ওগো দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই

বাণী

ওগো	দু’পেয়ে জীব ছিল গদাই (গদাইচন্দ্র) বিবাহ না করে,
	কুক্ষণে তার বিয়ে দিয়ে দিল সবাই ধ’রে॥
	আইবুড়ো সে ছিল যখন, মনের সুখে উড়ত
	হাল্‌কা দু’খান পা দিয়ে সে (গদাই) নাচ্‌ত, কুঁদ্‌ত ছুঁড়ত॥
ওগো	বিয়ে করে গদাই
	দেখলে সে আর উড়তে নারে, ভারি ঠেকে সদাই।
তার	এ্যাডিশনাল দু’খানা ঠ্যাং বেড়ায় পিছে ন’ড়ে॥
	গদাই-এর পা দু’খানা মোটা, আর তার বৌ-এর পা দু’খানা সরু,
	ছোট বড় চারখানা ঠ্যাং ঠিক যেন ক্যাঙারু
গদাই	(দেখতে) ঠিক যেন ক্যাঙ্গারু।
	আপিসে পদ বৃদ্ধি হয় না (গদাইচন্দ্রের), কিন্তু ঘরে ফি-বছরে,
	পা বেড়ে যায় গড়পড়তায় দু’চারখান ক’রে।
তার	বৌ শোনে না মানা —
তিনি	হন্যে হয়ে কন্যে আনেন মা, ষষ্টির ছানা
	মানুষ থেকে চার পেয়ে জীব, শেষ ছ’পেয়ে মাছি,
	তারপর আটপেয়ে পিঁপড়ে, বাবা গদাই বলে, একেবারে গেছি
	আর বলে, ও বাবা বিয়ে করে মানুষ এই কেলেঙ্কারীর তরে (বাবা)॥

আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হ’তে

বাণী

	আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হ’তে বাঁচাও প্রভু উদার!
	হে প্রভু, শেখাও নীচতার চেয়ে নীচ পাপ নাহি আর।।
		যদি শতেক জন্ম-পাপে হই পাপী
		যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি,
	জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা, ক্ষমা নাই নীচতার।।
	ক্ষুদ্র করো না, হে প্রভু, আমার হৃদয়ের পরিসর,
যেন	হৃদয়ে আমার সম ঠাঁই পায় শত্রু-মিত্র-পর।
		নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো
		অন্যের সুখে সুখ পাই আরো,
	কাঁদি তাঁ’রি তরে অশেষ দুঃখী ক্ষুদ্র আত্মা যার।।

‘মোনাজাত’

দেখলে তোমায় বাসতে ভালো

বাণী

দেখলে তোমায় বাসতে ভালো হয় না কারো ভুল।
রূপ-দীপালি দোদুল দেহ প্রেম ঢুল্ ঢুল্।।
	সোহাগ কথার মায়ার ফাঁদে
	ব্যাকুল হিয়া সদাই কাঁদে,
রই চেয়ে ঐ বদন-চাঁদে চকোর আকুল।।
সুনীল চোখের মায়া দেখি সজল আকাশে,
কাজল-কালো অলক-লতা মেঘেতে ভাসে।
	গোলাপ বনে গেলে সখি
	তোমায় যবে পাশে দেখি,
আমার ভুল হয়ে যায় কোন্‌টি তুমি, কোন্‌টি গোলাপ ফুল।।

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ

বাণী

লুকোচুরি খেলতে হরি হার মেনেছ আমার সনে
লুকাতে চাও বৃথা হে শ্যাম, ধরা পড় ক্ষণে ক্ষণে।।
গহন মেঘে লুকাতে চাও অম্‌নি রাঙা, চরণ লেগে
যে পথে ধাও সে পথ ওঠে ইন্দ্রধনুর রঙে রেঙে,
চপল হাসি চম্‌কে বেড়ায় বিজলিতে নীল গগনে।।
রবি-শশী-গ্রহ-তারা তোমার কথা দেয় প্রকাশি’
ঐ আলোতে হেরি তোমার তনুর জ্যোতি মুখের হাসি।
হাজার কুসুম ফুটে’ ওঠে লুকাও যখন শ্যামল বনে।
মনের মাঝে যেম্‌নি লুকাও, মন হয়ে যায় অম্‌নি মুনি,
ব্যথায় তোমার পরশ যে পাই, ঝড়ের রাতে বংশী শুনি
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে লুকাও আমার এই নয়নে
দুষ্টু তুমি দৃষ্টি হয়ে থাক আমার এই নয়নে।।

ওগো সুন্দর আমার

বাণী

	ওগো সুন্দর আমার।
সুন্দর আমার, এ কি দিলে উপহার।।
	আমি দিনু পূজা-ফুল,
	বর দিতে দিতে ভুল,
ভাঙিল আমার কূল তব স্রোতধারা।।
	গরল দিলে যে এই
	অমৃত আমার সেই,
শুকাল নিশি-শেষেই রাতের নীহার।।
	তোমারি সুখ-ছোঁওয়ায়
	ফুটেছে ফুল শাখায়,
তোমারি উতল বায় ঝরিল আবার।।

সোনার মেয়ে! সোনার মেয়ে

বাণী

সোনার মেয়ে! সোনার মেয়ে!
তোমার রূপের মায়ায় আমার নয়ন- ভুবন গেল ছেয়ে'।।
	ঝরে তোমার রূপের ধারা—
	চন্দ্র জাগে তন্দ্রাহারা,
আকাশ-ভরা হাজার তারা তোমার মুখে আছে চেয়ে'।।
	কোন গ্রহ-লোক ব্যথায় ভ'রে
	কোন অমরা শূন্য ক'রে
(ওগো) রাখলে চরণ ধরার পরে রঙ-সায়রের রঙের নেয়ে।
	শিল্পী আকেঁ তোমার ছবি
	তোমারি গান গাহে কবি
নিশীথিনী হারিয়ে রবি চাঁদ হাতে পায় তোমায় পেয়ে।।