বঁধু তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে

বাণী

বঁধু, তোমার আমার এই যে বিরহ এক জনমের নহে।
তাই যত কাছে পাই তত এ হিয়ায় কি যেন অভাব রহে।।
	বারে বারে মোরা কত সে ভুবনে আসি
	দেখিয়া নিমেষে দুইজনে ভালোবাসি,
দলিয়া সহসা মিলনের সেই মালা (কেন) চলিয়া গিয়াছি দোঁহে।।
আমরা বুঝি গো বাঁধিব না ঘর, অভিশাপ বিধাতার।
শুধু চেয়ে থাকি, কেঁদে কেঁদে ডাকি, চাঁদ আর পারাবার
		যেন চাঁদ আর পারাবার।
	মোদের জীবন-মঞ্জরি দুটি হায়!
	শতবার ফোটে শতবার ঝ'রে যায়;
আমি কাদি ব্রজে (বঁধু), তুমি কাঁদ মথুরায়, মাঝে অপার যমুনা বহে।।

জাগো রূপের কুমার

বাণী

জাগো রূপের কুমার, কেন অলস ঘুমে কাটাও রাতি।
হের দুয়ারে দাঁড়ায়ে বধূর সাজে তব জাগার সাথী।।
আসে বারেবারে সে যে অভিসারে
তার বুকের ভাষা মুখে কইতে নারে,
মোরা বাসর ঘরে এলাম জ্বাল্‌তে বাতি।।

নৃত্য-সঙ্গীত, নাটক : সর্বহারা

শাওন আসিল ফিরে

বাণী

শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এল না
বরষা ফুরায়ে গেল আশা তবু গেল না।
ধানী রং ঘাগরি, মেঘ–রং ওড়না
পরিতে আমারে মাগো, অনুরোধ ক’রো না
কাজরির কাজল মেঘ পথ পেল খুঁজিয়া
সে কি ফেরার পথ পেল না মা, পেল না।।
আমার বিদেশিরে খুঁজিতে অনুক্ষণ
বুনো হাঁসের পাখার মত উড়ু উড়ু করে মন।
অথৈ জলে মাগো, মাঠ–ঘাট থৈ থৈ
আমার হিয়ার আগুন নিভিল কই?
কদম–কেশর বলে, ‘কোথা তোর কিশোর’,
চম্পাডালে ঝুলে শূন্য দোলনা।।

নাচে নন্দ-দুলাল নদী-তরঙ্গে

বাণী

নাচে নন্দ-দুলাল।
নদী-তরঙ্গে অধীর রঙ্গে — বাজে মঞ্জির চঞ্চল তাল।।
	চরণের নূপুর খুলে
	ফুল হয়ে ঝরে তরুমূলে,
পূবালী পবনে বন-ভবনে দোলে সে-ছন্দে পিয়াল তমাল।।
	মধুকর কল-গুঞ্জনে
	কাজরি গাহে নীপবনে,
ময়ূর পাপিয়া উঠিল মাতিয়া বাজে বৃষ্টির বীণা করতাল।।

জাগো জাগো রে মুসাফির

বাণী

জাগো জাগো, রে মুসাফির হ’য়ে আসে নিশিভোর।
ডাকে সুদূর পথের বাঁশি ছাড় মুসাফির-খানা তোর।।
অস্ত-আকাশ-অলিন্দে ঐ পান্ডুর কপোল রাখি’
কাঁদে মলিন ভোরের শশী, বিদায় দাও বন্ধু চকোর।।
মরুচারী খুঁজিস সলিল অগ্নিগিরির কাছে, হায়!
খুঁজিস অমর ভালোবাসা এই ধরণীর এই ধূলায়।
দারুণ রোদের দাহে খুঁজিস কুঞ্জ-ছায়া স্বপ্ন-ঘোর।।

অরুণ-কান্তি কেগো যোগী ভিখারী

বাণী

অরুণ-কান্তি কে গো যোগী ভিখারি।
নীরবে হেসে দাঁড়াইলে এসে
প্রখর তেজ তব নেহারিতে নারি ॥
রাস-বিলাসিনী আমি আহিরিণী
শ্যামল কিশোর রূপ শুধু চিনি,
অম্বরে হেরি আজ একি জ্যোতিঃপুঞ্জ
হে গিরিজাপতি! কোথা গিরিধারী ॥
সম্বর সম্বর মহিমা তব, হে ব্রজেশ ভৈরব,
		আমি ব্রজবালা।
হে শিব সুন্দর, বাঘছাল পরিহর, ধর নটবর-বেশ
		পর নীপ-মালা।
নব মেঘ-চন্দনে ঢাকি’ অঙ্গজ্যোতি
প্রিয় হয়ে দেখা দাও ত্রিভুবন-পতি
পার্বতী নহি আমি, আমি শ্রীমতী
বিষাণ ফেলিয়া হও বাঁশরি-ধারী ॥