গঙ্গার বালুতটে খেলিছে কিশোর

বাণী

গঙ্গার বালুতটে খেলিছে কিশোর গোরা।
চরণতলে চলে পুলকে বসুন্ধরা।।
	পড়িল কি রে খসি
	ভূতলে রাকা শশী
ঝরিছে অঝোর ধারায় রূপের পাগল-ঝোরা।।
শ্রীমতি ও শ্রীহরি খেলিছে এক অঙ্গে,
দেব-দেবী নর-নারী গাহে স্তব এক সঙ্গে।
	গঙ্গা জোয়ার জাগে
	তাহারি অনুরাগে,
ফিরে এলো কি নদীয়ায় ব্রজের ননী-চোরা।।

চৈতালি চাঁদনী রাতে

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

ঊষা এলো চুপি চুপি

বাণী

ঊষা এলো চুপি চুপি রাঙিয়া সলাজ অনুরাগে।
চাহে ভীরু নববধূ সম তরুণ অরুণ বুঝি জাগে।।
শুকতারা যেন তার জলভরা আঁখি
আনন্দ বেদনায় কাঁপে থাকি’ থাকি’,
সেবার লাগিয়া হাত দু’টি
মালার সম পড়ে লুটি
			কাহার পরশ-রস মাগে।।

পাঠাও বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত্

বাণী

	পাঠাও বেহেশ্‌ত হ’তে হজরত্ পুন সাম্যের বাণী,
(আর)	দেখিতে পারি না মানুষে মানুষে এই হীন হানাহানি।।
		বলিয়া পাঠাও, হে হজরত
		যাহারা তোমার প্রিয় উম্মত,
	সকল মানুষে বাসে তা’রা ভালো খোদার সৃষ্টি জানি’ —
			সবারে খোদারই সৃষ্টি জানি।।
	আধেক পৃথিবী আনিল ঈমান (তোমার) যে উদারতা-গুণে,
	শিখিনি আমরা সে-উদারতা, (কোরানে হাদিসে) কেবলি গেলাম শুনে’।
		তোমার আদেশ অমান্য ক’রে
		লাঞ্ছিত মোরা ত্রিভুবন ভ’রে,
	আতুর মানুষে হেলা ক’রে বলি, ‘আমরা খোদারে মানি’।।

হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে

বাণী

হৃদয় যত নিষেধ হানে নয়ন ততই কাঁদে।
দূরে যত পালাতে চাই নিকট ততই বাঁধে।।
	স্বপন শেষে বিদায় বেলায়
	অলক কাহার জড়ায় গো পায়,
বিধুর কপোল স্মরণ আনায় ভোরের করুণ চাঁদে।।
বাহির আমার পিছল হ’ল কাহার চোখের জলে,
স্মরণ ততই বারণ জানায় চরণ যত চলে।
	পার হতে চাই মরণ-নদী
	দাঁড়ায় কে গো দুয়ার রোধি’,
আমায় ওগো বে-দরদী ফেলিলে কোন্ ফাঁদে।।

ক্ষমা সুন্দর আল্লা

বাণী

ক্ষমা সুন্দর আল্লা, মোদের ভয় দেখিও না আর।
দোজখের ভয়ে হতে পারিনা হে প্রিয়তম, বেড়াপার।।
		কেন দুনিয়ায় পাঠাইলে
		কেন গুনাহের বোঝা দিলে,
তুমি তো জানিতে দুনিয়ায় পুড়ে মরিব যে তিলে তিলে।
		হেথা পদে পদে করি অপরাধ
		তোমারে পাওয়ার তবু জাগে সাধ,
অপরাধ শুধু দেখ কি গো তুমি, রোদন দেখনা তার।।
হে পরম প্রিয়, তোমারে খুঁজিতে গিয়া মোরা কত ভুল পথে চলি
তুমি ভেবে খেলি সুন্দর মায়া নিয়া পরে বিষের দাহনে জ্বলি।।
তুমি জান স্বামী তব পথে কত কণ্টক, কত বাধা,
যে পথে যাই সেই পথে লাগে দুনিয়ার ধুলো-কাদা।
		জন্ম-অন্ধ জানি না কাহারে
		তুমি ভেবে হাত জড়াইয়া ধরে,
দু’চোখে নূরের তৃষ্ণা ল’য়ে কি পাব দোজখের নীর।।