আমার হাতে কালি মুখে কালি

বাণী

আমার হাতে কালি মুখে কালি, মা 
আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা 
পাড়ার লোকে হাসে খালি।। 
মোর লেখাপড়া হ’ল না মা, 
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা, 
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে 
নাচি দিয়ে করতালি।। 
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের 
ধারা নামে আঁখি পাতে, 
আমার বর্ণ পরিচয় হ’লো না মা 
তোর বর্ণ বিনা কালী। 
যা লিখিস মা বনের পাতায় 
সাগর জলে আকাশ খাতায়, 
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি 
মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা, 
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।। 

ওরে তরু তমাল শাখা

বাণী

ওরে	তরু তমাল শাখা।
আছে	পল্লবে তোর মোর বল্লভ কৃষ্ণ কান্তি মাখা।
আমি	তাইতো তমাল কুঞ্জে আসি
	তাইতো তমাল ভালোবাসি,
তোর	পথ-ছায়ায় আছে যে তার (কৃষ্ণ) চরণ-চিহ্ন আঁকা।।
	তোর চূড়ায় ময়ূর নাচে,
যেন	কৃষ্ণ-ময়ূর পাখা তাই দেখে পরান বাঁচে —
	কৃষ্ণহারা পরান আমার বাঁচে।
	তোর শাখাতে স্বর্ণ-লতা দোলে
	আমি ভাবি শ্যামের পীত বসন বলে,
মোর	অঙ্গ যেন থাকে রে তোর কালো ছায়ায় ঢাকা
তোর	ছায়া নয় রে শ্যামের ছোঁওয়া, যেন শ্যামের শীতল ছোঁওয়া।।

আসিছেন হাবিব-এ খোদা

বাণী

আসিছেন হাবিব-এ খোদা আরশ্‌পাকে তাই উঠেছে শোর,
চাঁদ পিয়াসে ছুটে আসে আকাশ পানে যেমন চকোর।
কোকিল যেমন গেয়ে ওঠে ফাগুন আসার আভাস পেয়ে,
তেমনি ক’রে হরষিত ফেরেশ্‌তা সব উঠলো গেয়ে:
দেখ আজ আরশে আসেন মোদের নবী কম্‌লিওয়ালা।
হের সেই খুশিতে চাঁদ-সুরুজ আজ হ’ল দ্বিগুণ আলা।।
ফকির দরবেশ্‌আউলিয়া যাঁরে, ধ্যানে জ্ঞানে ধ’রতে নারে,
যাঁর মহিমা বুঝিতে পারে এক সে আল্লাহ তালা।।
বারেক মুখে নিলে যাঁহার নাম, চিরতরে হয় দোজখ্‌হারাম,
পাপীর তরে দস্তে যাঁহার কওসরের পিয়ালা।।
‘মিম্‌’ হরফ না থাকলে সে আহাদ, নামে মাখা তার শিরিন শাহাদ্,
নিখিল প্রেমাষ্পদ আমার মোহাম্মদ ত্রিভুবন উজালা।।

আর কত দুখ্ দেবে বল মাধব বল

বাণী

আর কত দুখ্ দেবে, বল মাধব বল বল মাধব বল।
দুখ্ দিয়ে যদি সুখ পাও তুমি কেন আঁখি ছলছল॥
	তব শ্রীচরণ তলে আমি চাহি ঠাঁই,
	তুমি কেন ঠেল বাহিরে সদাই;
আমি কি এতই ভার এ জগতে যে, পাষাণ তুমিও টল॥
ক্ষুদ্র মানুষ অপরাধ ভোলে তুমি নাকি ভগবান,
তোমার চেয়ে কি পাপ বেশি হ’ল (মোরে) দিলে না চরণে স্থান।
	হে নারায়ণ! আমি নারায়ণী সেনা,
	মোরে কুরুকুল দিতে ব্যথা কি বাজে না,
(যদি) চার হাতে মেরে সাধ নাহি মেটে দু’চরণ দিয়ে দ’ল॥

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে

বাণী

মোরা ভেসে যাব কৃষ্ণ নামের স্রোতে গো
ঐ নাম ধরে গো, উঠব মোরা ব্রজধামের পথে।।
ঐ নামেরই মন্ত্র গুণে
পথের মানুষ গোঠের বেণু শোনে গো
ভুলের কূলে কূলে খেলে যে সে ওঠে ফুলের রথে।।
ঐ নাম পেল যে, সুমুখে তার শ্যাম গো
দেখা দেবার তরে নিতুই ঘোরে অবিরাম গো।
ঐ কৃষ্ণ নামের টানে
ধীরে ধীরে প্রেম যমুনা আনে।
ঐ নামের গুণে গঙ্গাধারা নামে হিমগিরি হতে।।

সহসা কি গোল বাঁধালো পাপিয়া আর পিকে

বাণী

সহসা কি গোল বাঁধালো পাপিয়া আর পিকে
গোলাপ ফুলের টুকটুকে রঙ চোখে লাগে ফিকে।।
	নাই বৃষ্টি বাদল ওলো,
	দৃষ্টি কেন ঝাপসা হলো?
অশ্রু জলের ঝালর দোলে চোখের পাতার চিকে।।
পলাশ-কলির লাল আঁখরে বনের দিকে দিকে
গোপন আমার ব্যথার কথা কে গেল সই লিখে।
	মনে আমার পাইনে লো খেই;
	কে যেন নেই, কি যেন নেই।
কে বনবাস দিল আমার মনের বাসন্তীকে।।