যবে ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি

বাণী

যবে	ভোরের কুন্দ-কলি মেলিবে আঁখি
	ঘুম ভাঙায়ে হাতে বাঁধিও রাখি।।
		রাতের বিরহ যবে
		প্রভাতে নিবিড় হবে
	অকরুণ কলরবে গাহিবে পাখি।।
যেন	অরুণ দেখিতে গিয়া তরুণ কিশোর
	তোমারে প্রথম হেরি' ঘুম ভাঙে মোর।
		কবরীর মঞ্জরি
		আঙিনায় রবে ঝরি'
	সেই ফুল পায়ে দলি এসো একাকী।।

আধো ধরণী আলো আধো আঁধার

বাণী

আধো ধরণী আলো আধো আঁধার।
কে জানে দুখ-নিশি পোহাল কার।।
আধো কঠিন ধরা আধেক জল,
আধো মৃণাল-কাঁটা আধো কমল।
আধো সুর, আধো সুরা — বিরহ, বিহার।।
আধো ব্যথিত বুকের আধেক আশা,
আধেক গোপন আধেক ভাষা!
আধো ভালোবাসা আধেক হেলা
আধেক সাঁঝ আধো প্রভাত-বেলা
আধো রবির আলো — আধো নীহার।।

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি মাধবী কানন

বাণী

চৈত্র পূর্ণিমা রাত্রি, মাধবী কানন মধুক্ষরা।
মধুর আনন্দ উল্লাসে রাত্রে ভাসে বসুন্ধরা।।
মুকুল-সৌগন্ধ ভারে দখিনা পবন
নৃত্যের ছন্দে চলে মর্মরিয়া বেণু-বন।
তটিনী ঊর্মির মর্ম নিয়া
শত ভঙ্গে চন্দ্রে নিবেদিয়া —
দুর্নিবার প্রেমোচ্ছ্বাসে কণ্ঠ-কল-গীতে ভরা।।
মধুর পূর্ণিমা নিশি, পূর্ণপাত্র শিরাজি হস্তে যেন সাকি,
জোছনার মদির স্বপ্নে মুকুলিত মাধবীর আঁখি।।
গোলাপের স্নিগ্ধগন্ধে অস্থির অন্তর
আজি রাত্রি হাসিছে সমাহিত প্রসন্ন সুন্দর।
পরিতৃপ্ত চকোরের রুদ্ধ-কণ্ঠ লড়িতে চন্দ্রর
পান করি শারাব গেলাস-ভরা।।

১. সম্ভবত এখানে কবি আরো কিছু শব্দ যুক্ত করতে চেয়েছিলেন।

সাপুড়িয়া রে বাজাও বাজাও

বাণী

গানের শুরুতে নীচের কথাগুলি সাপুড়েদের মন্ত্র-পড়ার ঢংয়ে আবৃত্তি করা হয়েছে :-

[খা খা খা
তোর বক্ষিলারে খা
তারি দিব্যি ফণাতে তোর যে ঠাকুরের পা'
বিষহরি শিবের আজ্ঞ্যে দোহাই মনসা,
আমায় যদি কামড়াস খাস জরৎ-কারুর হাড়
নাচ নাগিনী ফণা তুলে, নাচ রে হেলেদুলে
মারলে ছোবল বিষ-দাঁত তোর অমনি নেব তুলে
বাজ তুবরী বাজ ডমরু বাজ, নাচ রে নাগ-রাজা।।]

সাপুড়িয়া রে —
বাজাও বাজাও সাপ-খেলানোর বাঁশি।
কালিদহে ঘোর উঠিল তরঙ্গ রে
কালনাগিনী নাচে বাহিরে আসি।।
ফণি-মনসার কাঁটা-কুঞ্জতলে
গোখরা কেউটে এলো দলে দলে রে
সুর শুনে ছুটে এলো পাতাল-তলের
বিষধর বিষধরী রাশি রাশি।।
শন-শন-শন-শন পুব হাওয়াতে
তোমার বাঁশি বাজে বাদলা-রাতে
মেঘের ডমরু বাজাও গুরু গুরু বাঁশির সাথে।
অঙ্গ জর জর বিষে
বাঁচাও বিষহরি এসে রে
এ কি বাঁশি বাজালো কালা, সর্বনাশী।।

আজি কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে

বাণী

আজি		কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে।
জ্বলে		দীপ-শিখা আম্র-মুকুলে
রাঙা		পলাশ অশোকে বকুলে,
আসে		সে আলোর টানে বন-তল
		মৌমাছি প্রজাপতি দলে দল
পুড়ে		মরিতে সে রূপ-শিখাতে
প্রাণ		সঁপিতে বাসন্তিকাতে;
		পরিমল অঞ্জন মাখিয়া নয়নে
হের		ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
জ্বলে		গগনে তারার দীপালি
আজি		ধরাতে আকাশে মিতালি
ধরা		চাঁপার গেলাস ভরিয়া
মধু		উর্ধ্বে তুলে গো ধরিয়া
পান		করিতে সে মধু পরীরা
আসে		নেমে কাননে স-শরীরা;
		বাজে উৎসব বাঁশি গগনে পবনে
		হের ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।

প্রণমি তোমায় বনদেবতা

বাণী

প্রণমি তোমায় বনদেবতা।
শাখে শাখে শুনি তব ফুল-বারতা — দেবতা।।
তোমার ময়ূর তোমার হরিণ
লীলা-সাথী রয় নিশিদিন,
বিলায় ছায়া বাণী-বিহীন —
		তরু ও লতা — দেবতা।।