মম মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে

বাণী

মম	মায়াময় স্বপনে কার বাঁশি বাজে গোপনে
	বিধূর মধুর স্বরেকে এলো,কে এলো সহসা।।
যেন	স্নিগ্ধ আনন্দিত চন্দ্রালোকে ভরিল আকাশ
	হাসিল তমসা কে এলো,কে এলো সহসা।।
	অচেনা সুরে কেন ডাকে সে মোরে
	এমন ক'রে ঘুমের ঘোরে —
	নব-নীরদ-ঘন-শ্যামল কে এ চঞ্চল
	হেরিয়া তৃষিত-প্রাণ হলোসরসা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।
	কভু সে অন্তরে কভু দিগন্তরে
	এই সোনার মৃগ ভুলাতে আসে মোরে,
	দেখেছি ধ্যানে যেন এই সে সুন্দরে
	শুনেছি ইহারি বেণু প্রাণ-বিবশা
		কে এলো,কে এলো সহসা।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে

বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।

ও মন চল অকুল পানে

বাণী

	ও মন চল অকুল পানে, মাতি হরিপ্রেম-গুণগানে।
	নদী যেমন ধায় অকূলে কূল যত তায় টানে।।
তুই	কোন্ পাহাড়ে ঠেক্‌লি এসে কোন্‌ পাথারের জল
	হরির প্রেমে গ’লে এবার সেই অসীমে চল্,
তুই	স্রোতের বেগে দুল্‌বি রে কূল-বাধা যদি হানে।।
	এ পারের সব যাত্রী যাবে তোর বুকে ওপারে
	তোর কূলে শ্যাম বাজিয়ে বাঁশি আস্‌বে অভিসারে,
	শ্যামের ছবি ধর্‌বি বুকে মাত্‌বি প্রেম-তুফানে।।

আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন

বাণী

আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন, দমকল ডাক ওলো সই।
শিগ্‌গির ফোন কর বঁধুরে, নইলে পুড়ে ভস্ম হই॥
	অনুরাগ দিশ্‌লাই নিয়ে
	চোখের লম্প জ্বালতে গিয়ে,
আমার প্রাণের খোড়ো ঘরে লাগল আগুন ওই লো ওই॥
	প্রেমের কেরোসিন যে এত
	অল্পে জ্বলে জানিনে তো,
কি দাবানল জ্বলছে বুকে জানবে না কেউ আমা বই॥
	প্রণয় প্রীতির তোষক গদি
	রক্ষে করতে চায় সে যদি
মনে ক’রে আনতে বলিস (তারে) আদর সোহাগ বালতি মই॥

আমার গহীন জলের নদী

বাণী

আমার		গহীন জলের নদী
আমি		তোমার জলে ভেসে রইলাম জনম অবধি।।
ও ভাই		তোমার বানে ভেসে গেল আমার বাঁধা ঘর
আমি		চরে এসে বস্‌লাম রে ভাই ভাসালে সে চর।
এখন		সব হারিয়ে তোমার জলে রে আমি ভাসি নিরবধি।।
		ঘর ভাঙিলে ঘর পাব ভাই ভাঙ্‌লে কেন মন
ও ভাই		হারালে আর পাওয়া না যায় মনেরি রতন।
ও ভাই		জোয়ারে মন ফেরে না আর রে ও সে ভাটিতে হারায় যদি।।
তুমি		যখন ভাঙ রে নদী (ভাঙ যখন কূল রে নদী) ভাঙ একই ধার
আর		মন যখন ভাঙ রে নদী দুই কূল ভাঙ তার
ও ভাই		চর পড়ে না মনের কূলে রে
ও সে		একবার সে ভাঙে যদি, ও ভাই একবার সে ভাঙে যদি।।