আজ বন-উপবন মে চঞ্চল

বাণী

আজ বন-উপবন মে চঞ্চল মেরে মনমে।
মোহন মুরলীধারী কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
সুনো মোহন নূপুর গুঞ্জত হ্যয় —
বাজে মুরলী বোলে রাধা নাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।
বোলে বাঁশরি আও শ্যাম-পিয়ারি,
ঢুঁড়ত হায় শ্যাম-বিহারী,
বনমালা সব চঞ্চল ওড়াওয়ে অঞ্চল —
কোয়েল সখি গাওয়ে সাথ গুণধাম কুঞ্জ কুঞ্জ শ্যাম।।
ফুলকলি ভোলে ঘুঁঘট খোলে
পিয়াকে মিলনকি প্রেমকি বোলি বোলে,
পবন পিয়া লেকে সুন্দর সৌরভ —
হাঁসত যমুনা সখি দিবস-যাম কুঞ্জ কুঞ্জ ফিরে শ্যাম।।

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।

কল-কল্লোলে ত্রিংশ কোটি-কণ্ঠে উঠেছে গান

বাণী

কল-কল্লোলে ত্রিংশ কোটি-কণ্ঠে উঠেছে গান
জয় আর্যাবর্ত, জয় ভারত, জয় হিন্দুস্থান।।
শিরে হিমালয় প্রহরী, পদ বন্দে সাগর যাঁর,
শ্যাম বনানী কুন্তলা রানী জন্মভূমি আমার।
	ধূসর কভু উষর মরুতে,
	কখনো কোমল লতায় তরুতে,
কখনো ঈশানে জলদ-মন্দ্রে বাজে-মেঘ বিষাণ।।
সকল জাতি সকল ধর্ম পেয়েছে হেথায় টাই
এসেছিল যারা শত্রুর রূপে, আজ সে স্বজন ভাই।।
	বিজয়ীর বেশে আসিল যাহারা,
	আজি মা’র কোলে সন্তান তারা,
(তাই) মা’র কোল নিয়ে করে কাড়াকাড়ি হিন্দু মুসলমান।।
জৈন পার্শী বৌদ্ধ শক্তি খ্রিস্টান বৈষ্ণব
মা’র মমতায় ভুলিয়া বিরোধ এক হয়ে গেছে সব।
	ভুলি’ বিভিন্ন ভাষা আর বেশ
	গাহিছে সকলে আমার স্বদেশ
শত দল মিলে’ শতদল হ’য়ে করিছে অর্ঘ্য দান।।

এসো শঙ্কর ক্রোধাগ্নি হে প্রলয়ঙ্কর

বাণী

এসো শঙ্কর ক্রোধাগ্নি হে প্রলয়ঙ্কর।
রুদ্রভৈরব! সৃষ্টি সংহর, সংহর।।
জ্ঞান-হীন তমসায় মগ্ন পাপ-পঙ্কিলা
বিশ্ব জুড়ি’ চলে শিবহীন যজ্ঞের লীলা,
শক্তি যথায় করে আত্ম-বিসর্জন ঘৃণায় —
ধ্বংস কর সেই অশিব-যজ্ঞ — অসুন্দর।।
যথা দেবী শক্তি — নারী অপমান সহে
গ্লানিকর হানাহানি চলে ধরমের মোহে,
হানো সংঘাত, অভিসম্পাৎ সেথা নিরন্তর।।

যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে

বাণী

	যত ফুল তত ভুল কণ্টক জাগে
	মাটির পৃথিবী তাই এত ভালো লাগে।।
হেথা	চাঁদে আছে কলঙ্ক, সাধে অবসাদ
হেথা	প্রেমে আছে গুরুগঞ্জনা অপবাদ;
আছে	মান-অভিমান পিরিতি-সোহাগে।।
হেথা	হারাই হারাই ভয়, প্রিয়তমে তাই
	ব’ক্ষে জড়ায়ে কাঁদি ছাড়িতে না চাই।
	স্বর্গের প্রেমে নাই বিরহ-অনল
	সুন্দর আঁখি আছে, নাই আখি-জল;
	রাধার অশ্রু নাই কুমকুম-ফাগে।।

নাটকঃ অন্নপূর্ণা (নাট্যকারঃ মণিলাল বন্দোপাধ্যায়)

চিকন কালো ভুরুর তলে কাজল আঁখি দোলে

বাণী

চিকন কালো ভুরুর তলে কাজল আঁখি দোলে রে
যেন বন-লতার কোলে কোয়েল পাখি দোলে রে।।
	যেন ফুল-ধনুর উজল তীর গো হায়
	বাদশাজাদীর রঙ মহলে 
যেন নীলার প্রদীপ জ্বলে দোলে রে দোলে রেদেোলে রে।।
	সজল শিশির মাখা দু'টি কুসুম গো
	সুনীল দু'টি কমল -কুড়িঁ
যেন রূপের সাঁতার -জলে দোলে রে দোলে রে দোলে রে।।