ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে

বাণী

ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥

নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে

বাণী

নন্দন বন হতে কি গো ডাকো মোরে আজো নিশীথে
ক্ষণে ক্ষণে ঘুম হারা পাখি কেঁদে ওঠে করুন-গীতে।।
	ভেঙে যায় ঘুম চেয়ে থাকি
	চাহে চাঁদ ছলছল আখিঁ
ঝরা চম্পার ফুল যেন কে ফেলে চলে যায় চকিতে।।
সহিতে না তিলেক বিরহ ছিলে যবে জীবনের সাতি,
ব'লে যাও আজ কোন অমরায় কেমনে কাটাও দিবারাতি।।
	জীবনে ভুলিলে তুমি যারে
	তারে ভুলে যাও মরনের ওপারে
আঁধার ভুবনে মোরে একাকী দাও মোরে দাও ঝুরিতে।।

গাগরী ভরণে চলে চপলা

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।

তুমি মলিন বাসে থাক যখন

বাণী

তুমি		মলিন বাসে থাক যখন, সবার চেয়ে মানায়!
তুমি		আমার তরে ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়!
			জানি প্রিয়ে জানি জানি,
			তুমি হ’তে রাজার রানী,
		খাট্ত দাসী বাজ্‌ত বাঁশি তোমার বালাখানায়।
তুমি		সাধ ক’রে আজ ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।
দেবী!	তুমি সতী অন্নপূর্ণা, নিখিল তোমার ঋণী,
শুধু		ভিখারিকে ভালোবেসে সাজ্‌লে ভিখারিনী।
			সব ত্যজি’ মোর হ’লে সাথি,
			আমার আশায় জাগ্‌ছ রাতি,
		তোমার পূজা বাজে আমার হিয়ার কানায় কানায়!
তুমি		সাধ ক’রে মোর ভিখারিনী, সেই কথা সে জানায়।।

কার বাঁশরি বাজে মূলতানী-সুরে

বাণী

কার		বাঁশরি বাজে মূলতানী-সুরে
			নদী-কিনারে কে জানে।
সে 		জানে না কোথা সে সুরে
			ঝরে ঝর-নিঝর পাষাণে।।
একে		চৈতালী-সাঁঝ আলস
তাহে		ঢলঢল কাঁচা বয়স,
রহে		চাহিয়া, ভাসে কলস,
ভাসে		হৃদি বাঁশুরিয়া পানে।।
বেণী		বাঁধিতে বসি’ অঙ্গনে
বধু		কাঁদে গো বাঁশরি-স্বনে।
যারে		হারায়েছে হেলা-ভরে
তারে		ও সুরে মনে পড়ে,
		বেদনা বুকে গুমরি’ মরে
			নয়ন ঝুরে বাধা না মানে।।

লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্ গো আবার

বাণী

লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্ গো আবার সাগর জলে সিনান করি’।
হাতে ল’য়ে সোনার ঝাঁপি, সুধার পাত্রে সুধা ভরি’।।
আন্ মা আবার আঁচলে তোর নবীন ধানের মঞ্জরি সে,
টুনটুনিতে ধান খেয়েছে, খাজনা মাগো দিব কিসে।
ডুবে গেছে সপ্ত-ডিঙা, রত্ন বোঝাই সোনার তরী।।
ক্ষীরোদ-সাগর-কন্যা যে তুই, খেতে দে ক্ষীর সর মা আবার,
পান্তা লবণ পায় না ছেলে, জননী তোর এ কোন বিচার?
কার কাছে মা নালিশ করি, অনন্ত শয়নে হরি।।
তোরও কি মা ধর্‌ল ঘুমে নারায়ণের ছোঁয়াচ লেগে,
বর্গী এল দেশে মাগো, খোকারা তোর কাঁদে জেগে।
এসে এবার ঘুম পাড়া মা, মাগো ভয়ে ক্ষিদেয় মরি।।
কোন্‌ দুখে তুই রইলি ভুলে বাপের বাড়ি অতল-তুলে,
ব্যথার সিন্ধু মন্থন শেষ, ভ’রল যে দেশ হলাহলে।
অমৃত এনে সন্তানে তোর, বাঁচা মা, তোর পায়ে ধরি।।