শাওন রাতে যদি

বাণী

শাওন–রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে, নয়নে বারি ঝরে।।
ভুলিও স্মৃতি মম, নিশীথ–স্বপন সম
আঁচলের গাঁথা মালা ফেলিও পথ ‘পরে।।
ঝুরিবে পূবালি বায় গহন দূর–বনে,
রহিবে চাহি’ তুমি একেলা বাতায়নে।
বিরহী কুহু–কেকা গাহিবে নীপ–শাখে
যমুনা–নদীপারে শুনিবে কে যেন ডাকে।
বিজলী দীপ–শিখা খুঁজিবে তোমায় প্রিয়া
দু’ হাতে ঢেকো আঁখি যদি গো জলে ভরে।।

প্রেম আর ফুলের জাতি কুল

বাণী

প্রেম আর ফুলের জাতি কুল নাই,
বুল্‌বুলি সে কথা ভুলিল কি হায়।
সে কেন তবে আসে না
রাতের ফুল মোর হাতে শুকায়।।
রাজ-বাগিচার ফুল হোক যত গরবী
পথের ফুলেও আছে তা’রি মত সুরভি,
রসের পুতলী হয় পথের ভিখারিনী
		যদি প্রেম পায়।।

এবার যখন উঠ্‌বে সন্ধ্যাতারা সাঁঝ আকাশে

বাণী

		এবার যখন উঠ্‌বে সন্ধ্যাতারা — সাঁঝ আকাশে
		দেখতে পাবে দু’টি নতুন তারা — তাহার পাশে।।
			চেয়ে’ দেখ ভালো ক’রে
			কা’র দু’টি চোখ যেন ম’রে,
		তারা হয়ে ধরার পানে চাহে তোমার আঁখি দেখার আশে।।
		যে দু’টি চোখ নিত্য লোকের মাঝে তোমায় দিত লাজ
		পড়বে মনে গো —
		সেই দু’টি চোখ চিরতরে এই পৃথিবী হতে হারিয়ে গেছে আজ।
			পায়নি গো, তাই অভিমানে
			চ’লে গেলে দূর বিমানে,
(দেখো)	সেদিন যেন আজের মত চাইতে ওদের পানে
							দ্বিধা নাহি আসে।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ হে ইন্দ্রানী

বাণী

বেদনার সিন্ধু-মন্থন শেষ, হে ইন্দ্রানী,
জাগো, জাগো করে সুধা-পাত্রখানি।।
রোদন-সায়রে ধুয়ে পুষ্পতনু
এসো অশ্রুর বরষার ইন্দ্র-ধনু,
হের কুলে অনুরাগে জীবন-দেবতা জাগে
	ধরিবে বলিয়া তব পদ্মপাণি।।
তব দুখ-রাত্রির তপস্যা শেষ- এলো শুভ দিন,
অতল-তমসা-লক্ষ্মী গো তুমি অমরার
এসো এসো পার হ'য়ে ব্যথার পাথার।
অশ্রুত অশ্রুর নীরবতা কর দূর
	কূলে কূলে হাসির তরঙ্গ হানি।।

চাঁদের মতো নীরবে এসো প্রিয়

বাণী

চাঁদের মত নীরবে এসো প্রিয় নিশীথ রাতে।
ঘুম হয়ে পরশ দিও হে প্রিয়, নয়ন-পাতে।।
	তব তবে বাহির-দুয়ার মম
	খুলিবে না এ-জনমে প্রিয়তম,
মনের দুয়ার খুলি’ গোপনে এসো বিজড়িত রহিও স্মৃতির সাথে।।
কুসুম-সুরভি হ’য়ে এসো নিশি-পবনে,
রাতের পাপিয়া হয়ে পিয়া পিয়া ডাকিও বব-ভবনে।
	আঁখি-জল হয়ে আঁখিতে আসিও
	বেণুকার সুর হয়ে শ্রবণে ভাসিও,
বিরহ হ’য়ে এসো হে চির-বিরহী আমার অন্তর-বেদনাতে।।

গীতিচিত্রঃ ‘অতনুর দেশ’