জল ছল ছল এসো মন্দাকিনী

বাণী

জল ছল ছল এসো মন্দাকিনী।
রস-ঢলঢল বারি-সঞ্চারিণী।।
হৃদয়-গগন আজি তৃষ্ণা-ভরে
উতল হইল প্রেম-গঙ্গা-তরে,
মুদিত নয়ন খোলো বৈরাগিনী।।
বিরস ভুবন রাখ সঞ্জীবিতা
সজল সলিল আনো হিল্লোলিতা,
ঝর ঝর ঝর স্রোত-উন্মাদিনী।।

তুমি কেন এলে পথে

বাণী

তুমি কেন এলে পথে
ঝরা মল্লিকা ভাসাইতেছিনু
	একাকিনী নদী-স্রোতে।।
কলসি আমার অলস খেলায়
ধীর তরঙ্গে যদি ভেসে' যায়
তীরে সে কলসি তুলে' আনো তুমি
	কেন নদী' জল হ'তে।।
আমার নিরালা বনে
আমি গাঁথি হার, তুমি গান গাহি'
	ধ্যান ভাঙো অকারণে।
আমি মুখ হেরি' আরশিতে একা
তুমি সে মুকুরে কেন দাও দেখা
	বাতায়নে চাহি' তুমি কেন হাসো
	আসিয়া চাঁদের রথে।।

বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে

বাণী

বিদেশী তরী এলো কোথা হ’তে
প্রভাত-ঘাটে, আলোর স্রোতে।।
অসীম বিরহ-রাতের শেষে
কে এলো কিশোর-নাইয়ার বেশে,
বাঁশরি বাজায়ে দুয়ারে এসে —
	ডাকে হেসে অকূল-পথে।।
অঙ্গনে এলা শুভ দিনের আলো,
বুঝি মোর নিরাশার শর্বরী গো পোহালো।
আশাবরি সুরে বেণুকা বাজে
চির-চাওয়া এলো অভিসারে-সাজে,
	পূর্বাচলের ঘাটে অরুণ-রথে।।

ডেকো না আর দূরের প্রিয়া

বাণী

ডেকো না আর দূরের প্রিয়া থাকিতে দাও নিরালা।
কি হবে হায় বিদায়-বেলায় এনে সুধার পিয়ালা।।
সুখের দেশের পাখি তুমি কেন এলে এ বনে,
আজ এ বনে জাগে শুদু কণ্টকের স্মৃতির জ্বালা।।
মরুর বুকে কি ঘোর তৃষ্ণা বুঝিবে কি মেঘ-পরী,
মিটিবে না আমার তৃষ্ণা ঐ আঁখি-জলে বালা।।
আঁধার ঘরের আলো তুমি আমি রাতের আলেয়া,
ভোলো আমায় চিরতরে, ফিরিয়ে নাও এ ফুল-মালা।।

যবে তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায়

বাণী

যবে		তুলসীতলায় প্রিয় সন্ধ্যাবেলায় তুমি করিবে প্রণাম,
তব		দেবতার নাম নিতে ভুলিয়া বারেক প্রিয় নিও মোর নাম।।
		একদা এমনি এক গোধূলি বেলা
		যেতেছিলে মন্দির-পথে একেলা,
		জানি না কাহার ভুল তোমার পূজার ফুল
				আমি লইলাম —
সেই		দেউলের পথ সেই ফুলেরই শপথ
প্রিয়,		তুমি ভুলিলে হায় আমি ভুলিলাম।।
		পথের দুঁধারে সেই কুসুম ফোটে — হায় এরা ভোলেনি,
		বেঁধেছিলে তরু শাখে লতার যে ডোর হের আজো খোলেনি।
		একদা যে নীল নভে উঠেছিল চাঁদ
ছিল		অসীম আকাশ ভরা অনন্ত সাধ,
আজি		অশ্রু-বাদল সেথা ঝরে অবিরাম।।

পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া

বাণী

পিউ পিউ পিউ বোলে পাপিয়া
বুকে তারি পিয়ারে চাপিয়া।।
বাতাবি নেবুর ফুলেলা কুঞ্জে
মাতাল সমীরণ প্রলাপ গুঞ্জে
ফুলের মহলায় চাঁদিনী শিহরায়
নদীকূলে ঢেউ ওঠে ছাপিয়া।।
এমনি নেবু ফুল এমনি মধুরাতে
পরাতো বঁধু মোর বিনোদ খোঁপাতে,
বাতায়নে পাখি করিত ডাকাডাকি
মনে পড়ে তায় উঠি কাঁপিয়া।।