পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি

বাণী

পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি
হ’ল বিশ্ব-রাধা ঐ সুরে উদাসী।।
শুনে ঐ রাখালের বেণু
আসে ছুটে আলোক-ধেনু,
ঐ নীল গগনে রাঙা মেঘে ওড়ে গো-খুর রেণু,
ওসে শ্যাম-পিয়ারী গোপ-ঝিয়ারি গ্রহ তারার রাশি।।
	সেই বাঁশির অন্বেষণে
	যত মন-বধু যায় বনে,
তাদের প্রেম যমুনায় বান ডেকে যায় কুল খোয়ায় গোপনে।
তারা রাস দেউলে রসের বাউল আনন্দ-ব্রজবাসী।।

মোরা বিহান-বেলা উঠে রে ভাই চাষ করি এই মাটি

বাণী

		মোরা বিহান-বেলা উঠে রে ভাই চাষ করি এই মাটি।
		যে মাটির বুকে আছে পাকা ধানের সোনার কাঠি॥
		ফসল বুনে রোদের তাতে উঠি যখন ঘেমে
		সদয় হয়ে আকাশ বেয়ে বৃষ্টি আসে নেমে
(ওরে)		মুচকি হেসে বৌ এনে দেয় পান্তা ভাতের বাটি॥
		আশ মেটে না চারা ধানের পানে চেয়ে চেয়ে
		মরাই ভ’রে থাকবে ওরাই আমার ছেলে মেয়ে।
(আমি)	চাই না স্বর্গ, পাই যদি এই পাকা ধানের আটি (রে ভাই)॥
		জল নিতে যায় আড়চোখে চায় বৌ-ঝি নদীর কূলে
		খুশিতে বুক ভ’রে ওঠে, খাটুনি যাই ভুলে।
		এ মাঠ নয় ভাই বৌ পেতেছে ঠান্ডা শীতল পাটি॥

বরণ করে নিও না গো

বাণী

বরণ করে নিও না গো নিও হরণ ক’রে।
ভীরু আমায় জয় কর গো তোমার মনের জোরে।।
	পরান ব্যাকুল তোমার তরে
	চরণ শুধু বারণ করে,
লুকিয়ে থাকি তোমার আশায় রঙিন বসন প’রে।।
লজ্জা আমার ননদিনী জটিলারই প্রায়,
যখনই যাই, শ্যামের কাছে দাঁড়ায়ে আছে ঠায়।
	চাইতে নারি চোখে চোখে
	দেখে পাছে কোন লোকে,
নয়নকে তাই শাসন (বারণ) করি অশ্রুজলে ভ’রে।।

সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী

বাণী

সোনার হিন্দোলে কিশোর–কিশোরী দোলে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে
বিন্দু বিন্দু বারি অবিরত পড়ে ঝরি’ বাজে তাল জলদ মৃদঙ্গে।।
	জড়াইয়া শ্যামে দোলে ভীরু রাধা
	থির বিজুরি ডোরে মেঘ যেন বাঁধা
পল্লব কোলে ফুলদলে দোলে (যেন) গোপীদল গোপীবল্লভ সঙ্গে।।
	উল্লাসে থরথর খরতর বহে বায়
	পুলকে ডালে ডালে কদম্ব শিহরায়।
	দৃষ্টিতে গোপীদের বৃষ্টির লাবনি
	আনন্দ উতরোল গাহে বৃন্দাবনী
নূপুর মধুর বাজে যমুনা তরঙ্গে ঝুলনের উৎসব রঙ্গে।।

নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

বাণী

নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।

মমতাজ মমতাজ তোমার তাজমহল

বাণী

	মমতাজ মমতাজ তোমার তাজমহল —
যেন 	ফিরদৌসের একমুঠো প্রেম,
	বৃন্দাবনের একমুঠো প্রেম, আজো করে ঝলমল।।
	কত সম্রাট হ’ল ধূলি স্মৃতির গোরস্তানে —
	পৃথিবী ভুলিতে নারে প্রেমিক শাহ্‌জাহানে,
	শ্বেত মর্মরে সেই বিরহীর ক্রন্দন –মর্মর গুঞ্জরে অবিরল।।
	কেমনে জানিল শাজাহান – প্রেম পৃথিবীতে ম’রে যায়,
তাই	পাষাণ প্রেমের স্মৃতি রেখে গেল পাষাণে লিখিয়া হায়!
যেন	তাজের পাষাণ অঞ্জলি ল’য়ে নিঠুর বিধাতা পানে
	অতৃপ্ত প্রেম বিরহী আত্মা আজো অভিযোগ হানে!
বুঝি	সেই লাজে বালুকায় মুখ লুকাইতে চায় শীর্ণা যমুনা জল।।