুটির মাদল মৃদঙ্গ,
    মনের আজি নাই ঠিকানা, যেন বনের কুরঙ্গ।
    দেশান্তরী ছেলেমেয়ে, মায়ের কোলে এলো ধেয়ে,
    শিশির নীরে এলো নেয়ে স্নিগ্ধ অকাল বসন্ত॥
    
  • আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে

    বাণী

    আমি প্রভাতী তারা পূর্বাচলে
    আশা-প্রদীপ আমি নিশির শীশ-মহলে।।
    রাতের কপোলে আমি ছলছল অশ্রুর জল,
    আমি ধরণীতে হিম-কণা টলমল, নব দুর্বাদলে।।
    নব অরুণোদয়ের আমি ইঙ্গিত
    বিহগ-কণ্ঠে আমি জাগাই শুভ-সঙ্গীত।
    আমিকনক-কদম তিমির নীপ শাখায়
    আমিমধ্যমণি মালিকায়, শ্যাম গগন-গলে।।
    

  • একি সুরে (কোন্‌ সুরে) তুমি গান শুনালে

    বাণী

    একি সুরে (কোন্ সুরে) তুমি গান শুনালে ভিনদেশি পাখি
    এ যে সুর নহে, মদির সুরা, রে সুরের সাকি।।
    		বসি’ মোর জানালা পাশে
    		কেন বুক-ভাঙা নিরাশে
    যাও ঘুম ভাঙায়ে নিতি সকরুণ সুরে ডাকি।।
    তোর ও সুরে কাঁদছে ঊষা অস্ত চাঁদের গলা ধ’রে
    ভোর-গগনের কপোল বেয়ে শিশির-অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
    		আমি রইতে নারি ঘরে
    		কেন প্রাণ কেমন করে
    আমার মন লাগে না কাজে, আর জলে ভরে আঁখি।।
    
  • কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

    বাণী

    কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
    জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
    কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
    বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
    জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
    ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
    জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
    সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
    কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
    চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
    এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।
    
  • কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়

    বাণী

    কোন্‌ দূরে ও-কে যায় চ’লে যায়, সে ফিরে ফিরে চায় করুণ চোখে।
    তার	স্মৃতি মেশা হায়, চেনা-অচেনায় তারে দেখেছি কোথায়
    					যেন সে-কোন্ লোকে।।
    শুনি	স্বপ্নে তারি যেন বাঁশি মন-উদাসী
    তারি	বার্তা আসে নব মধু-মাসে, পলাশ আশোকে।।
    	কৃষ্ণচূড়া তার মালা লুটায় — চৈত্র-শেষে বনের ধূলায়
    	কান্না-বিধুর তার ভৈরবী সুর প্রভাতী তারায় অশ্রু ঘনায়,
    					চির-বিরহী চিনি ওকে।।
    
  • জাগো কৃষ্ণকলি জাগো কৃষ্ণকলি

    বাণী

    	জাগো কৃষ্ণকলি, জাগো কৃষ্ণকলি।
    	মধুকরের মিনতি মানো, ডাকে জাগো বলি’,
    					বিহগ-কাকলি।।
    	তব দ্বারে বারে বারে মন-উদাসী
    	ভোরের হাওয়া এসে বাজায় বাঁশি,
    	ফিরে গেল ভ্রমরা মউ-পিয়াসি — 
    	অযথা বিতানে কানে কথা বলি।।
    হের	হাতের তার ফুলঝুরি ফেলে’ ধূলায়
    	উদাসী বসন্ত মাগে বিদায়,
    	দীরঘ-শ্বাস ফেলি’ ঝরা পাতায়।
    চাহে	রঙিন ঊষা তব রঙের আভাস
    তব	লাল আভায় লজ্জা পায় হিঙুল পলাশ।
    এলো	কোকিল তোমার রঙে খেল্‌তে হোলি।।
    
  • জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে

    বাণী

    জানি জানি তুমি আসিবে ফিরে।
    আবার উঠিবে চাঁদ নিরাশার তিমিরে।।
    	নিঝুম কাননে থাকি
    	ডাকিবে গানের পাথি,
    দখিন-সমীরণ আবার বহিবে ধীরে।।
    আবার গাঙের জলে আসিবে জোয়ার
    জ্বলিবে আশায় দীপ, রবে না আঁধার।
    	তোমার পরশ লেগে
    	ঘুম মোর যাবে ভেঙে,
    একদা প্রভাতে প্রিয় আকুল নয়ন-নীরে।।