জাগো বনলক্ষ্মী জোছনা বিগলিত

বাণী

জাগো বনলক্ষ্মী! জোছনা বিগলিত১ চৈতালি নিশীথে।
রাঙাও দশদিশি লজ্জা-অরুণ রূপ-সজ্জায় বনশ্রীতে।।
	তব আলোছায়ার ডুরে শাড়ির আঁচল
	লুটাক বকুল তলে সুখ-বিহ্বল,
তব লতা কবরী হের পুষ্প ভারে হ’ল —
	অবনমিতা অগ্নি অসম্বৃতে।।
পর গিরি-ঝর্নার শতনরী হার হে বনলক্ষ্মী!
বিহর-শীর্ণা দেহে (নব যৌবনের) জাগুক জোয়ার হে বনলক্ষ্মী!
	ঝংকৃত হোক বনভূমি নিঝ্ঝুম
	পুষ্পিত মাধবীর পর কঙ্কণ,
আলতা পর কলি পলাশ রঙ্গন — ভ্রমর-গুঞ্জন-নূপুর-গীতে।।

১. বিহগিত

নাটক : ‘মধুমালা’ (বন-বালিকাদের গান)

উচাটন মন ঘরে রয় না

বাণী

(পিয়া মোর) উচাটন মন ঘরে রয় না।
(পিয়া মোর) ডাকে পথে বাঁকা তব নয়না।।
	ত্যজিয়া লোক-লাজ
	সুখ-সাধ গৃহ-কাজ,
(প্রিয়া মোর) নিজ গৃহে বনবাস সয়না।।
	লইয়া স্মৃতির লেখা
	কত আর কাঁদি একা,
(পিয়া মোর) ফুল গেলে কাঁটা কেন যায় না।।

পথ চলিতে যদি চকিতে

বাণী

পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে চল গো

বাণী

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে			চল গো পানসি বেয়ে’।
ঢেউ-এর তালে তালে			বাঁশিতে গজল গেয়ে’।।
মেঘের ফাঁকে ফোটে			বাঁকা শশীর চিকন হাসি,
উজান বেয়ে চল			তুমি কি তার চোখে চেয়ে।।
ও-পারে লুকায়ে আঁধার		গভীর ঘন বন-ছায়,
আকাশে হেলান দিয়ে			আলসে পাহাড় ঘুমায়।
ঘুমায়ে দূরে সে কোন গ্রাম		বাসরে পল্লী-বধূর প্রায়
এ-পারে ধূ-ধূ বালুচর			যেন নদীর আঁচল লুটায়।
ছাড়ি’ এ সুখ-বাস			চলেছ কোথায় গো নেয়ে।।
নদীর দু’তীরে টানে			বেতস-লতা উত্তরীয়,
চমকি’ উঠি’ চখি			ডাকে মুহু মুহু ‘কিও!’
চকোরী চাঁদে ভুলি’			চাহে তব মুখপানে,
কেঁদে পাপিয়া শুধায়,			‘পিউ কাঁহা, কাঁহা পিও।’
তুমি যাও আপন-বিভোল		স্বপনে নয়ন ছেয়ে’।।

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।

স্বপনে দেখেছি ভারত-জননী

বাণী

স্বপনে দেখেছি ভারত-জননী
			তুই যেন রাজরাজেশ্বরী।
নবীন ভারত! নবীন ভারত!
			স্তব-গান ওঠে ভুবন ভরি’।।
শস্যে ফসলে ডেকেছে মা বান
মাঠে ও খামারে ধরে নাকো ধান
মুখভরা হাসি, হসিভরা প্রাণ
			নদী ভরা যেন পণ্যতরী।।
পড়ুয়ারা পড়ে বকুল-ছায়ে
সুস্থ সবল আদুল গায়ে
মেয়েরা ফিরিছে মুক্ত বায়ে
			কল-গীতে দিক মুখর করি’।
ভুলিয়া ঈর্ষা ভোগ আসক্তি
ধরার ক্লান্ত অসুর-শক্তি
এসেছে শিখিতে প্রেম ও ভক্তি
			নব-ভারতের চরণ ধরি’।।