স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ

বাণী

স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ মোদেরে ঘেরি
তব অনন্ত করুণা ও স্নেহ নিশিদিন নাথ হেরি।।
	তব চন্দন-শীতল কান্তি
	সৌম্য-মধুর তব প্রশান্তি
জড়ায়ে রয়েছে ছড়ায়ে রয়েছে অঙ্গে ত্রিভুবনেরই।।
বাহিরে তুমি বন্ধু স্বজন আত্মীয় রূপী মম
অন্তরে তুমি পরমানন্দ প্রিয় অন্তরতম।
	নিবেদন করে তোমাতে যে প্রাণ
	সেই জানে তুমি কত মহান
যেমনি সে ডাকে সড়া দাও তাকে তিলেক কর না দেরি।।

১. চির

তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে

বাণী

তোমার সৃষ্টি মাঝে হরি হেরিতে যে নিতি পাই তোমায়।
তোমার রূপের আবছায়া ভাসে গগনে, সাগরে, তরুলতায়॥
চন্দ্রে তোমার মধুর হাসি, সূর্যে তোমার জ্যোতি প্রকাশ;
করুণা সিন্ধু তব আভাস বারি-বিন্দুতে হিমকণায়॥
ফোটা ফুলে হরি, তোমার তনুর গোপী-চন্দন গন্ধ পাই,
হাওয়ায় তোমার স্নেহের পরশ অন্নে তোমার প্রসাদ খাই।
রাসবিহারী তোমার রূপ গোলে, দুঃখ শোকের হিন্দোলে,
তুমি, ঠাঁই দাও যবে ধর কোলে মোর বন্ধু স্বজন কেঁদে ভাসায়॥

তুমি ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে

বাণী

তুমি	ভোরের শিশির রাতের নয়ন-পাতে।
তুমি	কান্না পাওয়াও কাননকে গো ফুল-ঝরা প্রভাতে॥
তুমি	ভৈরবী সুর উদাস বিধুর
	অতীত দিনের স্মৃতি সুদূর,
তুমি	ফোটার আগে ঝরা মুকুল বৈশাখী হাওয়াতে॥
তুমি	কাশের ফুলের করুণ হাসি মরা নদীর চরে
তুমি	শ্বেত-বসনা অশ্রুমতী উৎসব-বাসরে।
তুমি	মরুর বুকে পথ-হারা
	গোপন ব্যথার ফল্গুধারা,
তুমি	নীরব বীণা বাণীহীনা সঙ্গীত-সভাতে॥

যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী

বাণী

পুরুষ	:	যাও হেলে দুলে এলোচুলে কে গো বিদেশিনী
		কাহার আশে কাহার অনুরাগিনী।
স্ত্রী	:	আমি কনক চাঁপার দেশের মেয়ে
		এনু ঊষার রঙের গান গেয়ে
		আমি মল্লিকা গো পল্লীবাসিনী।
পুরুষ	:	চিনি চিনি ওই চুড়ি কাঁকনের রিনিকি রিনি
		তুমি ভোর বেলা দাও স্বপনে দেখা।
স্ত্রী	:	তোমার রঙে কবি আঁক আমারি ছবি
		তুমি দেবতা রবি আমি তব পূজারিণী।
পুরুষ	:	এসো ধরণীর দুলালী আলোর দেশে
		যথা তারার সাথে চাঁদ গোপনে মেশে
স্ত্রী	:	আনো আলোক তরী আমি যাই গো ভেসে
দ্বৈত	:	চলো যাই ধরণী ধূলির ঊর্ধে
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
স্ত্রী	:	প্রেম মন্দারিণী
পুরুষ	:	যথা বয় অনন্ত
দ্বৈত	:	প্রেম মন্দারিণী॥

মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়

বাণী

কিশোরীরা		:	মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়।
১ম কিশোরী	:	আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।।
২য় কিশোরী	:	বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী।
৩য় কিশোরী	:	আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা
৪র্থ কিশোরী	:	আমি চম্পক খোঁপায়।।
				নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে,
প্রজাপতিদ্বয়	:	তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে।
কিশোরীরা		:	মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী,
				আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি।
প্রজাপতিদ্বয়	:	আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।

নাটক : ‘আলেয়া’

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি

বাণী

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি যাই চ’লে যাই একা।
শুকতারাতে রইল আমার চোখের জলের লেখা।।
	ফোটার আগে ঝরে যে ফুল
	সঙ্গী আমার সেই সে-মুকুল,
ছায়াপথে জাগে আমার বিদায় পথ-রেখা।।
অনেক ছিল আশা আমার অনেক ছিল সাধ,
ব্যর্থ হ’ল না পেয়ে কা’র আাঁখির পরসাদ।
	দীপ নেভানো শূন্য ঘরে
	এসো না আর খুঁজতে মোরে,
তারার দেশে চন্দ্রলোকে হবে আবার দেখা।।