বাণী
আঁখি-পাতা ঘুমে জড়ায়ে আসে ওগো চাঁদ জাগিয়া থেকো সুদূর আকাশে।। জাগিয়া থেকো কবরীর মালা পথ যেন পায় সে তোমার সুবাসে।।
রাগ ও তাল
রাগঃ কাফি-কানাড়া
তালঃ আড়া চৌতাল
ভিডিও
স্বরলিপি

আঁখি-পাতা ঘুমে জড়ায়ে আসে ওগো চাঁদ জাগিয়া থেকো সুদূর আকাশে।। জাগিয়া থেকো কবরীর মালা পথ যেন পায় সে তোমার সুবাসে।।
রাগঃ কাফি-কানাড়া
তালঃ আড়া চৌতাল

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ। তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥ বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে, বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে। প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা দেখি তোমায় আপন ভোলা; রাজপথেতে লোকের মেলা তুমি আপন সুরে অন্ধ॥ বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর, বন্ধু তোমার হাতের বীণা তোমার মতই লজ্জাহীনা তোমার মতই ছিন্ন ভিনা তোমার মতই হত-ছন্দ॥
[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]
রাগঃ
তালঃ
বসন্ত আজ আসল ধরায় ফুল ফুটেছে বনে বনে। শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায় ফাল্গুনী মোর মন-বনে।। ফুলগুলি হায় ঝরেছিল হিমেল হাওয়ার পরশনে, দখিন হাওয়ার হিল্লোলে আজ প্রিয়তমের স্পর্শ নে’। উদাসী এই মাতাল বাতাস জাগায় ধরায়, মাতায় আকাশ, হাসিতে তার কিসের আভাস মন জানে, মনে মনে।।
রাগঃ
তালঃ
অশিব শক্তি হতে হে শঙ্কর অষ্টসিদ্ধিরে কর ত্রাণ, ত্রাণ কর শঙ্কর।।
নাটক : ‘অন্নপূর্ণা’
রাগঃ
তালঃ
কিশোরীরা : মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়। ১ম কিশোরী : আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।। ২য় কিশোরী : বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী। ৩য় কিশোরী : আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা ৪র্থ কিশোরী : আমি চম্পক খোঁপায়।। নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে, প্রজাপতিদ্বয় : তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে। কিশোরীরা : মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী, আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি। প্রজাপতিদ্বয় : আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।
নাটক : ‘আলেয়া’
রাগঃ
তালঃ
আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্ণি, আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি! আমি উন্মন মন উদাসীর, আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর। আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের, আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের! আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়, চিত-চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর! আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল-ক’রে দেখা অনুখন, আমি চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা’র কাঁকন-চুড়ির কন-কন! আমি চির-শিশু, চির-কিশোর, আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচড় কাঁচলি নিচোর! আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া, আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া। আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি, আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি, এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ! আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ! আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী, মহা-সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম মম বাঁশরীর তানে পাশরি’। আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী। আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার, নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার! মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না — অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না — বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত। আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন, আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন! আমি খেয়ালী-বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন! আমি চির-বিদ্রোহী বীর — বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! বল বীর, বল বীর।
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা
