ঐ লুকায় রবি লাজে হেরি মম প্রিয়ার

বাণী

ঐ	লুকায় রবি লাজে হেরি মম প্রিয়ার।
ঐ	এলো রূপের রবি তোর আঁধার থাকে কি আর।।
মোর	অকলঙ্ক শশী খোলে ঘোম্‌টা যবে মুখের,
হেরি,	দুলে রবি শশী কানে দুল্‌ হয়ে যেন তার।।
যবে	অধীর মাতাল হিয়া, রয় পর্দানশীন্‌ প্রিয়া,
মদে	বেহুঁশ হয়ে দরবেশ যবে জল্‌সা হল গুলজার।।
মোর	শরম ভরম সবি হায় দিলাম শারাব লাগি’
হেরি	নয়ন-জলে ভেসে এ সুরা শোণিত হিয়ার।।
বয়	যাহার অশ্রু-চোখে ঐ বাদল-রাতের ধারা,
বয়	বর্ষা সম তাহার নীল অঞ্চলে ফুল-বাহার।।
মালা	গাঁথিস্‌নে তুই হাফিজ ঐ শুষ্ক উপদেশের,
ফেলে	অপরাধের কাঁটা তুই গাঁথ্‌ মালা ফুল-হিয়ার।।

নাচে নন্দ-দুলাল নদী-তরঙ্গে

বাণী

নাচে নন্দ-দুলাল।
নদী-তরঙ্গে অধীর রঙ্গে — বাজে মঞ্জির চঞ্চল তাল।।
	চরণের নূপুর খুলে
	ফুল হয়ে ঝরে তরুমূলে,
পূবালী পবনে বন-ভবনে দোলে সে-ছন্দে পিয়াল তমাল।।
	মধুকর কল-গুঞ্জনে
	কাজরি গাহে নীপবনে,
ময়ূর পাপিয়া উঠিল মাতিয়া বাজে বৃষ্টির বীণা করতাল।।

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে

বাণী

বলেছিলে তুমি তীর্থে আসিবে আমার তনুর তীরে।
তুমি আসিলে না, (হায়!) আশার সূর্য ডুবিল সাগর-নীরে।।
	চলে যাই যদি, চিরদিন মনে
	তোমার সে-কথা রহিবে স্মরণে
শুধু সেই কথা শোনার লাগিয়া হয়তো আসিব ফিরে।।
শুধু সেই আশে হয়তো এ তনু মরণে হবে না লীন
পথ চেয়ে চেয়ে, তব নাম গেয়ে বাজাব বিরহ-বীণ।
	হের গো, আমার যাবার সময় হলো
	তোমার সে-কথা মিথ্যা হবে না বলো,
কোন শুভক্ষণে নিমেষের তরে জড়াবে কন্ঠ ঘিরে।।

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

বাণী

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।

তুম প্রেমকে হো ঘনশ্যাম

বাণী

তুম প্রেমকে হো ঘনশ্যাম ম্যায় প্রেম কি শ্যাম-প্যায়ারী।
প্রেমকা গান তুমহারে দান ম্যায় হুঁ প্রেম-ভিখারি।।
	হৃদয় বিচমে যমুনা তীর
	তুমহারি মুরলী বাজে ধীর,
নয়ন নীর কি বহত যমুনা প্রেম সে মাতোয়ারী।।
যুগ যুগ হোয়ে তুমহারি লীলা মেরে হৃদয় বনমে,
তুমহারে সুন্দর-মন্দির মোহন সোহত মেরে মনমে।
	প্রেম-নদী নীর নিত বহি যায়
	তুমহারে চরণ কো কবহুঁ না পায়,
রোয়ে শ্যাম-প্যায়ারী সাথ ব্রিজনারী আও মুরলীধারী।।

আয় ঘুম আয় সাপিনীর দংশনে

বাণী

আয় ঘুম আয়!
সাপিনীর দংশনে যেমন অবশ তনু —
তেমনি ঢলিয়া পড় মায়া-নিদ্রায়।।
সংসার অহিফেন বিষ পিয়ে হায়
যেমন অচেতন জীব অসাড়ে ঘুমায়,
যেমন পাতাল তলে ঘুমায় দৈত্যদলে
তেমনি ঘুমাও জড় পাষাণের প্রায়।।

নাট্যগীতি : ‘দেবী দুর্গা’