আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে

বাণী

আমার কালো মেয়ে রাগ করেছে (মাকে) কে দিয়েছে গালি –
রাগ ক’রে সে সারা গায়ে মেখেছে তাই কালি।।
যখনরাগ করে মোর অভিমানী মেয়ে
আরো মধুর লাগে তাহার হাসি–মুখের চেয়ে –
কেকালো দেউল ক’রলে আলো অনুরাগের প্রদীপ জ্বালি’।।
পরেনি সে বসন–ভূষণ, বাঁধেনি সে কেশ, -
তারি কাছে হার মানে যে ভুবন–মোহন বেশ।
রাগিয়ে তারে কাঁদি যখন দুখে, (দয়াময়ী মা –)
দয়াময়ী মেয়ে আমার ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকে;
আমাররাগী মেয়ে, তাই তারে দিই জবা ফুলের ডালি।।

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল

বাণী

জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল।
কভু প্রশান্ত উদার, কভু কৃতান্ত করাল॥
	কভু পার্থ-সারথি-হরি
	বংশীধারী কংস-অরি,
কভু গোপাল বনমালী কিশোর রাখাল॥
বিপুল মহা-বিরাট কভু বৃন্দাবন-বিলাসী,
শঙ্খ-গদা-চক্র-পাণি মুখে মধুর হাসি।
	সৃষ্টি বিনাশে
	লীলা-বিলাসে,
মগ্ন তুমি আপন ভাবে অনাদিকাল॥

পর হবে তোর আপন জনে

বাণী

পর হবে তোর আপন জনে (তুই) ভাবনা তবু করিস্‌ নে।
হয়ত তরী ডুববে জলে (তবু) তুফান দেখে ডরিস্‌ নে।।
ছেড়ে যাবে বন্ধু জ্ঞাতি
আসবে ঘিরে আঁধার রাতি,
জ্বালিয়ে পাঁজর জ্বালবে বাতি —
	মরবি তবু টলিস্‌ নে।।
তোর বেদনায় গলবে সবে
তোর আপন জনই আপন রবে,
তুই আপন পথে চল নীরবে —
	কারুর চরণ ধরিস্‌ নে।।

আল্লাহ্ আমার প্রভু আমার নাহি

বাণী

আল্লাহ্ আমার প্রভু, আমার নাহি নাহি ভয়।
আমার নবী মোহাম্মদ, যাঁহার তারিফ জগৎময়।।
	আমার কিসের শঙ্কা
	কোরআন আমার ডঙ্কা
ইসলাম আমার ধর্ম, মুসলিম আমার পরিচয়।।
কলেমা আমার তাবিজ, তৌহীদ্ আমার মুর্শিদ্,
ঈমান্ আমার বর্ম, হেলাল আমার খুর্শিদ্।
	‘আল্লাহ্ আকবর’ ধ্বনি
	আমার জেহাদ-বাণী,
আখের মোকাম ফেরদৌস্ খোদার আরশ যথায় রয়।।

মাকে আদর করে কালী বলি

বাণী

মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
(কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
			সত্যি কালো নয় রে।।
(আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
(রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
(ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
(সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
(সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।

জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে

বাণী

জয় বিগলিত করূণা রূপিণী গঙ্গে
জয় কলুষহারিণী পতিতপাবনী
নিত্যা পবিত্রা যোগী-ঋষি সঙ্গে॥
হরি শ্রীচরণ ছুঁয়ে আপন-হারা,
পরম প্রেমে হ’লে দ্রবীভূত ধারা;
ত্রিলোকের ত্রিতাপ পাপ তুমি নিলে মা,
নির্মলে, তোমার পবিত্র অঙ্গে॥