প্রদীপ নিভায়ে দাও উঠিয়াছে চাঁদ

বাণী

প্রদীপ নিভায়ে দাও, উঠিয়াছে চাঁদ।
বাহুর ডোর আছে, মালায় কি সাধ।।
ফুল আনিও না ভবনে
কেশের সুবাস তব ঘনাক মনে,
হৃদয়ের লাগি মোর হৃদয় কাঁদে চন্দন লাগে বিস্বাদ।।
খোলো গুণ্ঠন, ফেলে দাও আভরণ,
হাতে রাখ হাত, তোলো আনত নয়ন।
বাহিরে বহুক বাতাস
বক্ষে লাগুক মোর তব ঘন শ্বাস,
চম্পার ডালে ব’সে মোদেরে দেখে,
কুহু আর পাপিয়ায় করুক বিবাদ।।

১. বাহু-বন্ধন

আমি নহি বিদেশিনী

বাণী

	আমি নহি বিদেশিনী।
(ঐ)	ঝিলের ঝিনুক, বিলের শালুক ছিল মোর সঙ্গিনী।।
		ঐ বাঁধা-ঘাট, ঐ বালুচর
		মাটির প্রদীপ, ঐ মেটে ঘর,
	চেনে মোরে ঐ তুলসীতলার নববধূ ননদিনী।।
	‘বৌ কথা কও’ পাখি,
	বাদ্‌লা নিশীথে মনের নিভৃতে আজও যায় মোরে ডাকি’।
		এত কালো চোখ এলোকেশ-ভার
		এত শ্যাম-মেঘ আছে কোথা আর,
(ঐ)	পদ্ম-পুকুরে মোরে স্মরি’ ঝুরে সখি মোর কমলিনী।।

পাশ্চাত্য সুর

ওরে আজই না হয় কালই তোরে

বাণী

ওরে		আজই না হয় কালই তোরে কালী কালী বল্‌তে হবে।
তুই 		কাঁদ্‌বি ধ’রে কালীর চরণ মহাকাল আসিবে যবে।।
		তুই জন্মের আগে ছিলি শিখে মা বল্‌তে মা কালীকে,
তুই 		ভুল্‌লি আদি-জননীকে দু’দিন মা পেয়ে ভবে।।
তুই 		কালি দিয়ে লিখ্‌লি হিসাব কেতাব-পুঁথি শিখ্‌লি পড়া,
তোর		মাঠে ফসল ফুল্ ফুটালো কালো মেঘের কালি-ঝরা।
		তোর চোখে জ্বলে কালীর কালো তাই জগতে দেখিস্ আলো,
(কালি)	প্রসাদ গুণে সেই আলো তুই হৃদ্‌পদ্মে দেখ্‌বি কবে।।

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি

বাণী

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি
আকাশ কাঁপে সে সুর শুনে সর্বনাশী।।
	বন ঢেলে দেয় উজাড় ক'রে
	ফুলের ডালা চরণ' পরে,
নীল গগনে ছুটে আসে মেঘের রাশি।।
বিপুল ঢেউয়ের নাগর-দোলায় সাগর দুলে
বান ডেকে যায় শীর্ণা নদীর কুলে কূলে
	তোমার প্রলয় মহোৎসবে
	বন্ধু ওগো, ডাকবে কবে?
ভাঙবে আমার ঘরের বাঁধন কাঁদন হাসি।।

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী

বাণী

দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী।
শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে শ্মশান মাঝে শিব-দুলালী॥
	আজ শান্ত সিন্ধু তীরে
	অশান্ত ঝড় থেমেছে রে,
মা’র কালো রূপ উপ্‌চে পড়ে ছাপিয়ে ভুবন গগন-ডালি॥
আজ অভয়ার ওষ্ঠে জাগে শুভ্র করুণ শান্ত হাসি,
আনন্দে তাই বসন ফেলি’ মহেন্দ্র ঐ বাজায়-বাঁশি,
	ঘুমিয়ে আছে বিশ্ব ভুবন
	মায়ের কোলে শিশুর মতন,
পায়ের লোভে মনের বনে ফুল ফুটেছে পাঁচমিশালি॥

এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন

বাণী

	এসো ঠাকুর মহুয়া বনে ছেড়ে বৃন্দাবন,
	ধেনু দেব বেণু দেব মালা চন্দন॥
	কেঁদে কেঁদে কয়লা খাদে যমুনা বহাব;
	পলাশ বনে জাগরণে নিশি পোহাব
	রাধা হয়ে বাঁধা দেব আমর প্রাণ মন॥
মোর	নটকান রঙ শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে,
	পীত ধড়া পরাব, নীল অঙ্গ ঘিরে।
	পিয়াল ডালে দোলনা বেঁধে দুলিব দুজন॥
	ভাসুর-শ্বশুর দ্যাখে যদি করব নাকো লাজ
	বলব আমার শ্যামের বাঁশি বাজ রে আবার বাজ
শ্যাম	তোমার লাগি জাতি কুল দিব বিসর্জন।।