আমি বেলপাতা জবা দেব না

বাণী

আমি	বেলপাতা জবা দেব না মাগো দেব শুধু আঁখিজল।
	মাগো হাত দিয়ে যাহা দেওয়া যায়, পাই হাতে শুধু তার ফল।।
	হাত দিয়ে ফল দিতে যাই
	(মাগো) হাতে হাতে তার ফল পাই,
	পাই অর্থ বিভব যশ
	পাই না অমৃত আনন্দ মাগো, পাই না হৃদয়ে রস।
	তাই আঁখিতে রাখিব ব’লে মা আনিয়াছি আঁখি ছলছল।।
	এবার রাখিব চোখে চোখে তোরে ছাড়িয়া দেব না আর,
	মাগো তুই চ’লে গেলে হয়ে যায় মোর ত্রিলোক অন্ধকার।
		এবার দেখিবে নিত্য হৃদয়
		তোর রাঙা চরণের অরুণ উদয়,
	তাই জবা ফেলে দিয়ে মেলিয়াছি তাই হৃদয়ের শতদল।।

সকাল হ'ল শোন রে আজান

বাণী

সকাল হ'ল শোন রে আজান
	ওঠ রে শয্যা ছাড়ি'
তুই মসজিদে চল দ্বীনের কাজে
	ভোল দুনিয়াদারি।।

ওজু করে ফেল রে ধুয়ে
	নিশীথ রাতের গ্লানি
সিজদা করে জায়নামাজে
	ফেল রে চোখের পানি;
খোদার নামে সারাদিনের
	কাজ হবে না ভারী।।

নামাজ প'ড়ে দু'হাত তুলে
	প্রার্থনা কর তুই -
ফুল-ফসলে ভ'রে উঠুক
	সকল চাষির ভূঁই
সকল লোকের মুখে হোক
	আল্লার নাম জারী।।

ছেলে-মেয়ে সংসার-ভার
	সঁপে দে আল্লারে
নবীজীর দোয়া ভিক্ষা কর
	কর রে বারে বারে;
তোর হেসে নিশি প্রভাত হবে
	সুখে দিবি পাড়ি।।

কালা এত ভাল কি হে কদম্ব গাছের তলা

বাণী

কালা		এত ভাল কি হে কদম্ব গাছের তলা।
আমি		দেখ্‌ছি কত দেখ্‌ব কত তোমার ছলাকলা;
আমি		নিতুই নিতুই সবই কত, (কালা) তিন সতিনের জ্বালা॥
আমি		জল নিতে যাই যমুনাতে তুমি বাজাও বাঁশি হে,
		মনের ভুলে কলস ফেলে তোমার কাছে আসি হে,
শ্যাম		দিন-দুপুরে গোকুলপুরে (আমার) দায় হল পথ চলা॥
আমার	চারদিকেতে ননদ-সতীন দু’কূল রাখা ভার,
		আমি সইব কত আর বাঁকা শ্যাম।
ওরা		বুঝছে সবই নিত্যি-নতুন, (নিতি) মিথ্যে কথা বলা॥

ওমা তোর চরণে কি ফুল দিলে

বাণী

ওমা	তোর চরণে কি ফুল দিলে পূজা হবে বল।
	রক্ত-জবা অঞ্জলি মোর হ’লো যে বিফল।।
		বিশ্বে যাহা আছে মাগো
		তাতেও পূজা হবে নাকো,
	তাই তো দুঃখে নয়নে মোর শুধুই আসে জল।।
	মনের কোণে অর্ঘ্য রচি’ আঁধার ঘরে একা,
	ডাকলে তোরে সকল ভুলে দিবি না তুই দেখা।
		তখন কি মা দুঃখ-হরা
		শেষ হবে না অশ্রুধারা,
	কি ফুলে তোর পূজা হবে বল — কেন করিস্ ছল।।

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার

বাণী

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার;
ভিক্ষার ঝুলি ছাড়া আজ ভাই সম্বল নাহি আর।
ভিক্ষা দাও গো ভিক্ষা দাও, কাঁদন কি ঐ শুনিতে পাও —
বিত্তবিহীন চিত্ত ভরিয়া সকরুণ হাহাকার।।
	সারা জীবনের শ্রম-সঞ্চিত
	সম্পদ হ’তে হ’য়ে বঞ্চিত
রিক্ত হস্ত জনগণ হের ফিরিতেছে দ্বার দ্বার।
তোমার ক্ষুধার অন্নে আছে এ ক্ষুধিতের অধিকার।।
	আর্ত বিহারী তরে এ ভিক্ষা
	নহে হে বন্ধু, করে প্রতীক্ষা,
দ্বারে তব দীন পীড়িত মানুষ প্রার্থনা সবাকার।
এই পীড়িতেরে ফিরাতে কে পারে, রুধিবে কে আজি দ্বার।।
	আজ যাহা দিবে সম্বলহীনে
	ফিরায়ে তা পাবে তব দুর্দিনে,
ঐশ্বর্যের পরিণতি হের সমুখে তব বিহার।
ভিক্ষার ঝুলি ভরিয়া হে দাতা বর লহ বিধাতার।।

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

বাণী

নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
	কূলের বাঁধন টুটে,
	যমুনা উথলি' ওঠে,
পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
	শিখী পেখম খোলে।।
ব্রজনারী কুল ভুলে'
	লুটায় সে পদমুলে
চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
	শ্রীমতি রাধারই সাথে
	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।