রে অবোধ শূন্য শুধু শূন্য

বাণী

রে অবোধ!		শূন্য শুধু শূন্য ধূলো মাটির ধরা।
শূন্য ঐ		অসীম আকাশ রংবেরং-এর খিলান-করা।।
হাওয়াতে		শূন্য নিমেষ নিমেষে যার হ’য়ে শেষ।
এসেছি		পথিক এ পর-দেশ জীবন-মৃত্যু ভরা।।
হুরী আর		গানের প্রিয়া, সাথে তার শারাব নিয়া
চল ঐ		সবুজ-বিথার ঝর্না-কিনার গোলাব-ঝরা।।
এর অধিক		সুখের বিলাস স্বরগে করিসনে আশ
সে স্বরগ		নাই রে কোথাও এমন উধাও দুখ্-পসরা।।

মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

ও গিন্নী বদন তোল

বাণী

ও গিন্নী বদন তোল একটু হানো নয়না।
আমি জুয়েলারীর দোকান হব গায়ে হব গয়না।।
(তোমার) সিঁথের হব সিঁথিপাটি কেশে হেয়ার পিন
চিরুনি হয়ে খোপায় বিঁধে রইব চিরদিন।
টায়রা ঝাপটা লেসপিন তাহলে মন্দ হয় না।।
টানা টিকলি কাঁটা হব ফুলের নয় গো চুলের
টাপ মাকড়ি দুল হব গো একটু বেশি ঝুলের।
কানের উপর কান হব গো নাকছাবি ঐ নাকের,
কাঁচ পোকা আর খয়েরি টিপ হব ভুরূর ফাঁকে,
নোলক বেসর তাও হব যা আজকাল লোক ছোঁয় না।।
গলার হব হার নেকলেস গজমতির মালা,
হাতে হব বাজু বন্দ, পৈঁচী চুড়ি বালা।
তাগা, কেয়ুর, রুলি, শাঁখা, জসম, আংটি, খাড়ু
তাবিজ হব নোয়া হব অনন্ত সূচারু।
ভুলে গেছি — নথ নৈলে গিন্নীর মান রয় না।।
নূপুর তোড়া হ্যাদে দেখো ভুলেই দেছি দেখি
ঝুমকো ঢেঁড়ি চিকের কথা মাদুলাও বাকি,
জাল পাটরি কি হই আর কী ফেলে রাখি
বাদ কি গেল দাও লিস্টি মুখ ভার আর সয় না।।

‘গিন্নীর কাছে গয়নার ফর্দ’

চম্পা পারুল যূথী টগর চামেলা

বাণী

চম্পা পারুল যূথী টগর চামেলা।
আর সই, সইতে নারি ফুল-ঝামেলা।।
	সাজায়ে বন-ডালি,
	বসে রই বন-মালি
যা'রে দিই এ ফুল সেই হানে হেলাফেলা।।
	কে তুমি মায়া-মৃগ
	রতির সতিনী গো
ফুল নিতে আসিলে এ বনে অবেলা।।
	ফুলের সাথে প্রিয়
	ফুল মালরে নিও
তুমিও এক সই, আমিও একেলা।।

রোজ হাশরে আল্লা আমার ক'রো না বিচার

বাণী

রোজ হাশরে আল্লা আমার ক'রো না বিচার (আল্লা)
বিচার চাহি না তোমার দয়া চাহে এ গুনাহ্‌গার।।
	আমি জেনে শুনে জীবন ভ'রে
	দোষ করেছি ঘরে পরে
আশা নাই যে যাব ত'রে বিচারে তোমার।।
বিচার যদি করবে কেন রহমান নাম নিলে।
ঐ নামের গুণেই ত'রে যাব, কেন এ জ্ঞান দিলে।
	দীন ভিখারি ব'লে আমি
	ভিক্ষা যখন চাইব স্বামী
শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে পারবে নাকো আর।।

রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে

বাণী

		রামছাগী গায় চতুরঙ্গ বেড়ার ধারে,
		গাইয়ে ষাঁড়-সাথে বাছুর হাম্বা রবে — ভীষণ নাদ ছাড়ে,
		ফেটে বুঝি গেল কান, প্রাণে মারে!
		শুনিয়া হাই তোলে ভেউ ভেউ রোলে — ভুলোটা পগার পারে।।
তেলেনা: 		ডিম নেরে, তা দেরে, আমি না রে, তুই দেরে,
		নেরে ডিম, দেরে তা, তা দেনা,
		ওদের না না, তাদের না না তুই দেরে ডিম!
		ওদের নারী তাদের নারী দেদার নারী,
		দে রে নারী, যা ধেৎ, টানাটানি!
সরগম:	 	ধ প র ধ র গ, গ র গ ধ, গ র গ ধ,
		ন ধ ম ম, প র ন ম র গ, স র ন ধ স ম।।
তবলার বোল: 	ভেগে যা, মেগে খা, মেরে কেটে খা, মেরে কেটে খা’
		তেড়ে ধরে কাট ধুম, ধরে কেটে রাখুন না রাখুন না,
		কান দুটি যাক তবু কাটা থাক দুম।।

‘চতুরঙ্গ’