বাঁশি বাজায় কে কদম তলায়

বাণী

বাঁশি বাজায় কে কদম তলায় ওলো ললিতে
শুনে সরে না পা পথ চলিতে।।
তার বাঁশির ধ্বনি যেন ঝুরে ঝুরে
আমারে খোঁজে লো ভুবন ঘুরে
(ওসে) কি যেন চাহে মোরে বলিতে।।
আছে গোকুল নগর আরো কত নারী
কত রূপবতী বৃন্দাবন-কুমারী
	আছে গোকুল নগরে।
কেন আমারি নাম লয়ে বংশীধারী
আসে নিতি-নিতি মোরে ছলিতে।
সখি নির্মল কুলে মোর কৃষ্ণ -কালি
কেন লাগালে কালিয়া বনমালী
আমার বুকে দিল তুষের আগুন জ্বালি
আরো কত জনম যাবে জ্বলিতে।।

নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া

বাণী

	নীপ-শাখে বাঁধো ঝুলনিয়া,
	কাজল-নয়না শ্যামলিয়া॥
	মেঘ-মৃদঙ্গ তালে শিখী নাচে ডালে-ডালে।
	মল্লার গান গাহিছে পবন পূরবিয়া॥
	কেতকী কেশরে কুন্তল করো সুরভি,
পরো	কদম মেখলা কটি-তটে রূপ-গরবী।
	নব-যৌবন জল-তরঙ্গে,
	পায়ে পাঁয়জোর বাজুক রঙ্গে
	কাজরি ছন্দে নেচে চল করতালি দিয়া॥

সাজে অভিনব সাজে রাই

বাণী

সাজে অভিনব সাজে রাই, — শ্যাম পাগলিনী
নয়ন টিপিয়া হাসে চারিপাশে আহিরিণী
আনমনে মনের ভুলে বাঁধে চূড়া বেণী খুলে
সিঁথি-মৌর ফেলে পরে শিখী-পাখা বিনোদিনী রাই সাজে একি সাজে রে
তারে হেরিয়া কি বনে শ্যাম লুকাইল লাজে রে।
গাগরি বিসরি বাজায় সে বাঁশরি,
পায়েলা পরা-পায়ে নূপুর বাজে রে।
পরিহরি নীলশাড়ি এলো পীত ধরা পরি
হেরিয়া কিশোর হরি মুখে বলে ‘হরি হরি’
আয় রে শ্রীদাম যা রে দেখে, আয় রে সুবল যা রে দেখে,
আয় বিরজা যা রে দেখে, আয় বিশাখা যা রে দেখে,
কার-চাঁদে তোরা দেখেছিস্‌ এবার গোরাচাঁদে তোরা যা লো দেখে।
উছলে রূপের ছটা কোটি রবি-শশী জিনি।।

রব না কৈলাশপুরে আই য়্যাম

বাণী

রব না কৈলাশপুরে আই য়্যাম ক্যালকাটা গোয়িং।
যত সব ইংলিশ ফ্যাশান আহা মরি কি লাইটনিং।।
	ইংলিশ ফ্যাশান সবই তার
	মরি কি সুন্দর বাহার,
	দেখলে বন্ধু দেয় চেয়ার —
		কাম-অন ডিয়ার গুড মর্নিং।।
	বন্ধু আসিলে পরে
	হাসিয়া হান্ডসেক করে,
	বসায় তারে রেসপেক্ট করে —
		হোল্ডিং আউট এ মিটিং।।
	তারপর বন্ধু মিলে
	ড্রিংকিং হয় কৌতুহলে,
	খেয়েছ সব জাতিকুলে —
		নজরুল এসলাম ইজ টেলিং।।

‘লেটো গান’

কদম কেশর পড়ল ঝরি

বাণী

কদম কেশর পড়ল ঝরি তখন তুমি এলে।
বাদল মেঘে গগন ঘেরি ঝড়ের কেতন মেলে।।
	ঝরিয়ে বন-কেয়ার রেণু
	বজ্ররবে বাজিয়ে বেণু,
বৃষ্টি ভেজা দুর্বা দ’লে অরুণ-চরণ ফেলে।।
নদীর দু’কূল ভাঙল যবে অধীর স্রোতের জলে,
তখন দেখি হে অশান্ত তোমার তরী চলে।
	যূথীর নীরব অশ্রু ঝরে
	শ্যামল তোমার চরণ ’পরে,
আকাশ চাহে তোমার পথে তড়িৎ প্রদীপ জ্বেলে।।

আনো আনো অমৃত বারি

বাণী

আনো আনো অমৃত বারি।
পিপাসিত চিত্তের তৃষ্ণা নিবারি।।
আনো নন্দন হতে পারিজাত-কেশর
তীর্থ-সলিল আনো ভরি’ মঙ্গল-হেম-ঝারি।।
প্রখর সূর্যকরে দহিছে দিগন্তর,
মন্দাকিনী-ধারা সঞ্জীবনী আনো নারী।।