তোমারি মহিমা গাই বিশ্বপালক করতার

বাণী

তোমারি মহিমা গাই বিশ্বপালক করতার
করুণা কৃপার তব নাহি সীমা নাহি পার॥
রোজ-হাশরের বিচার-দিনে তুমিই মালিক এয়্ খোদা,
আরাধনা করি প্রভু, আমরা কেবলি তোমার॥
সহায় যাচি তোমারি নাথ, দেখাও মোদের সরল পথ,
সেই পথেতে চালাও খোদা বিলাও যাদের পুরস্কার।
অবিশ্বাসী ধর্মহারা যাহারা সে ভ্রান্ত-পথ,
চালায়ো না তাদের পথে, এই চাহি পরওয়ারদিগার॥

বৈতালিক

মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥

নূরজাহান! নূরজাহান!

বাণী

নূরজাহান, নূরজাহান!
সিন্ধু নদীতে ভেসে,
এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান।।
নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর–লতা
শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ –
চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক–লাজ।
যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
দেবে চিরদিন নন্দন–লোক–চারী
তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘পঞ্চাঙ্গনা’

হে নট-ভৈরবী আশাবরি

বাণী

হে নট-ভৈরবী আশাবরি।
ওঠো গো অরুণ গান বিসরি’।।
চেয়ে আছ জলভরা নয়নে,
তীব্র নিদাঘ তাপ কোমল করি’।।
পঞ্চমে কোয়েলিয়া ক’য়ে যায়
প্রথম প্রহর দিবা ব’য়ে যায়,
গুরু গঞ্জনা দিতে আসে ঐ —
মুখ ভার করি’ তব ননদিনী তোড়ি।।

রবে না এ বৈকালি ঝড় সন্ধ্যায়

বাণী

রবে না এ বৈকালি ঝড় সন্ধ্যায়।
বহিবে ঝিরিঝিরি চৈতালি বায়॥
দুপুরে যে ধরেছিল দীপক তান
বেলাশেষে গাহিবে সে মুলতানে গান,
কাঁদিবে সে পূরবীত গোধূলি-বেলায়॥
নৌবতে বাজিবে গো ভীম-পলাশী,
উদাস পিলুর সুরে ঝুরিবে বাঁশি,
বাজিবে নূপুর হয়ে তটিনী ও-পায়॥

হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
	সন্তান তব বিপথগামী,
	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।