আকাশের মৌমাছি-তারকার দল

বাণী

আকাশের মৌমাছি-তারকার দল,
পিয়ে চৈতালী চাঁদের মধু, হ’ল বিহ্বল।।
মোর মাধবী বনে মৌমাছি আসে না
আমার আকাশে আর চাঁদ হাসে না।
ভালো লাগে না এ চাঁদের আলো
পুষ্পল পরিমল-ছাওয়া বনতল।।
দক্ষিণ সমীরণে বন বিঘোর গানে, মন ভরে না।
বিধুর বাঁশরি বাজে, মধু মঞ্জরী, তবু মঞ্জুরে না।
বুলবুলি এসেছিল, ভুল সে কি ভুল?
তেমনি তো ফোটে হেনা চম্পার ফুল।
বেণী বাঁধা বধু লো ধূলায় লুটায়
			কাঁদে এলো-কুন্তল।।

আমি অগ্নি-শিখা মোরে

বাণী

আমি অগ্নি-শিখা, মোরে বাসিয়া ভালো।
যদি চাও, তব অন্তরে প্রদীপ জ্বালো।।
মোর দহন-জ্বালা র’বে আমারি বুকে,
তব তিমির রাতে হ’ব রঙিন আলো।।
হ’ব তোমার প্রেমে নব উদয়-রবি,
আমি মুছাব প্রাণের তব বিষাদ-কালো।।
ল’য়ে বহ্নি-দাহ, প্রিয়! করো না খেলা,
কবে লাগিবে আগুন, হায়! ভাঙিবে মেলা।
শেষে আমার মতো কেন মরিবে জ্ব’লে,
তুমি মেঘের মায়া, শুধু সলিল ঢালো।।
মোরে আঁচলে ঢেকে’ তুমি বাঁচালে ঝড়ে,
আজ তুমিই আবার তা’রে নিভায়ো না লো।।

শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে

বাণী

শ্রাবণ রাতের আঁধারে নিরালা ব’সে আছি বাতায়নে
রেবা নদীর খরস্রোত বহে বেগে আমার মনে॥
		দিগন্তে করুণ কাতর
		শুনি কার ক্রন্দন স্বর
ভেসে বন-মর্মর ঝরঝর সজল উতল পুবালি পবনে॥
বিরহী যক্ষ কাঁদে একাকী কোথায় কোন্ দূর চিত্রকূটে
আমার গানে যেন তার বেদনার সকরুণ ভাষা ফুটে।
		আমার মনের অলকায়
		কোন্ বিরহিণী পথ চায়
মালবিকার আঁখি-ধার ঝরে হায় অঝোর ধারায় মোর নয়নে॥

হে মোর স্বামী অন্তর্যামী

বাণী

হে মোর স্বামী, অন্তর্যামী, লহ সকলি আমার।
লহ প্রীতি-প্রেম-পূজা লহ পায়ে গলার হার।।
	হে প্রিয়তম, সকলি লহ;
	মান-অভিমান ব্যথা-বিরহ।
দুঃখের দাহ, সুখের মোহ লহ হে অশ্রু-ধার।।
	যাহা কিছু আপন, দিতে যা বাকি
	যাহা কিছু গোপন, লুকায়ে রাখি
যাহা কিছু প্রিয় অঞ্চলে ঢাকি; লহ হে বঁধূ এবার।।
	তোমায় চাওয়ার পাওয়ার আশা,
	তোমায় না-পাওয়ার ব্যথা-নিরাশা,
তোমারে দিলাম মোর ভালোবাসা বিফলতা হাহাকার।।

এই শিকল পরা ছল

বাণী

এই		শিকল পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।
এই 		শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।।
তোদের	বন্ধ কারায় আসা মোদের বন্দী হতে নয়,
ওরে 		ক্ষয় করতে আসা মোদের সবার বাঁধন–ভয়।
এই		বাঁধন প’রেই বাঁধন–ভয়কে কর্‌ব মোরা জয়,
এই		শিকল– বাঁধা পা নয় এ শিকল ভাঙা কল।।
তোমার	বন্ধ ঘরের বন্ধনীতে কর্‌ছ বিশ্ব গ্রাস,
আর 		ভয় দেখিয়েই ক’র্‌বে ভাবছ বিধির শক্তি হ্রাস
সেই 		ভয় দেখানো ভূতের মোরা ক’র্‌বো সর্বনাশ,
এবার		আন্‌বো মাভৈঃ বিজয়–মন্ত্র বল–হীনের বল।।
তোমরা	ভয় দেখিয়ে কর্‌ছ শাসন জয় দেখিয়ে নয়;
সেই		ভয়ের টুঁটি ধর্‌ব টিপে কর্‌ব তারে লয়।
মোরা 	আপনি ম’রে মরার দেশে আন্‌ব বরাভয়,
প’রে		ফাঁসি আন্‌ব হাসি মৃত্যু–জয়ের ফল।।
ওরে 		ক্রন্দন নয় বন্ধন এই শিকল–ঝঞ্ঝনা,
এ যে		মুক্তি–পথের অগ্রদূতের চরণ–বন্দনা!
এই		লাঞ্ছিতেরাই অত্যাচারকে হান্‌ছে লাঞ্ছনা,
মোদের	অশ্রু দিয়েই জ্ব’লবে দেশে আবার বজ্রানল।।

চলো সাম্‌লে পিছল পথ

বাণী

	চলো সাম্‌লে পিছল পথ গোরী।
	ভরা যৌবন তায় ভরা গাগরি।।
	নীর ভরণে এসে সখি নদী-তীর
	তীর খেয়ো না হৃদয়ে ডাগর আঁখির,
	জলে ভাসিবে নয়ন কিশোরী।।
	হৃদি নিঙাড়ি এ পথে প্রেমিক কত
সখি	করেছে রুধির-পিছল এ পথ,
	কেহ উঠিল না এ পথে পড়ি’।।
	তব ঘটের সলিল চাহিয়া সই
কত	তৃষ্ণা-আতুর পথিক দাঁড়ায়ে ঐ,
	মরুভূমে তুমি মেঘ-পরী।।