দুরন্ত বায়ু পূরবইয়াঁ বহে

বাণী

দুরন্ত বায়ু পূরবইয়াঁ বহে অধীর আনন্দে
তরঙ্গে দুলে আজি নাইয়া রণ-তুরঙ্গ-ছন্দে।।
অশান্ত অম্বর-মাঝে মৃদঙ্গ গুরুগুরু বাজে,
আতঙ্কে থরথর অঙ্গ মন অনন্তে বন্দে।।
ভূজঙ্গী দামিনীর দাহে দিগন্ত শিহরিয়া চাহে,
বিষন্ন ভয়-ভীতা যামিনী খোঁজে সেতারা চন্দে।।
মালঞ্চে এ কি ফুল-খেলা, আনন্দে ফোটে যূথী বেলা,
কুরঙ্গী নাচে শিখী-সঙ্গে মাতি’ কদম্ব-গন্ধে।।
একান্তে তরুণী তমালী অপাঙ্গে মাঝে আজি কালি,
বনান্তে বাঁধা প’ল দেয়া কেয়া-বেণীর বন্ধে।।
দিনান্তে বসি’ কবি একা পড়িস্‌ কি জলধারা-লেখা,
হিয়ায় কি কাঁদে কুহু-কেকা আজি অশান্ত দ্বন্দ্বে।।

আমার মোহাম্মদের নামের ধেয়ান

বাণী

আমার	মোহাম্মদের নামের ধেয়ান হৃদয়ে যার রয়
		ওগো হৃদয়ে যার রয়।
	খোদার সাথে হয়েছে তার গোপন পরিচয়।।
ঐ	নামে যে ডুবে আছে
	নাই দুখ-শোক তাহার কাছে
ঐ	নামের প্রেমে দুনিয়াকে সে দেখে প্রেমময়।।
	যে খোশ-নসীব গিয়াছে ঐ নামের স্রোতে ভেসে'
	জেনেছে সে কোরআন-হাদিস-ফেকা এক নিমেষে।
		মোর নবীজীর বর-মালা,
		করেছে যার হৃদয় আলা
	বেহেশতের সে আশ রাখে না, তার নাই দোজখে ভয়।।

আমি রবি-ফুলের ভ্রমর

বাণী

আমি	রবি-ফুলের ভ্রমর।
তা’র	আলোক-মধু প্রিয়ে আমি আলোর মধুপ অমর।।
ঐ	শ্বেত-শতদল ফুটলো যেদিন গভীর গগন নীল সায়রে
তা’র	আলোর শিখা আকাশ ছেপে ছড়িয়ে গেল বিশ্ব ‘পরে — স্তরে স্তরে,
সেই	বহ্নি-নলের পরাগ-রেণু
	আমিই যেন প্রথম পেনু, প্রথম পেনু গো
তাই	বাহির পানে ধেয়ে এনু গেয়ে আকুল স্বরে।
আজ	জাগো জগৎ! ঘুম টুটেছে বিশ্বে নিবিড় তমোর।।
তাঁ’র	জাগরণীর অরুণ কিরণ — গন্ধ যেদিন নিশি-শেষে
এই	অন্ধ জগৎ জাগিয়ে গেল আকাশ-পথের হাওয়ায় ভেসে — হঠাৎ এসে;
আমি	ঘুম-চোখে মোর পেনু আভাস,
	ঘরের বাহির করা সে-বাস ভাঙলে আবাস মোর।।
তাই	কূজন-বেণু বাজায়ে চলি আলোর দেশের শেষে
যথা	সহস্রদল কমল, আনন জাগ্‌ছে প্রিয়তমর।।
যেন	এ শ্বেত-সরোজ-সরোদ বাঁধা সপ্ত সুরের রঙিন তারে
	রচ্‌ছে সুরের ইন্দ্রধনু গগন-সীমায় তোরণ-দ্বারে তমোর ‘পারে,
তার	সে-সুর বাজি’ আমার পাখায় গহন-গহন শাখায় শাখায়
	তারায় কাঁপায় গো।
জাগে	ঐ কমলে পরশ প্রিয়ার চরণ নিরুপমর।।

না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়

বাণী

		না মিটিতে সাধ মোর নিশি পোহায়।
		গভীর আঁধার ছেয়ে আজো হিয়ায়।।
			আমার নয়ন ভ’রে
			এখনো শিশির ঝরে,
		এখনো বাহুর ’পরে বঁধূ ঘুমায়।।
			এখনো কবরী-মূলে
			কুসুম পড়েনি ঢুলে,
		এখনো পড়েনি খুলে’ মালা খোঁপায়।।
			নিভায়ে আমার বাতি
			পোহাল সবার রাতি,
(আমি) 	নিশি জেগে’ মালা গাঁথি, প্রাতে শুকায়।।

মরুর ফুল ঝরিল অবেলাতে

বাণী

মরুর ফুল ঝরিল অবেলাতে
ফোরাত নদী কাঁদে বেদনাতে।
সাকিনা কাঁদে প’ড়ে ধূলায়
হাতের মেহদী মুছিয়া হায়,
কেয়ামত এলো যেন কারবালাতে।।
খুনের বাদল ঝরিছে আসমানে
হুরপরী কাঁদে থির নাহি মানে।
কাঁদিছে আলি ফাতেমা কাঁদে
ঘেরিল মেঘে সূরয চাঁদে
ঝরিছে আঁসু রসুলের আঁখি-পাতে।।

ফিরে গেছে সই এসে

বাণী

ফিরে গেছে সই এসে (নন্দকুমার)
অভিমানে ডাকিনি হেসে (নন্দকুমার)।।
	হানিয়া অবহেলা
	একি হ’ল জ্বালা,
ডাকি আমি তাহারেই নয়ন-জলে ভেসে (নন্দকুমার)।।