কে এলে মোর চিরচেনা অতিথি

বাণী

কে এলে মোর চিরচেনা অতিথি দ্বারে মম।
ফুলের বুকে মধুর মত পরাগে সুবাস সম।।
	বর্ষা-শেষে চাঁদের মতন
	উদয় তোমার নীরব গোপন,
জোছনা-ধারায় নিখিল ভুবন ছাইয়া অনুপম।।
	হৃদয় বলে, চিনি চিনি
	আঁখি বলে দেখিনি,
তায়, মন বলে, প্রিয়তম।।

ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি

বাণী

	ভোলো প্রিয় ভোলো ভোলো আমার স্মৃতি।
	তোরণ-দ্বারে বাজে করুণ বিদায়-গীতি।।
তুমি	ভুল ক’রে এসেছিলে ভুলে ভালবেসেছিলে,
	ভুলের খেলা ভুলের মেলা তাই প্রিয় ভেঙে দিলে।
	ঝরা ফুলে হের ঝুরে কানন-বীথি।।
	তব সুখ-দিনে তব হাসির মাঝে অশ্রু মম
	রবির দাহে শিশির সম শুকাইবে প্রিয়তম,
	হাসিবে তব নিশীথে নব চাঁদের তিথি।।
	ফোটে ফুল যায় ঝ’রে গহন বনে অনাদরে
	গোপনে মোর প্রেম-কুসুম তেমনি গেল গো মরে,
	আমার তরে কাঁটার ব্যথা কাঁদুক নিতি।।

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম

বাণী

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম আসিলে মোর জীবনে।
নীরব মনের উপবন মর্মরি’ উঠিল অধীর হরষণে।।
	যে মুকুল ঘুমায়ে ছিল পত্রপুটে
	অনুরাগে ফুল হয়ে উঠিল ফুটে,
তনুর কূলে কূলে ছন্দ উঠিল দুলে আকুল শিহরণে।।
অলকানন্দা হ’তে রসের ধারা তুমি আনিলে বহি’,
অশান্ত সুরে একি গাহিলে গান, হে দূর বিরহী।
	মায়ামৃগ তুমি হেসে চ’লে যাও
	তব কূলে যে কাঁদে তারে ফিরে নাহি চাও,
কত বন ভূমিরে আঁখি-নীরে ভাসাও —
			হে উদাসীন আনমনে।।

সাজে অভিনব সাজে রাই

বাণী

সাজে অভিনব সাজে রাই, — শ্যাম পাগলিনী
নয়ন টিপিয়া হাসে চারিপাশে আহিরিণী
আনমনে মনের ভুলে বাঁধে চূড়া বেণী খুলে
সিঁথি-মৌর ফেলে পরে শিখী-পাখা বিনোদিনী রাই সাজে একি সাজে রে
তারে হেরিয়া কি বনে শ্যাম লুকাইল লাজে রে।
গাগরি বিসরি বাজায় সে বাঁশরি,
পায়েলা পরা-পায়ে নূপুর বাজে রে।
পরিহরি নীলশাড়ি এলো পীত ধরা পরি
হেরিয়া কিশোর হরি মুখে বলে ‘হরি হরি’
আয় রে শ্রীদাম যা রে দেখে, আয় রে সুবল যা রে দেখে,
আয় বিরজা যা রে দেখে, আয় বিশাখা যা রে দেখে,
কার-চাঁদে তোরা দেখেছিস্‌ এবার গোরাচাঁদে তোরা যা লো দেখে।
উছলে রূপের ছটা কোটি রবি-শশী জিনি।।

তোমার ফুলের মতন মন

বাণী

তোমার ফুলের মতন মন।
ফুলের মত সইতে নার একটু অযতন।।
	ভুল ক’রে এই কঠিন ধরায়
	তুমি কেন আসিলে হায়,
একটি রাতের তরে হেথায় ফুলের জীবন।।
	গাঁথ্‌বে মালা প’রবে গলায়
	অর্ঘ্য দেবে দেবতা-পায়,
ফেলে দেবে পথের ধূলায় মিট্‌লে প্রয়োজন।।

মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি

বাণী

মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি।
তুমি ব্রজের বালারে রাই কিশোরীরে
ভুলাইলে যেই রূপ ধরি’।।
হরি বাজায়ো বাঁশরি সেই সাথে,
যে বাঁশি শুনিয়া ধেনু গোঠে যেত উজান বহিত যমুনাতে।
যে নূপুর শুনে ময়ূর নাচিত এসো হে সেই নূপুর পরি।।
নন্দ যশোদা কোলে গোপাল
যে রূপে খেলিতে, ক্ষীর ননী খেতে এসো সেই রূপে ব্রজ দুলাল।
যে পীত বসনে কদম তলায় নাচিতে এসো সে বেশ পরি।।
কংসে বধিলে যে রূপে শ্যাম,
কুরুক্ষেত্রে হলে সারথি এসো সেইরূপে এ ধরাধাম।
যে রূপে গাহিলে গীতা নারায়ণ, এসো সে বিরাট রূপ ধরি।।