ইরানের বুলবুলি কি এলে

বাণী

ইরানের বুলবুলি কি এলে পথ ভুলে
গোলাপের স্বপ্ন ল’য়ে সিন্ধু নদী-কূলে।
চন্দনের গন্ধে কবি মিশালে হেনার সুরভি
তোমার গানে মরুভূমির দীর্ঘশ্বাস দুলে।।
কোন সাকির আঁখির করুণা নাহি পেয়ে
মরুচারী হে বিরহী, এলে মেঘের দেশে ধেয়ে।
	হেথা 	কাজল আঁখি নিরখি’
		তৃষ্ণা তব জুড়াল কি,
লালা ফুলের বেদনা ভুলিবে কি পলাশ ফুলে।।

গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী

বাণী

গুণ্ঠন খোলো পারুল মঞ্জরী।
বল গো মনের কথা বনের কিশোরী।।
চৈতালী চাঁদের তিথি যে ফুরায়
কাঁদিয়া কোয়েলিয়া পরদেশে যায়,
মধুমাখা নাম তব, মধুকর গায় মৃদুল গুঞ্জরী।।
বনমালী নিতি আসি' ভাঙায় ঘুম
বনদেবী গাহে জাগো দুলালী কুসুম,
কত মল্লিকা বেলি বকুল চামেলি
বিলায়ে সুবাস হের গিয়াছে ঝরি'।।

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ

বাণী

যে নামে মা ডেকেছিল সুরথ আর শ্রীমন্ত তোরে।
সেই নাম তুই শিখিয়ে দে মা, ডাকব আমি তেমনি ক’রে।।
	বেদ-পুরাণে যে নাম শুনি
	যে নাম জপে ঋষি-মুনি
সেই নাম দে, যে নাম নিতে বক্ষ ভাসে অশ্রু-নীরে।।
ভয় যদি তোর ভক্তি দিতে, কর মা অসুর দানব মোরে
আসবি যখন শাস্তি দিতে, দেখব তোরে নয়ন ভরে।।
	তোর হাতে মা মরণ হলে
	ঠাঁই পাব যে তোরই কোলে
আঘাত করে ছেলেকে মা কাঁদে যেমন বক্ষে ধরে।।

দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী

বাণী

		দোষ দিয়ো না প্রবীণ জ্ঞানী হেরি’ খারাব শারাব-খোর।
		তাহার যে পাপ তারি একার, হয় না লেখা নামে তোর।।
		মন্দ ভালো যা হই আমি, তুই করে যা কাজ আপন,
		কাট্‌ব তাহাই — যে ফসলের বীজ বুনেছি ক্ষেত্রে মোর।।
		হউক মসজিদ হউক মন্দির প্রেমের গতি সবখানেই,
		গাইছে একই প্রেমের গীতি — কেউ সজাগ কেউ নেশায় টোর।।
		জন্মদিনের ললাট-লেখা হবেই হবে পূর্ণ মোর,
		কেউ জানে না পর্দা-আড়ে আলোক না সে আঁধার ঘোর।।
শেয়র	:	ভেঙেছি দ্বার, ফিরব না আর পুণ্যশালার জেল-খানায়,
		আদিম পিতা আদমও ত স্বর্গ পেয়ে ছাড়ল তায়।
		পুণ্যফলের ভরসা করে কাটিয়ো না কেউ বৃথাই কাল,
		তোমার ললাট-লেখার বন্ধু, তুমিই নহ ওয়াকিফ্‌-হাল।
		বেহেশ্‌তের ঐ কুঞ্জ-কানন মধুর, তবু হুঁশিয়ার!
		ঝাউ-এর ছায়া, তরীর কিনার — তাই নিয়ে থাক্‌ সুখ-বিভোর।।
		মরণ-ক্ষণে যদি, হাফিজ, রয় হাতে তোর শারাব-জাম
		মলিন ধরা হতে তোরে তুরন্ত্‌ নেবে বেহেশ্‌ত-দোর।।

এসো এসো বন ঝরনা

বাণী

এসো এসো বন ঝরনা উচ্ছল-চল-চরণা।
সর্পিল ভঙ্গে লুটায়ে তরঙ্গে ফেন-শুভ্র-ওড়না।।
	পাষাণ জাগায়ে এসো নির্ঝরিণী
	এসো প্রাণ-চঞ্চলা জল-হরিণী
মরু-তৃষিতের বুকে ঢালো ধারা জল-শ্যাম মেঘ-বরণা।।
এসো বুনো পথ বেয়ে অকারণ গান গেয়ে,
গভীর অরণ্যের মৌনব্রত ভেঙে ভয়হীন পাহাড়ি মেয়ে।
	নৃত্য পরা পায়ে ছন্দ আনো
	আনন্দ আনো মৃত প্রাণ জাগানো,
অনাবিল হাসির ঝরাফুল ছড়ায়ে এসো মঞ্জুলা মনোহরণা।।

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়

বাণী

ধীরে যায় ফিরে ফিরে চায়।
চলে নব অভিসারে, ভীরু কিশোরী,
ওঠে পাতাটি নড়লে সে চম্‌কে।।
হরিণ নয়নে সভয় চাহনি,
আসিছে কে যেন দেখিবে এখনি
পথে সে দেয় ফেলে মুখর নূপুর খুলে,
আপন ছায়া হেরি ওঠে গা ছম্‌কে॥
‘চোখ গেল চোখ গেল’ ডাকে পাপিয়া
শুনিয়া শরমে ওঠে কাঁপিয়া;
হায়, যার লাগি এত, কোথায় সে
ঝিল্লি-রবে ভাবে কেউ হবে
বনে ফুল ঝরার আওয়াজে দাঁড়ায় সে থম্‌কে॥