বসিয়া নদী-কূলে এলোচুলে

বাণী

বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে			কে উদাসিনী
কে এলে, পথ ভুলে, এ অকূলে			বন-হরিণী।।
কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায়			কুল-বধূরা,
কেঁদে যায় ফুলে, ফুলে, পদমূলে,		সাঁঝ-তটিনী।।
দলিয়া কত ভাঙা-মন, ও চরণ,			করেছ রাঙা
কাঁদায়ে কত না দিল, এলে নিখিল		মন-মোহিনী।।
হারালি গোধূলি-লগন কবি,			কোন নদী কিনারে,
একি সেই স্বপন-চাঁদ, পেতেছে ফাঁদ		প্রিয়ার সতিনী।।

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

বাণী

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।

তোমার গরবে গরব আমার আল্লা

বাণী

	তোমার গরবে গরব আমার আল্লা পরম স্বামী।
(মোর)	অন্তর বাহির জুড়িয়ে থেক যেন দিবাযামী।।
	আমি যদি পথ ভুলি, আল্লা, হাত ধ’রে ফিরাইও
	মোর নিবেদিত দেহ-মন-প্রাণ কবুল করিও প্রিয়,
(তবে)	পরমাশ্রয় ছেড়ে যেন আর ধূলি পথে নাহি নামি।।
	প্রেম যদি মোরে নাহি দাও, খোদা, পরম বিরহ দিও,
	পাষাণ এ প্রাণ তোমার বিরহে তিলে তিলে গলাইও।
	কোথায় দুনিয়া কোথা আখেরাতে, তুমি ছাড়া কিছু নই
	তুমি লা-শরিক — এই বিশ্বাস চিরদিন যেন পাই,
	রহমত দিয়া ফুল ফুটাইও ভুল যদি করি আমি।।

শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও

বাণী

শোক দিয়েছ তুমি হে নাথ তুমি এ প্রাণে শান্তি দাও।
দুখ্ দিয়ে কাঁদালে যদি তুমি হে নাথ সে দুখ ভোলাও।।
যে হাত দিয়ে হানলে আঘাত
তুমিঅশ্রু মোছাও সেই হাতে নাথ
বুকের মানিক হ’রলে যা’র —
	তারে তোমার শীতল বক্ষে নাও।।
তোমার যে চরণ প্রলয় ঘটায়
সেই চরণ কমল ফোটায়
শূন্য করলে তুমি যে বুক
	সেথা তুমি এসে বুক জুড়াও।।

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে

বাণী

পিয়া পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে।
চোখ গেল বিরহিণীর বধূর মনের কথা —
	কাঁদিয়া বেড়ায় বাদল-আঁধারে॥
প্রথম বিরহ অল্প-বয়সী
ভুলি’ গৃহকাজ রহে বাতায়নে বসি’,
পাখির পিয়া-স্বর বুকে তার তোলে ঝড় —  
	অঞ্চলে আঁখি-জল মোছে বারে বারে ॥
পরেনি বেশ, বাঁধেনি কেশ ম্লান-মুখী দীপালিকা,
নীরব দেহে যেন শুকায়ে যায় ওগো মালতীর মালিকা।
বনের বিহঙ্গ ছাড়ি’ বিহগীরে
যায় না বিদেশে, রহে সুখ-নীড়ে,
বলো কেমনে, ওগো প্রেমের বিধাতা —
	বিরহ-দাহ সহি’ হিয়ার মাঝারে ॥

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের

বাণী

হিন্দু-মুসলমান দুটি ভাই ভারতের দুই আঁখি-তারা।
এক বাগানে দুটি তরু — দেবদারু আর কদমচারা।।
	যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী
	যায় গো ব’য়ে নিরবধি,
এক হিমালয় হতে আসে, এক সাগরে হয় গো হারা।।
	বুলবুল আর কোকিল পাখি
	এক কাননে যায় গো ডাকি’,
ভাগীরথী যমুনা বয় মায়ের চোখের যুগল-ধারা।।
পেটে-ধরা ছেলের চেয়েও চোখে ধরার মায়া বেশি,
অতীতে ছিল অতিথি, আজ সে সখা প্রতিবেশী।
	ফুল পাতিয়ে গোলাপ বেলি
	এক সে-মায়ের বুকে খেলি,
পাগল তারা — ভিন্ন ভাবে আল্লা ভগবানে যারা।।