অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর

বাণী

অবিরত বাদর বরষিছে ঝরঝর
বহিছে তরলতর পূবালি পবন।
	বিজুরী-জ্বালার মালা
	পরিয়া কে মেঘবালা
কাঁদিছে আমারি মত বিষাদ-মগন।।
ভীরু এ মন-মৃগ আলয় খুঁজিয়া ফিরে,
জড়ায়ে ধরিছে লতা সভয়ে বনস্পতিরে,
গগনে মেলিয়া শাখা কাঁদে বন-উপবন।।

চলচ্চিত্রঃ ‌‘ধ্রুব’

তওফিক দাও খোদা ইসলামে

বাণী

তওফিক দাও খোদা ইসলামে মুসলিম-জাঁহা পুনঃ হোক আবাদ।
দাও সেই হারানো সালতানাত দাও সেই বাহু সেই দিল আজাদ।।
দাও সেই হামজা সেই বীর ওলীদ
দাও সেই উমর হারুন অল রশীদ
দাও সেই সালাহউদ্দীন আবার পাপ দুনিয়াতে চলুক জেহাদ।।
দাও সে রুমী সাদী হাফিজ
সেই জামী খৈয়াম সে তবরিজ
দাও সে আকবর সেই শাহজাহান দাও তাজমহলের স্বপ্ন সাধ।।
দাও ভা'য়ে ভা'য়ে সেই মিলন
সেই স্বার্থত্যাগ সেই দৃপ্ত মন,
হোক বিশ্ব-মুসলিম এক জামাত উড়ুক নিশান ফের যুক্ত চাঁদ।।

ওলো ননদিনী বল্

বাণী

ওলো ননদিনী বল্
কপট নিপট কালা, নিঠুর খল্॥
তার নাই ভয় নাই লজ্জা শরম
লইয়া যুবতীর ধরম গো
খেলে সে নিঠুর খেলা, চতুর চপল্॥
না শুনে লো তোদের গালি
মাখলাম কুলে কালার কালি গো
সে মুখে সরল বনমালী, অন্তরে গরল॥
তার শত জনে মন বাঁধা, রাতে চন্দ্রা দিনে রাধা
(তারে) কঠিন কথা শুনাইব চল্‌লো গোঠে চল্॥
কৃষ্ণ ব’লে অবিরত দে লো গালি পারিস যত
ননদী কয় বুঝেছি বউ (কৃষ্ণ) নাম শোনারই ছল
ও বউ কৃষ্ণ নাম তোর ভাল লাগে
তাই কৃষ্ণ (ও তোর) নাম শোনারই ছল॥

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম

বাণী

তুমি বেণুকা বাজাও কার নাম লয়ে শ্যাম —
মোর সাধ যায় হরি আমি যদি সেই কিশোরী হইতাম।।
	সেই প্রেম মোরে দাও গো শ্রী হরি,
	যে প্রেমে নেমে আস রূপ ধরি',
যে প্রেমে কাঁদো যমুনার তীরে তুমি লয়ে 'রাধা রাধা' নাম।।
সেই প্রেম দাও যে প্রেমে ভোল তুমি হে শ্রী ভগবান,
রাধার দুয়ারে ভিক্ষা চাহিয়া নিতি সহ অপমান।
	মোর আঁখি হয়ে উঠুক কমল,
	দাও প্রিয় মোরে সেই আঁখিজল;
দাও সে বিরহ যে বিরহে এই ধরা হয় ব্রজধাম।।

কত আর এ মন্দির দ্বার হে প্রিয় রাখিব খুলি

বাণী

	কত আর এ মন্দির দ্বার, হে প্রিয়, রাখিব খুলি'
	বয়ে যায় যে লগ্নের ক্ষণ, জীবনে ঘনায় গোধূলি।।
	নিয়ে যাও বিদায়-আরতি, হ'ল ম্লান আঁখির জ্যোতি;
	ঝরে যায় শুষ্ক স্মৃতির মালিকা-কুসুমগুলি।।
	কত চন্দন ক্ষয় হ'ল হায়, কত ধূপ পুড়িল বৃথায়;
	নিরাশায় সে পুষ্প কত ও পায়ে হইল ধূলি।।
ও	বেদী-তলে কত প্রাণ — হে পাষাণ নিলে বলিদান;
	তবু হায় দিলে না দেখা — দেবতা, রহিলে ভুলি'।।

পদ্মার ঢেউ রে

বাণী

পদ্মার ঢেউ রে —
মোর শূণ্য হৃদয়–পদ্ম নিয়ে যা, যা রে।
এই পদ্মে ছিল রে যার রাঙ্গা পা
আমি হারায়েছি তারে।।
মোর পরান–বঁধু নাই, পদ্মে তাই মধু নাই (নাই রে)
বাতাস কাঁদে বাইরে, সে সুগন্ধ নাই রে
মোর রূপের সরসীতে আনন্দ–মৌমাছি নাহি ঝঙ্কারে রে।।
ও পদ্মারে —
ঢেউয়ে তোর ঢেউ ওঠায় যেমন চাঁদের আলো
মোর বঁধুয়ার রূপ তেমনি ঝিল্‌মিল করে কৃষ্ণ–কালো।
সে প্রেমের ঘাটে ঘাটে বাঁশি বাজায়
যদি দেখিস্‌ তারে, দিস্‌ এই পদ্ম তার পায়
বলিস্‌, কেন বুকে আশার দেয়ালি জ্বালিয়ে
ফেলে গেল চির–অন্ধকারে।