ও বৌদি তোর কি হয়েছে চোখে কেন জল

বাণী

ও	বৌদি তোর কি হয়েছে চোখে কেন জল
	দাদার তরে মন বুঝি তোর হয়েছে উতল।।
তোর	দিব্যি দেখেছি স্বপনে
যেন	দাদা কথা কইতেছে তোর সনে
	দেখিস তোরা আমার স্বপন হবে না বিফল।।
তোর	কান্নার সাগরে যখন উঠেছে জোয়ার
	বৌদি লো তোর চাঁদ উঠিবার নাই রে দেরি আর।
ও	বৌদি তোর চোখের জলের টানে
	আমার দাদার সোনার তরী  আসতেছে উজানে
দেখ	বাটনা ফেলে হাসছে দিদি চল ও ঘরে চল।।

ভালোবাসার ছলে আমায়

বাণী

ভালোবাসার ছলে আমায় তোমার নামে গান গাওয়ালে।
চাঁদের মতন সুদূর থেকে সাগরে মোর দোল খাওয়ালে।।
কাননে মোর ফুল ফুটিয়ে উড়ে গেল গানের পাখি,
যুগে যুগে আমায় তুমি এমনি ক’রে পথ চাওয়ালে।।
আঁকি তোমার কতই ছবি, তোমায় কতই নামে ডাকি,
পালিয়ে বেড়াও, তাই তো তোমায় রেখার সুরে ধ’রে রাখি।
মানসী মোর! কোথায় কবে আমার ঘরের বধূ হবে,
লোক হ’তে গো লোকান্তরে সেই আশে তরী বাওয়ালে।।

মোর প্রিয়া হবে এসো রানী

বাণী

মোর প্রিয়া 	হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল
	কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।।
		কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা
		হংস –সারির দুলানো মালিকা
	বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।।
	জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায়
	রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়।
		আমার গানের সাত সুর দিয়া
		তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
	তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।।

হেসে হেসে কল্‌সি নাচাইয়া

বাণী

হেসে হেসে কল্‌সি নাচাইয়া কিশোরী চলে।
রিনি ঠিনি কলস-কাঁকনে কি কথা বলে।।
নেচে চলে যেন ঝরনা চাঁপা-বরণা বাহু দোলাইয়া,
নয়ন-কুরঙ্গ জাগায় গো তরঙ্গ নদীর জলে।।
এত রূপ লাখ চোখে ধরে না তারে দেখি কি ক’রে,
বিধি দিল দু’টি আঁখি আমারে তাহে হায় পলক পড়ে।
গ্রামের পথ চাহে তারে
ডাকে বাঁশি বন-পারে,
গিরি-দরী চাহে যারে —
		চাহি তারে কোন্ ছলে।।

আমার দুখের বন্ধু তোমার কাছে

বাণী

আমার	দুখের বন্ধু, তোমার কাছে চাইনি ত’ এ সুখ।
আমি	জানিনি ত বুকে পেয়েও কাঁদবে এ মন বুক।।
		আমার শাখায় যবে ফোটেনি ফুল
		আমি চেয়েছি পথ আশায় আকুল,
আজ	ফোটা ফুলে কাঁদে কেন কুসুম ঝরার দুখ।।
প্রিয়	মিলন-আশায় ছিনু সুখে ছিলে যবে দূর,
আজ	কাছে পেয়ে পরান কাঁদে বিদায়-ভয়াতুর।
		এ যে অমৃতে গরল মিশা
		প্রাণে কেবলি বাড়িছে তৃষা,
আমার	স্বর্গে কেন মলিন ধরার বেদন জাগরূক।।

বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে

বাণী

	বল্ মা শ্যামা বল্ তোর বিগ্রহ কি মায়া জানে।
আমি	যত দেখি তত কাঁদি ঐ রূপ দেখি মা সকলখানে॥
	মাতৃহারা শিশু যেমন মায়ের ছবি দেখে,
	চোখ ফিরাতে নারে মাগো, কাঁদে বুকে রেখে।
তোর	মূর্তি মোরে তেমনি ক’রে টানে মাগো মরণ টানে॥
ও-মা,	রাত্রে নিতুই ঘুমের ঘোরে দেখি বুকের কাছে,
যেন,	প্রতিমা তোর মায়ের মত জড়িয়ে মোরে আছে।
	জেগে উঠে আঁধার ঘরে
	কাঁদি যবে মা তোরই তরে
দেখি	প্রতিমা তোর কাঁদছে যেন চেয়ে চেয়ে আমার পানে॥