ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে

বাণী

ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে
থাকিতে দে লো এ পথে পড়ে
যে পথ ধরে গিয়াছে হরি চলি’
আমি যাব না আর গোকুলে,
সখি শিশিরে আর ভয় কি করি ভেসেছি যবে অকূলে
সখি দিসনে লো দিসনে লো রাখ গোপী-চন্দন,
চন্দনে জুড়ায় না প্রাণের ক্রন্দন।
দ্বিগুণ বাজায় জ্বালা নব মালতী-মালা,
ও যে মালা নয়, মনে হয় সাপিনীর বন্ধন।।
সখি যাহার লাগিয়া বসন ভূষণ, সেই গেল যদি চলে
কি হবে এ ছার ভূষণের ভার ফেলে দে যমুনা-জলে।
সকলের মায়া কাটায়েছি সখি, টুটিয়াছে সব বন্ধন,
যেতে দে আমায়, যথা মথুরায় বিহরে নন্দ-নন্দন।।
দেখব তারে, রাজার সাজে দেখব তারে
রাজার সাজে কেমন মানায় গো-রাখা রাখাল-রাজে।

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ

বাণী

তোমার বাণীরে করিনি গ্রহণ ক্ষমা কর হজরত।
মোরা	ভুলিয়া গিয়াছি তব আদর্শ, তোমারি দেখানো পথ ॥
	বিলাস-বিভব দলিয়াছ পায় ধূলি সম তুমি, প্রভু,
	তুমি চাহ নাই আমরা হইব বাদশা-নবাব কভু।
	এই ধরণীর ধন-সম্ভার - সকলেরি তাহে সম অধিকার;
	তুমি বলেছিলে ধরণীতে সবে সমান পুত্র-বৎ ॥
প্রভু	তোমার ধর্মে অবিশ্বাসীরে তুমি ঘৃণা নাহি ক’রে
	আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
	ভিন্ ধর্মীর পূজা-মন্দির, ভাঙিতে আদেশ দাওনি, হে বীর,
প্রভু	আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারিনে’ক পর-মত ॥
	তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,
	তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।
	মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা
	সার করিয়াছি ধর্মন্ধতা,
	বেহেশ্‌ত্‌ হ’তে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত ॥

আমি রব না ঘরে

বাণী

আমি রব না ঘরে।
ওমা ডেকেছে আমারে হরি বাঁশির স্বরে।।
	আমি আকাশে শুনি আমি বাতাসে শুনি
	ওমা নিশিদিন বাঁশরি বাজায় সে গুণী,
ওমা তাহারি সুরের সুরধুনী বহে অন্তরে বাহিরে ভুবন ভ’রে।।
যবে জাগিয়া থাকি,
হেরি’ শ্রীহরির পদ্ম-পলাশ আঁখি।
যদি ভুলিয়া কভু আমি ঘুমাই মাগো
সে-ঘুম ভেঙে দেয় বলে, জাগো জাগো,
সে শয়নে স্বপনে মোর সাধনা গো —
আমি নিবেদিতা মাগো তাহারি তরে।।

ও কে উদাসী বেণু বাজায়

বাণী

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
	গৃহীরে করে সে পরবাসী
	রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

মেঘ মেদুর বরষায় কোথা তুমি

বাণী

মেঘ মেদুর বরষায় কোথা তুমি
ফুল ছাড়ায়ে কাঁদে বনভূমি।।
ঝুরে বারিধারা
ফিরে এসো পথহারা
কাঁদে নদী তট চুমি’।।

মোর প্রথম মনের মুকুল

বাণী

মোর	প্রথম মনের মুকুল
	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
			উড়ে গেল গহন-বনে।।
	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।