মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে

বাণী

মম বেদনার শেষ হ’ল কি এতদিনে।
বুঝি তাই এলে প্রিয় পথ চিনে।।
	বরষার নবধারা ছন্দে
	এলে বন-মুকুলের গন্ধে,
তব চরণ ছোঁয়ায় আজি বাজিল কি সুর মোর মনো-বীণে।।
কত যুগ ধরি’ চেয়ে আছি পথ আজি কি হ’ল সফল,
তাই সহসা কানন মোর মৌন বিহগ-তানে মুখর চপল।
	তৃষিত চাতক-হিয়া সম
	কাঁদে হায়! ‘এসো প্রিয়তম’,
হের শূন্য এ অন্তর-মন্দির মোর তোমা-বিনে।।

বউ কথা কও বউ কথা কও

বাণী

বউ কথা কও, বউ কথা কও, কও কথা অভিমানিনী
সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে যাবে কত যামিনী।।
সে কাঁদন শুনি হের নামিল নভে বাদল
এলো পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী।।
আমার প্রাণের ভাষা শিখে ডাকে পাখি পিউ কাঁহা
খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে আঁখি মোর সৌদামিনী।।

নিশি-পবন নিশি-পবন

বাণী

নিশি-পবন! নিশি-পবন! ফুলের দেশে যাও
ফুলের বনে ঘুমায় কন্যা তাহারে জাগাও — যাও যাও যাও।।
মৌ-টুস্‌টুস্‌ মুখখানি তার ঢেউ-খেলানো চুল
(ওরে) ভোমরার ঝাঁক-ঘেরা যেন ভোরের পদ্ম-ফুল
হাসিতে তার মাঠের সরল বাঁশির আভাস পাও
				যাও যাও যাও।।
চাঁপা ফুলের পুত্‌লি-ঘেরা চাঁপা রঙের শাড়ি
তারেই দেখতে আকাশ-গাঙে (ওরে) চাঁদ দেয় রে পাড়ি।
তার একটুখানি চোখের আদল বাদল-মেঘে পাও।
				যাও যাও যাও।।
	ধীরে ধীরে জাগাইয়ো তায়
	ঝরা-কুসুম ফেলিয়া গায়
জাগলে কন্যা যেন রে মোর পত্রখানি দাও —
				যাও যাও যাও।।

করিও ক্ষমা হে খোদা

বাণী

করিও ক্ষমা হে খোদা আমি গুণাহগার অসহায়।
কাজের মাঝে অবসর পাই না ডাকিতে তোমায়।।
যতবার তোমার পথে হে খোদা যেতে চেয়েছি
বাহির ভিতর হ’তে হাজারো বাধা পেয়েছি,
তোমার পথের দুশমন ঘরে-বাহিরে-দুনিয়ায়।।
দুঃখ-শোক-ব্যাধির তাড়নায় শুনিয়াও শুনিনি আজান,
বান্দার সে-অপরাধ করিও ক্ষমা হে রহমান।
আমি যে কাঙাল ভিখারি পুণ্যের পুঁজি নাহি
শূন্য হাতে আমারে ফিরায়ো না হে ইলাহি,
করো না নিরাশ যদিও শরণ যাচি অবেলায়।।

আমি আল্লার ডাকে ছুটে যাই

বাণী

পুরুষ	:	আমি আল্লার ডাকে ছুটে যাই যবে
		তুমি মোনাজাত কর গো নীরবে,
স্ত্রী	:	তুমি যে খোদার দেওয়া সওগাত মম বেহেশ্‌তের সাথি।।
পুরুষ	:	তুমি হেরেমের বন্দিনী নহ তুমি যে ঘরের বাতি।
স্ত্রী	:	তুমি যে ঈদের চাঁদ! তব তরে জাগিয়া কাটাই রাতি।।
পুরুষ	:	তুমি নারী আগে আনিলে ঈমান দ্বীন ইসলাম ‘পরে,
স্ত্রী	:	তুমি যে বিজয়ী খোদার রহম আনিয়াছ জয় ক’রে!
পুরুস	:	আজি দুর্বল মোরা তোমারে ত্যজিয়া
স্ত্রী	:	দাঁড়াইব পাশে উঠহ জাগিয়া,
উভয়ে	:	হাতে হাত ধরি’ চলি যদি মোরা জাগিবে নূতন জাতি —
					দুনিয়া আবার উঠিবে মাতি’।।

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে

বাণী

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে।
না নিয়ে সে-মালা নিঠুর তুমি গেলে চ’লে।।
	প্রণাম ক’রে উদ্দেশে তাই
	সেই মালিকা জলে ভাসাই,
তোমার ঘাটে লাগে যদি নিও চরণ-তলে।।
এলো শুভদিন যবে মোর দুখের রাতির শেষে,
তোমার তরী গেল ভেসে সুদূর নিরুদ্দেশে।
	দিন ফুরাবে শিউলি ফোটার
	মোর শুভদিন আসবে না আর,
ভরলো বিফল পূজার থালা নীরব চোখের জলে।।