কে ডাকিলে আমারে আঁখি তুলে

বাণী

কে	ডাকিলে আমারে আঁখি তুলে'।
	এই প্রভাতে তটিনী-কূলে কূলে।।
ঐ	ঘুমায়ে সকলি, জাগেনি কেউ 
	জল নিতে এখনো আসেনি বউ, 
	শুধু তব নদীতে জেগেছে ঢেউ — 
	মেলেছ নয়ন কানন-ফুলে।।
	যে সুবাস ঝরে ও-এলোকেশে 
	কমলে তা' দিলে নাহিতে এসে', 
	তব তনু-মন দীঘিতে ভেসে' —
	মাতাইছে, মধুপ পথ ভুলে।
ও	শিশির-কপোল-স্বেদ বারি 
	পড়িল ঝরি' নয়নে আমারি, 
	জাগিয়া হেরি রূপ-মনোহারী —
	দাঁড়ায়ে উষসী তোরণ-মূলে।।

নীল আকাশের কোলে শুয়ে হেরে

বাণী

নীল আকাশের কোলে শুয়ে হেরে শ্রান্ত মেঘের দল,
পল্লবে-ফুলে পূর্ণ হ’লো কি ধরণীর অঞ্চল।।
	দেয়া গরজে না, উপবনে তাই
	বেণী-বন্ধনে কেয়া ফুল নাই,
গুণ্ঠন খুলি’ প্রকৃতি হাসিছে, মেলি’ এলো-কুন্তল।।
সায়র ছেয়েছে শাপ্‌লা শালুকে, ‘নায়রে’ চলেছে বৌ,
বৌ-কথা-কও ডাকে ফুলবনে, ঝরে মমতার মৌ।
	বাজে আনন্দ-বেণু শারদীয়া
	মিলন পিয়াসি ডাকে পিয়া পিয়া,
সৌরভ-মধু ভারে বেদনায় কার প্রেম-শতদল, করে টলমল।।

ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে হায় প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি

বাণী

ফুটলো যেদিন ফাল্গুনে, হায়, প্রথম গোলাপ-কুঁড়ি
বিলাপ গেয়ে বুলবুলি মোর গেল কোথায় উড়ি।।
	কিসের আশায় গোলাপ বনে
	গাইতো সে গান আপন মনে,
লতার সনে পাতার সনে খেতো লুকোচুরি (হায়)
সেই লতাতে প্রথম প্রেমের ফুটলো মুকুল যবে
পালিয়ে গেল ভীরু পাখি অমনি নীরবে।
	বাসলে ভালো যে জন কাঁদে
	বাঁধবো তা'রে কোন সে ফাঁদে,
ফুল নিয়ে তাই অবসাদে বনের পথে ঘুরি (হায়)।।

কেন উচাটন মন পরান এমন করে

বাণী

কেন উচাটন মন পরান এমন করে।
কেন কাঁদে গো বধূ বঁধুর বুকে বাসরে।।
	কেন মিলন-রাতে
	সলিল আঁখি-পাতে
কেন ফাগুন-প্রাতে সহসা বাদল ঝরে।।
	ডাকিলে অনুরাগে
	কেন বিদায় মাগে,
(কেন) মরিতে সাধ জাগে — পিয়ার বুকের ’পরে।।
	ডাকিয়া ফুলবনে
	থাকে সে আন্‌মনে,
কাঁদায়ে নিরজনে — কাঁদে সে নিজের তরে।।
	কবি, তোরে কে কবে
	সাধিল বেণুর রবে,
ধরিতে গেলি যবে — বিঁধিল কুসুম-শরে।।

১. কিসের

মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে

বাণী

মেঘ-বরণ কন্যা থাকে মেঘলামতীর দেশে (রে)
সেই দেশে মেঘ জল ঢালিও তাহার আকুল কেশে।।
	তাহার কালো চোখের কাজল
	শাওন মেঘের চেয়ে শ্যামল
চাউনিতে তার বিজলি ছড়ায় চমক বেড়ায় ভেসে (রে)।।
সে ব’সে থাকে পা ডুবিয়ে ঘুমতী নদীর জলে
কভু দাঁড়িয়ে থাকে ছবির মত একলা তরু-তলে (রে)।
	কদম ফুলের মালা গেঁথে
	ছড়িয়ে সে দেয় ধানের ক্ষেতে
তারে দেখতে পেলে আমার কথা (তারে) কইও ভালোবেসে।।

ওরে বাবা এর নাম নাকি পূজা

বাণী

ওরে বাবা! এর নাম নাকি পূজা! (রে ভাই)।
(এই) পূজার ঠ্যালা সইতে সোজা মানুষ হয় যে কুঁজা।
ষষ্ঠীর কৃপায় দশটি মেয়ে রাবণের গুষ্টি সঙ্গে
আঁচিলের মতন এঁটুলির মতন নেপটে আছেন অঙ্গে।
এরা ছাড়ে না, — তবু আঁচিল ছাড়ে খেলে হোমিওপ্যাথিক থুজা।।
বেনারসি, ঢাকাই, রেশমি তসর, এণ্ডি, মট্‌কা
বইতে বইতে গা দিয়ে দাদা ঘাম ছুটে যায় বোঁট্‌কা।
(এই) চাওয়ার ভয়ে শিব ন্যাংটা, কথা কন্‌ না দশভুজা।।
গিন্নি কন্যে হন্যে হয়ে সদাই সওদা করে
(ওরা ভাবে) ব্যাঙ্কের টাকা যেন ট্যাঙ্কের জলের মতন ঝরঝর ক’রে ঝরে
তাদের এক গোঁ থিয়েটার, সিনেমা, এসেন্স, পাউডার খুঁজা।।
এ সব যদি জুটল, তবে যেতে হবে চেঞ্জে
শালা শালী সবাই এক জোটে বলে এবার ‘সস্তায় ট্রেন যে,’ ও বোনাই।
(না গেলে) দেখব সদাই গিন্নীর কুতুরে চক্ষু কেৎরে-বুঁজা।।
সবাই যেন শ্রীদুর্গার গুষ্টি, আমি যেন বাহন সিঙ্গি,
আসছে বছর পূজায় মাগো হব আমি ফিরিঙ্গি। জয় বাবা যীশুখ্রিস্টের জয়
(এই পূজার সময়) পিতা হওয়ার চেয়ে হাড়িকাঠের পাঁঠা হওয়া সোজা।।

‘পূজার ঠ্যালা’