কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও

বাণী

কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
	হাজিদের ঐ যাত্রা-পথে
	দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
	বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
	মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
তুই দিস্ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’-হাওয়ায়।।

স্বদেশ আমার জানি না তোমার

বাণী

স্বদেশ আমার! জানি না তোমার শুধিব মা কবে ঋণ।
দিনের পরে মা দিন চ’লে যায় এলো না সে শুভদিন।।
		খাই দাই আর আরামে ঘুমাই
		পাগলের যেন ব্যথা-বোধ নাই
ললাট-লিখন বলিয়া এড়াই ভীরুতা, শক্তি ক্ষীণ।
অভাগিনী তুমি, সন্তান তব সমান ভাগ্যহীন।।
কত শতাব্দী করেছি মা পাপ মানুষেরে করি ঘৃণা
জানি মা মুক্তি পাব না তাহার প্রায়শ্চিত্ত বিনা।
		ক্ষুদ্র ম্লেচ্ছ কাঙাল ভাবিয়া
		রেখেছি যাদেরে চরণে দাবিয়া
তাদের চরণ-ধূলি মাখি যদি আসিবে সে শুভদিন
নূতন আলোকে জাগিবে পুলকে জননী ব্যথা-মলিন।।

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে

বাণী

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে
বেণুর রবে ধেনুগণে ডাক যেমন করে।।
	সংসারেরি গহন বনে
	ঘুরে ফিরি শূন্য মনে
ডাকবে কখন বাঁশির সনে আমায় আপন ঘরে।।
ভেঙেছে মোর প্রাণের মেলা ভাঙলো মায়ার খেলা
মোরে ডাক এবার তোমার পায়ে, আর করো না হেলা।
	মোর জীবনের কিশোর রাখাল,
	বাঁশি শুনে কাটলো সকাল
তন্দ্রা আন ক্লান্ত চোখে, তোমার সুরের ঘোরে।।

কে বলে মোর মাকে কালো

বাণী

কে বলে মোর মাকে কালো, মা যে আমার জ্যোতির্মতী।
কোটি চন্দ্র সূর্য তারা নিত্য করে যার আরতি।।
	কালো রূপের মায়া দিয়ে
	মহামায়া রয় লুকিয়ে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
যোগীন্দ্র যাঁর চরণ-তলে ধ্যান করে রে যাঁর মহিমা,
দু’টি নয়ন-প্রদীপ জ্বেলে খুঁজি সেই অসীমার সীমা।
	সাজিয়ে কালী গৌরী মাকে
	পূজা করি তমসাকে,
মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।

সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে

বাণী

সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে।
বিষাণ ত্রিশূল ফেলি’ গভীর বিষাদে।।
	জটাজুটে গঙ্গা
	নিস্তরঙ্গা,
রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের চাঁদে।।
দুই করে দেবী–দেহ ধরি’ বুকে বাঁধে,
রোদনের সুর বাজে প্রণব–নিনাদে।
ভক্তের চোখে আজি ভগবান শঙ্কর —
সুন্দরতর হ’ল – পড়ি’ মায়া ফাঁদে।।

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে

বাণী

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে জাগায়ো না জাগায়ো না,
সারা জীবন যে আলো দিল ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।
	যে সহস্র করে রূপরস দিয়া
	জননীর কোলে পড়িল ঢলিয়া
তাঁহারে শান্তি-চন্দন দাও ক্রন্দনে রাঙায়ো না।।
যে তেজ শৌর্য-শক্তি দিলেন, আপনারে করি ক্ষয়
			তাই হাত পেতে নাও।
বিদেহ রবি ও ইন্দ্র মোদের নিত্য দেবেন জয়
			কবিরে ঘুমাতে দাও।
	অন্তরে হের হারানো রবির জ্যোতি
	সেইখানে তারে নিত্য কর প্রণতি
	আর কেঁদে তাঁরে কাঁদায়ো না।।