নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

বাণী

নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে

বাণী

সেদিন প্রভাতে অরুণ শোভাতে হেসেছ বুকে মোর মধু-হাসিনী।
পরেছ গলায় আমার দেওয়া ফুল সে কি গো সবি ভুল বিজন-বাসিনী।।
		যেচেছ কত না আদর সোহাগ
		ক্ষণে অভিমান ক্ষণে অনুরাগ,
কত প্রিয় নামে ডেকেছ আমায় সে কি গো গেছ ভুলে মধুভাষিণী।।
		আমার সাধ-আশ-সাধনা-সুখ-হাসি
		তোমার সনে প্রিয় সকলি গেছে ভাসি,
কেন ফেলে দিলে নিরাশার কূলে, কোন্ অপরাধে বল উদাসিনী।।

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা

বাণী

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা
চলে গিরি-কন্যা চঞ্চল ঝর্ণা
নন্দন-পথ-ভোলা চন্দন-বর্ণা।।
গাহে গান ছায়ানটে, পর্বতে শিলাতটে
লুটায়ে পড়ে তীরে শ্যামল ওড়না।।
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ধীরি ধীরি বাজে
তরঙ্গ-নূপুর বন-পথ মাঝে।
এঁকেবেকে নেচে যায় সর্পিল ভঙ্গে
কুরঙ্গ সঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
গুরু গুরু বাজে তাল মেঘ-মৃদঙ্গে
তরলিত জোছনা-বালিকা অপর্ণা।।

ঐ চলে তরুণী গোরী গরবী

বাণী

ঐ চলে তরুণী গোরী গরবী।
ডাকে দূর পারাবার ডাকে তারে বন পার —
লালসে ঝরে তার পায় রাঙা করবী।।
	চলে বালা দুলে দুলে
	এলো খোঁপা পড়ে খুলে,
চাহি ভ্রমর কুসুম ভুলে — তনুর তার সুরভি।।
	নাচের ছন্দে দোলে
	টলে তার চরণ চটুল,
	হরিণী চায় পথ বেভুল —
মায়া লোক বিহারিণী রচি’ চলে ছায়াছবি।।

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা

বাণী

দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা।
সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা।।
সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে
	সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা।।
সেই নামরেই নামাবলী গ্রহ তারা রবি শশী দোলে গগন কোলে।
	মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
	মন লাগে না সংসার কাজে
		সে নামে সদা মন মাতোয়ালা।।
আদর-সোহাগ মান -অভিমান আপন মনে তার সাথে;
	কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
	কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
	আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা।।

রঙ্গিলা আপনি রাধা

বাণী

রঙ্গিলা আপনি রাধা তারে হোরির রঙ দিও না
ফাগুনের রাণীরে শ্যাম আর ফাগে রাঙিয়ো না।।
	রাঙা আবির রাঙ্গা ঠোঁটে
	গালে ফাগের লালী ফোটে
রঙ সায়রে নেয়ে উঠে অঙ্গে ঝরে রঙের সোনা।।
	অনুরাগ –রাঙা মনে
	রঙের খেলা ক্ষণে ক্ষণে
অন্তরে যার রঙের লীলা তারে বাহিরে রঙ লাগিয়ো না।।