কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো

বাণী

আমি ময়নামতীর শাড়ি দেবো, চলো আমার বাড়ি
ওগো ভিনগেরামের নারী
তোরে সোনাল ফুলের বাজু দেবো চুড়ি বেলোয়ারি।।
তোরে বৈঁচী ফুলের পৈঁচী দেবো কলমিলতার বালা,
রক্ত-শালুক দিবো পায়ে, পরবে আলতা তা'রি।।
হলুদ-চাঁপার বরণ কন্যা এসো আমার নায়
সরষে ফুলের সোনার রেণু মাখাবো ওই গায়!
ঠোঁটে দিবো রাঙা পলাশ মহুয়া ফুলের মউ,
বকুল-ডালে ডাকবে পাখি, 'বউ গো কথা কও!'
আমি সব দিবো গো, যা পারি আর যা দিতে না পারি।।

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম

বাণী

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম ভোমরাকে যেতে বল।
সখি	গুঞ্জরি ফেরে কেন কুঞ্জে বৃথাই এত ছল।।
	কত কি শুনিয়ে যায়, গুনগুনিয়ে হায়-
	পাতার ঝরকায়, ঘোরে সে অবিরল।।
আমার প্রাণের ভেতর কেন উঠায় সে ঝড়
তারে	ফেরালে ফেরে না হাসে কেবল,
সে	ফিরিয়া গেলে চোখে আসে জল।
	একি হল দায়, আঁখি নাহি চায়
	না দেখিলে তায়, প্রাণ পাগল।।

মায়ের আমার রূপ দেখে যা

বাণী

মায়ের আমার রূপ দেখে যা মা যে আমার কেবল জ্যোতি।
(মার) কৌশিকি রূপ দেখ্ রে চেয়ে, মা, শুদ্ধা মহা স্বরস্বতী।।
	পরম শুভ্র জ্যোতির্ধারায়
	নিখিল বিশ্ব যায় ডুবে যায়।
কোটি শ্বেতশতদলে বিরাজে মা বেদবতী।।
সপ্তসর্গ সপ্ত পাতাল শুদ্ধ হয়ে উঠল নেয়ে
সাত্ত্বিকি মোর জগন্মাতার জ্যোতির্সুধার প্রসাদ পেয়ে।
	নৃত্যময়ী শব্দময়ী কালী
	এলো শান্ত কল্যাণ-দীপ জ্বালি’
দেখ রে পরমাত্মায় সব জননী সে জ্যোতিষ্মতী।।

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে

বাণী

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে।
সেই চৈতালি গোধূলি-লগনে এসো তুমি ধীরে ধীরে — 
				গিরি-ঝর্নার তীরে।।
বনের কিশোর এসো সেথা হেসে হেসে
সাজায়ো আমায় বন-লক্ষ্মীর বেশে,
ধোওয়াব তোমার চরণ-কমল বিরহ-অশ্রু নীরে।।
ঘনায়ে গহন সন্ধ্যার মায়া আসিও সোনার রথে,
অতি সুকোমল শিঁরিশ, কুসুম বিছায়ে রাখিব পথে।
মালতী-কুঞ্জে ডাকিবে পাপিয়া পাখি
তুমি এসে বেঁধো আলোক-লতার রাখি,
ভ্রমরের সম পিপাসিত মোর আঁখি কাঁদিবে তোমারে ঘিরে।।

সোনার খাটে ঘুমায় কন্যা রূপার খাটে কেশ

বাণী

	সোনার খাটে ঘুমায় কন্যা রূপার খাটে কেশ।
	ময়ূরপঙ্খী যাও উড়ে সেই মধুমালার দেশ।।
তার	নামের চেয়ে রূপে সখি অনেক বেশী মউ,
	নবলক্ষের মালা পাবে সে হবে যার বউ।
	তারায় তারায় ছড়িয়ে আছে তারি রূপের রেশ,
	ময়ূরপঙ্খী যাও উড়ে সেই মধুমালার দেশ।।

নাটক : ‘মধুমালা’