ওরে ও-স্রোতের ফুল

বাণী

ওরে ও-স্রোতের ফুল!
ভেসে ভেসে হায় এলি অসহায় কোথায় পথ-বেভুল।।
	কোল্ খালি ক’রে কোন্ লতিকার
	নিভাইয়া নয়নের জ্যোতি কা’র,
বনের কুকুম অকূল পাথারে খুঁজিয়া ফিরিস্ কূল।।
ভবনের স্নেহ নারিল রাখিতে ঠেলে ফেলে দিল যা’রে,
সারা ভুবনের স্নেহ কি কখনো তাহারে ধরিতে পারে।
	জল নয়, তোর জননী যে ভুঁই
	অভিমানী! সেথা চল্ ফিরে তুই,
ধূলিতেও যদি ঝরিস্ সেথায় স্বর্গ সেই অতুল।।

তুমি হেসে চ’লে গেলে বন্ধু

বাণী

তুমি হেসে চ’লে গেলে বন্ধু তোমার কাঁটার পথে।
কাঁদিতে আমায় রেখে গেলে একলা ফুলের রথে।।
ও পথের বন্ধু! তোমার পথে যদি নিয়ে যেতে
পথের কাঁটা ঢেকে দিতাম আমার এ বুকে পেতে,
আজ সুখের রথে কাঁদি বন্ধু (তোমার) দুখের সাথী হতে।।

নাটক : ‘মধুমালা’

আমরা বনের পাখি বনের দেশে

বাণী

আমরা বনের পাখি বনের দেশে থাকি।
ফিরি পাহাড়ি ফুলের রাঙা পরাগ মাখি’।।
মোরা ঝর্না-ধারে ঐ নীল পাহাড়ে
দেবদারুর শাখায় বাঁধি লতার রাখি।
শুনি বন-উদাসী মিঠে পাহাড়ি বাঁশি
মোরা শিস্ দিয়ে রাখাল ছেলেরে ডাকি।।

নাটক : ‘মধুমালা’

রংমহলের রংমশাল মোরা

বাণী

রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।

আমায় আর কতদিন মহামায়া

বাণী

(আমায়)		আর কতদিন মহামায়া রাখ্‌বি মায়ার ঘোরে।
(মোরে)		কেন মায়ার ঘূর্ণিপাকে ফেল্‌লি এমন করে।।
		(ওমা) কত জনম করেছি পাপ
			কত লোকের কুড়িয়েছি শাপ,
		তবু মা তার নাই কি গো মাফ ভুগব চিরতরে।।
		এমনি ক’রে সন্তানে তোর ফেল্‌লি মা অকূলে,
		তোর নাম যে জপমালা তাও যাই হায় ভুলে’।
			পাছে মা তোর কাছে আসি
		তাই	বাঁধন দিলি রাশি রাশি,
কবে		মুক্ত হ’ব মুক্তকেশী (তোর) অভয় চরণ ধ’রে।।

মিলন-গোধূলি রাঙা হয়ে এলো

বাণী

মিলন-গোধূলি রাঙা হয়ে এলো ঐ সোনার গগনময়।
দাও আশিস অভয়, হে দেব জ্যোতির্ময়।।
	মিলিল আবার দুইটি প্রাণ
	কত যুগ পরে, হে ভগবান
সার্থক কর, হে মনোহর, এ মিলন অক্ষয়
যেন চির-সুখী হয়, হে দেব জ্যেতির্ময়।।

নাটিকাঃ ‌‘পুতুলের বিয়ে’