কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে

বাণী

কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে
ফুটিত না কি কমল ও কাঁটা না বিঁধিলে।।
	কেন এ আঁখি-কূলে
	বিধুর অশ্রু দুলে
কেন দিলে এ হৃদি যদি না হৃদয় মিলে।।
	কেন কামনা-ফাঁদে
	রূপ-পিপাসা কাঁদে
শোভিত না কি কপোল ও কালো তিল নহিলে।।
	কাঁটা-নিকুঞ্জে কবি
	এঁকে যা সুখের ছবি
নিজে তুই গোপন রবি তোরি আঁখির সলিলে।।

ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)

আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে

বাণী

	আজ যুগের পরে ঘরে ফিরে মায়ের কথা পড়লো মনে।
	শূন্য ঘরে মন বসে না গুমরে মরে হিয়ার বনে।।
		আজো সে ঘর সবাই আছে,
		মা কেবলই নেই গো কাছে, — 
	ঐ দাওয়া আর ঐ কানাচে আজো মায়ের স্বরটি রনে।।
	যত্ন কারুর সইতে নারি, কণ্ঠ ছিঁড়ে কান্না আসে;
	ওষ্ঠ চেপে যায় না রাখা, রূপ যে তোমার চক্ষে ভাসে!
		পাইনি মাগো সাতটি বরষ
		একটুকু ক্ষীণ স্নেহের পরশ, — 
(ও মা)	‘বুনো’ তোমার হ’ল না বশ চল্‌লো ফিরে ফের বিজনে।
	হার্‌লো স্নেহ বাঁধন-হারার বাঁধ্‌তে নিয়ে ডোর-সৃজনে।।

১. ঘরকে

আমি কেমন ক’রে কোথায় পাব

বাণী

আমি	কেমন ক’রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা।
	অন্ধকারে খুঁজি তাঁহার ব্রজের পথ-রেখা।।
		মেঘে ঢাকা আকাশ সম
		পাপে মলিন হৃদয় মম
	সে-আকাশে উঠবে কি সে কৃষ্ণ-শশী-লেখা।।
		অশান্ত তার বেণু বাজে
		আমার ব্যাকুল বুকের মাঝে,
	(আমি) শুনেছি, সে ডাকে তা’রেই যে বিরহী একা।।

নাটক : ‘বিল্বমঙ্গল’ (বিল্বমঙ্গলের গান)

আজো বোলে কোয়েলিয়া চাঁপাবনে

বাণী

আজো বোলে কোয়েলিয়া
চাঁপাবনে প্রিয় তোমারি নাম গাহিয়া।।
তব স্মৃতি ভোলেনি চৈতালি সমীরণ,
আজো দিকে দিকে খুঁজে ফেরে কাঁদিয়া।।
নিশীথের চাঁদ আজো জাগে
ওগো চাঁদ, তব অনুরাগে।
জলধারা উথলে যমুনার সৈকতে
খোঁজে তরুলতা ফুল আঁখি মেলিয়া।।

মম বন-ভবনে ঝুলন দোলনা দে দুলায়ে

বাণী

মম বন-ভবনে ঝুলন দোলনা দে দুলায়ে উতল পবনে
মেঘ-দোলা দুলে বাদল গগনে।।
আয় ব্রজের ঝিয়ারি পরি' সুনীল শাড়ি
নীল কমল কুঁড়ি দুলায়ে শ্রবণে।।
নবীন ধানের মঞ্জরি কর্ণে
তপ্ত বক্ষ ঢাকি' শ্যামল পর্ণে
ওড়না ছুপায়ে রাঙা রামধনু বর্ণে
আয় প্রেম-কুমারীরা আয় লো,
উদাসী বাঁশীর সুরে ডাকে শ্যামরায় লো।
ঝরিবে আকাশে অবিরল বৃষ্টি
শ্যাম-সখা সাথে হবে শুভ-দৃষ্টি
এই ঝুলনের মধু-লগনে।।