হে চির সুন্দর বিশ্ব চরাচর

বাণী

হে চির সুন্দর, বিশ্ব চরাচর তোমারি মনোহর রূপের ছায়া।
রবি শশী তারকায় তোমারি জ্যোতি ভায় রূপে রূপে তব অরূপ কায়া।।
	দেহের সুবাস তব কুসুম-গন্ধে,
	তোমার হাসি হেরি শিশুর আনন্দে।
জননীর রূপে তুমি আমাদেরে যাও চুমি’, তব স্নেহ-প্রেমরূপ — কন্যা জায়া।।
হে বিরাট শিশু! এ যে তব খেলনা
নিতি নব, ভাঙা গড়া দুখ শোক বেদনা।
	শ্যামল পল্লবে সাগর-তরঙ্গে
	তব রূপ লাবনি দুলে ওঠে রঙ্গে,
বিহগের কণ্ঠে তব মধু কাকলি, মায়াময়। শতরূপে বিছাও মায়া।।

বরণ করে নিও না গো

বাণী

বরণ করে নিও না গো নিও হরণ ক’রে।
ভীরু আমায় জয় কর গো তোমার মনের জোরে।।
	পরান ব্যাকুল তোমার তরে
	চরণ শুধু বারণ করে,
লুকিয়ে থাকি তোমার আশায় রঙিন বসন প’রে।।
লজ্জা আমার ননদিনী জটিলারই প্রায়,
যখনই যাই, শ্যামের কাছে দাঁড়ায়ে আছে ঠায়।
	চাইতে নারি চোখে চোখে
	দেখে পাছে কোন লোকে,
নয়নকে তাই শাসন (বারণ) করি অশ্রুজলে ভ’রে।।

বিদ্রোহী (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

আমি	বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি,
আমি	ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি	উন্মন মন উদাসীর,
আমি	বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি	বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি	অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি	অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
	চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি	গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন,
আমি	চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন!
আমি	চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি	যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর!
আমি	উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি	পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি	আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি	মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি	তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি	সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!
আমি	অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
	মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
	ঘুম্‌ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম
	মম বাঁশরীর তানে পাশরি’।
আমি	শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি	পরশুরামের কঠোর কুঠার,
	নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
	মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত,
যবে	উত্‍পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না —
	অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না —
	বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি	সেই দিন হব শান্ত।
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি	স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি	খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!
আমি	চির-বিদ্রোহী বীর —
	বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!
	শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল	বীর -
	বল উন্নত মম শির!
বল	বীর, বল বীর।

হলুদ গাঁদার ফুল রাঙা পলাশ ফুল

বাণী

হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল
এনে দে এনে দে নৈলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল।
কুস্‌মী-রঙ শাড়ি, চুড়ি বেলোয়ারি
কিনে দে হাট থেকে, এনে দে মাঠ থেকে
বাবলা ফুল, আমের মুকুল, নৈলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল।।
তুর্‌কুট্‌ পাহাড়ে শাল-বনের ধারে বস্‌বে মেলা আজি বিকাল বেলায়,
দলে দলে পথে চলে সকাল হতে বেদে-বেদেনী নূপুর বেঁধে পায়
যেতে দে ওই পথে বাঁশি শুনে’ শুনে’ পরান বাউল
নৈলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল।।
পলার মালা নাই কী যে করি ছাই,
খুঁজেএনে দে এনে দে রে সিঁয়া-কূল
নৈলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল।।

সিনেমা: সাপুড়ে

ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ

বাণী

ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ
তোমার হেরে হৃদয় সাগর আনন্দে উন্মাদ।।
তোমার রাঙা তশতরিতে ফিরদৌসের পরী
খুশির শিরনি বিলায় রে ভাই নিখিল ভুবন ভরি
খোদার রহম পড়ছে তোমার চাঁদনি রূপে ঝরি।
দুখ ও শোক সব ভুলিয়ে দিতে তুমি মায়ার ফাঁদ।।
তুমি আসমানে কালাম
ইশারাতে লেখা যেন মোহাম্মাদের নাম।
খোদার আদেশ তুমি জান স্মরণ করাও এসে
যাকাত দিতে দৌলত সব দরিদ্রেরে হেসে
শত্রুরে আজি ধরিতে বুকে শেখাও ভালবেসে।
তোমায় দেখে টুটে গেছে অসীম প্রেমের বাঁধ।।

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।