তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে

বাণী

তাপসিনী গৌরী কাঁদে বেলা শেষে,
উপবাস-ক্ষীণ তবু যোগিনী বেশে।।
বুকে চাপি’ করতল বিল্বপত্র-দল,
কেঁপে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে শিব-আবেশে।।
অস্ত রবি তা’র সহস্র করে
চরণ ধ’রে বলে ফিরে যেতে ঘরে,
‘শিব দাও শিব দাও’ ব’লে লুটায় ধূলি-তলে —
কৈলাস-গিরি পানে চাহে অনিমেষে।।

ওরে হতভাগী রক্ত-খাগী

বাণী

(ওরে)		হতভাগী রক্ত-খাগী, কোথায় ছিলি বল্!
(তোর)		দেখে ছিরি ভয়ে মরি চোখে আসে জল।।
			বেণী খুলে এলোকেশে
			বেড়াস্ এ কোন্ পাগল-বেশে,
		চাঁদকে ফেলে নীল আকাশে আন্‌লি কোন্ অনল।।
		(কপালে জ্বাল্‌লি কোন্ অনল)
(ঐ)		সদ্য ফোঁটা পদ্মফুলে কে মাখাল কালি?
		মা আমরি কপাল মন্দ কারে দিব গালি।
			রাজ-দুলালী আদর পেয়ে
			সাজ্‌লি ছি ছি নাগর মেয়ে,
(তোর)		চিন্‌তে পারি, গৌরী দেখে রাঙা পদতল।।

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে

বাণী

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে,
সেথা ধরবে বসন-চোরা ভূতে, পারবিনে আর পালাতে॥
	সে দেখলে কি আর রক্ষে আছে,
	ও-তোর বসন গিয়ে উঠ্‌বে গাছে,
ওলো গোবর্ধন-গিরিধারী সে — পারবিনে তায় টলাতে॥
	দেখতে পেলে ব্রজবালা,
	ঘট কেড়ে সে ঘটায় জ্বালা,
(ওলো) নিজেই গ’লে জল হ’বি তুই পারবিনে তায় গলাতে॥
	ঠেলে ফেলে অগাধ-নীরে
	সে হাসে লো দাঁড়িয়ে তীরে,
শেষে ভাসিয়ে নিয়ে প্রেম-সাগরে ওলো দোলায় নাগরদোলাতে॥

আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস

বাণী

আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস চেয়ে' চেয়ে'
আমায় চেয়ে দেখিস না তাই রূপ-গরবী মেয়ে।
		ওলো রূপ-গরবী মেয়ে।।
	নাইতে গিয়ে নদীর জলে
	দেরি করিস নানান ছলে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখতে কখন আসবে জোয়ার ধেয়ে।।
	চাদেঁর সাথে মিলিয়ে দেখিস চাঁদপানা মুখ তোর
	ভাবিস তুই-ই আসল শশী চাঁদ যেন চকোর
		ওলো চাঁদ যেন চকোর।
	বনের পথে আনমনে
	দাঁড়িয়ে থাকিস অকারণে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখেই বুঝি বিহগ ওঠে গেয়ে'।

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত

বাণী

জাগো অমৃত-পিয়াসি চিত
	আত্মা অনিরুদ্ধ
	কল্যাণ প্রবুদ্ধ।
জাগো শুভ্র জ্ঞান পরম
নব প্রভাত পুষ্প সম
	আলোক-স্নান-শুদ্ধ।।
সকল পাপ কলুষ তাপ দুঃখ গ্লানি ভোলো
পুণ্য প্রাণ-দীপ-শিখা স্বর্গ পানে তোলো।
বাহিরে আলো ডাকিছে জাগো তিমির কারারুদ্ধ।।
	ফুলের সম আলোর সম
	ফুটিয়া ওঠ হৃদয় মম
রূপ রস গন্ধে অনায়াস আনন্দে জাগো মায়া-বিমুগ্ধ।।

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে

বাণী

ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবি রে জাগায়ো না জাগায়ো না,
সারা জীবন যে আলো দিল ডেকে তার ঘুম ভাঙায়ো না।।
	যে সহস্র করে রূপরস দিয়া
	জননীর কোলে পড়িল ঢলিয়া
তাঁহারে শান্তি-চন্দন দাও ক্রন্দনে রাঙায়ো না।।
যে তেজ শৌর্য-শক্তি দিলেন, আপনারে করি ক্ষয়
			তাই হাত পেতে নাও।
বিদেহ রবি ও ইন্দ্র মোদের নিত্য দেবেন জয়
			কবিরে ঘুমাতে দাও।
	অন্তরে হের হারানো রবির জ্যোতি
	সেইখানে তারে নিত্য কর প্রণতি
	আর কেঁদে তাঁরে কাঁদায়ো না।।